For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

করোনা ভাইরাস কী? জেনে নিন এর কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

|

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এর মূল কারণ হল, করোনা ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মানব করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২০০০ জনের কাছাকাছি, এর মধ্যে বেশিরভাগই চীনের মানুষ। চীনেই সর্বপ্রথম এই ভাইরাসের খবর পাওয়া যায়। আস্তে আস্তে এটি গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। থাইল্যান্ড, জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো অন্যান্য দেশ থেকেও এই ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা জানা গেছে। তাই, বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে এই মারণ ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কীভাবে এই ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তিদের চিকিৎসা করা হবে, তা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(WHO) প্রচার করছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস, ২০০৩ সালে ৮০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু ও হাজার হাজার মানুষের আক্রান্ত হওয়ার কারণ 'সার্স' (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম) ভাইরাসের পরিবার থেকেই এসেছে এই নতুন ধরনের করোনা ভাইরাস। তাঁরা আরও জানিয়েছেন যে, এই ভাইরাসটি চিনের বাজারে পাওয়া প্রাণীজ পণ্য বা সামুদ্রিক খাবার থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক, করোনা ভাইরাস কী এবং কীভাবে এটি ছড়িয়ে পড়ে।

করোনা ভাইরাস কী ?

করোনা ভাইরাস কী ?

করোনা ভাইরাস বলতে এক গোত্রের অনেকগুলি ভাইরাসকে বোঝায়, যা মূলত প্রাণীদের মধ্যে পাওয়া যায়। বার্ড ফ্লু তথা সার্স ভাইরাসও এই গোত্রের। হিউম্যান করোনা ভাইরাস এক ধরনের জুনোটিক রোগ এবং এই সংক্রমণটি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাসটির অনেক রকম প্রজাতি আছে। কিন্তু, এখনও অবধি বিজ্ঞানীরা প্রায় ছয়টি করোনা ভাইরাস সনাক্ত করেছেন, যা মানুষকে প্রভাবিত করে এবং হালকা থেকে মারাত্মক লক্ষণ সৃষ্টি করে।

হিউম্যান করোনা ভাইরাসের প্রথম খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল ১৯৬০ সালে একজন রোগীর মধ্যে, যিনি সর্দিতে ভুগছিলেন। করোনা ভাইরাস নামটি এসেছে এর আকৃতির ওপর ভিত্তি করে। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে এই ভাইরাসটি ক্রাউন বা মুকুটের মতো দেখতে হওয়ায় এর নাম হয়েছে 'করোনা'।

আরশোলার দুধ! খেলেই পাবেন তিনগুণ পুষ্টি

মানুষ প্রায়ই তাদের জীবনের কোনও না কোনও সময়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, সুস্থ হয়ে ওঠে এবং কয়েক মাস পরে আবার সংক্রমিত হতে পারে। মানুষের দেহে ছয় ধরনের করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে, যথা - আলফা করোনা ভাইরাস(NL63 এবং 229E), বিটা করোনা ভাইরাস (HKU1 এবং OC43) এবং বাকি দুটি সার্স ও মার্স তাদের প্রাণঘাতী লক্ষণগুলির জন্য পরিচিত।

হিউম্যান করোনা ভাইরাস ছড়ানোর কারণ

হিউম্যান করোনা ভাইরাস ছড়ানোর কারণ

হিউম্যান করোনা ভাইরাস সাধারণত একজন ব্যক্তির শ্বাসনালীকে প্রভাবিত করে। শ্বাসনালীতে সংক্রমিত তরল কাশি বা হাঁচির সময় এক ব্যক্তির থেকে আরেক ব্যক্তির মধ্যে চলে যায়। এছাড়াও, যদি সংক্রামিত ব্যক্তি মুখ না ঢেকে খোলা বাতাসে হাঁচি বা কাশি দেয়, তাহলে ভাইরাসটি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অন্যান্য কারণ হল, সংক্রামিত ব্যক্তির সঙ্গে হ্যান্ডশেক, সংক্রামিত কোনও বস্তুর সাথে নাক বা মুখ একসঙ্গে স্পর্শ করা এবং বিরল ক্ষেত্রে, রোগীর মলমূত্র স্পর্শ করা।

হিউম্যান করোনা ভাইরাসের লক্ষণ

হিউম্যান করোনা ভাইরাসের লক্ষণ

NL63 এবং 229E, HKU1 এবং OC43-এর কারণে ফ্লু-এর মতো লক্ষণ দেখা দেয় যা, হালকা থেকে মাঝারি আকার ধারণ করে। অন্যদিকে, মার্স এবং সার্স মারাত্মক লক্ষণ সৃষ্টি করে। এর পূর্ববর্তী লক্ষণগুলি হল -

ক) সর্দি

খ) গলা ব্যথা

গ) কাশি

ঘ) মাথা ব্যাথা

ঙ) জ্বর

চ) হাঁচি

ছ) অবসাদ

জ) শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া

আপনি কি ভুলে যাচ্ছেন? কীভাবে মস্তিষ্কের শক্তি বৃদ্ধি করবেন রইল তার কিছু টিপস্

এক্ষেত্রে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায় এবং যারা বয়স্ক তাদের এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং নিউমোনিয়া বা শ্বাস নালীর ব্যাধির মতো মারাত্মক অসুস্থতায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। মার্স এবং সার্স-এর লক্ষণগুলি মারাত্মক হয়, এর কারণে গুরুতর শ্বাসকষ্টের সমস্যা, কিডনিতে সমস্যা, ডায়রিয়া এবং কোনও ব্যক্তির মৃত্যুও হতে পারে বলে জানা গেছে।

হিউম্যান করোনা ভাইরাস নির্ণয়

হিউম্যান করোনা ভাইরাস নির্ণয়

হিউম্যান করোনা ভাইরাস নির্দিষ্ট কয়েকটি পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়, যথা -

মলিকিউলার টেস্ট : সক্রিয় সংক্রমণের লক্ষণগুলি খুঁজে বের করতে।

সেরোলজি টেস্ট : এই পরীক্ষাটি নজরদারি করার উদ্দেশ্যে। এটি পূর্ববর্তী সংক্রমণ থেকে অ্যান্টিবডিগুলি সনাক্ত করার জন্য করা হয়, যা একজন ব্যক্তির ভাইরাসের ধরন প্রকাশিত করে।

হিউম্যান করোনা ভাইরাস চিকিৎসা

হিউম্যান করোনা ভাইরাস চিকিৎসা

এর সঠিক চিকিৎসা এখনও আবিষ্কার করা হয়নি। বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিন নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। তবে, অনেকগুলি সহায়ক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং ওষুধ রয়েছে যেগুলি এর হালকা থেকে মাঝারি উপসর্গগুলির চিকিৎসা করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ব্যথা এবং জ্বরের চিকিৎসার জন্য ওষুধ বা গলা ব্যথা নিরাময়ের জন্য গরম জল, ইত্যাদি।

হিউম্যান করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ

হিউম্যান করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ

ক) হাঁচি বা কাশির পরে হাত ধুয়ে নিন।

খ) কাশি বা হাঁচির আগে মুখ ঢেকে নিন।

গ) আপনার যদি মনে হয় যে আপনি সংক্রামিত, তাহলে কোনও ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলুন।

ঘ) রান্না না করা মাংস এবং ডিম খাওয়া এড়ান।

ঙ) নিজেকে সারাক্ষণ হাইড্রেট রাখুন।

চ) লক্ষণগুলি দেখা দেওয়া মাত্রই ওষুধ খান এবং পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে দেবেন না।

ছ) ধোঁয়াটে এলাকা বা ধূমপান করা এড়িয়ে চলুন।

ভ্যারিকোস ভেইন : কারণ, লক্ষণ, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা

জ) যথাযথ বিশ্রাম নিন।

ঝ) ভিড় থেকে দূরে থাকুন।

English summary

Human Coronavirus : Causes, Symptoms, Treatment and Prevention

Coronavirus is a term used for a group of viruses which are mainly found in animals. Let's know in detail what a coronavirus is and how it spreads.
Story first published: Monday, January 27, 2020, 15:35 [IST]
We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more
X