তারুণ্যের চাবি লুকিয়ে কোলাজেনের মধ্যেই! কী খেলে শরীরে এর মজুত বাড়বে

হাড়, পেশী, ত্বক, নখ - সব ঠিক রাখতেই কোলাজেন নামক প্রোটিনের ভূমিকা অনেক। ত্বকের জেল্লা বাড়ানো থেকে হাড় মজবুত করা সবেতেই প্রয়োজন হয় এই প্রোটিনের। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কোলাজেনের ঘাটতি শুরু হয়। তাছাড়া ঠিকমতো না খেলে অথবা অস্বাস্থ্যকর খাবার বেশি খেলে এই প্রোটিন উৎপাদনের হার আরও কমে যায়। ফলে অকালেই চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ে, চামড়া ঝুলে যায়, বলিরেখা পড়ে, ত্বকের জেল্লা হারায়।

শরীরে কোলাজেনের ঘাটতিতে হাড়, পেশী ও অন্ত্রের উপরও মারাত্মক প্রভাব পড়ে। জয়েন্টে ব্যথা ও বাত দেখা দেয়, পেশী দুর্বল হয়ে পড়ে, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যাও হয়। তাই দেহে কোলাজেনের ভারসাম্য বজায় রাখার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

collagen rich foods

খাদ্যাভাসে বদল এনেই শরীরে কোলাজেনের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। কিছু কিছু খাবার প্রাকৃতিক কোলাজেনের উৎস। আবার কিছু খাবারে এমন পোষক পদার্থ থাকে যা কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে। তাহলে জেনে নিন, কোলাজেন উৎপাদনে নিয়মিত কোন কোন খাবার খাওয়া উচিত।

কোলাজেন কী?
কোলাজেন আসলে এক ধরনের প্রোটিন। যা আমাদের শরীরের বাঁধুনি হিসেবে কাজ করে। পেশী, হাড়, দাঁত, ত্বক, টেন্ডন, লিগামেন্ট, অঙ্গ, রক্তনালী, অন্ত্রের আস্তরণ এবং অন্যান্য সংযোগকারী সমস্ত টিস্যুতেই রয়েছে কোলাজেন। এই প্রোটিন সারা শরীরকে সচল ও কর্মক্ষম রাখে। ত্বক ও নখের স্বাস্থ্য ভাল রাখে, সার্বিকভাবে সুস্থ ও সুন্দর রাখে।

টেংরির ঝোল
মুরগি বা খাসির মাংস থেকেই মিলবে পর্যাপ্ত কোলাজেন। বিশেষ করে, মাংসের হাড় থেকে কোলাজেন মেলে আমাদের শরীরে। মুরগি বা পাঁঠার মাংসে হাড়ের ভেতর যে মজ্জা থাকে, তাতে কোলাজেন মজুত থাকে। তাই টেংরির ঝোল বা স্যুপ কোলাজেনের দারুণ উৎস। শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিন জোগান দেয় এই খাবার। তাই শরীরে কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে খেতেই পারেন টেংরির ঝোল।

সাইট্রাস ফল
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সবজি ও ফল কোলাজেন উৎপাদনে বেশ উপকারী। তাই প্রচুর পরিমাণে সাইট্রাস ফল যেমন কমলালেবু, পাতিলেবু এবং মুসাম্বি খান। পেঁপে, টমেটো, লাল ও হলুদ বেলপেপার ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় রাখতেই হবে। এগুলি ভিটামিন সি-এর দুর্দান্ত উৎস।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাত, অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে। যে কারণে গাঁটে গাঁটে যন্ত্রনা বা জয়েন্ট পেন হয়। কোলাজেন আমাদের শরীরে কার্টিলেজের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। যা হাড় সুস্থ ও মজবুত রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মাছ
মাছ কোলাজেনের একটি চমৎকার উৎস। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ থেকে সবচেয়ে বেশি কোলাজেন পাওয়া যায়। ফিশ-কোলাজেন শরীরে আরও দ্রুত এবং সহজেই শোষিত হয়।

হার্ট সুস্থ রাখার জন্য শরীরে পর্যাপ্ত কোলাজেন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাছাড়া, কোলাজেন অন্ত্র সুস্থ রাখে এবং ভাল হজমে সহায়তা করে।

সবুজ শাকসবজি
পালং শাক, কালে এবং অন্যান্য সবুজ শাকসবজিতে ক্লোরোফিল থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, সবুজ শাকসবজিতে থাকা ক্লোরোফিল ত্বকে কোলাজেন বাড়ায়। কোলাজেন ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা এবং আর্দ্রতা বাড়াতে সাহায্য করে।

অ্যামিনো অ্যাসিড
অ্যামিনো অ্যাসিড শরীরে কোলাজেন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাছ, মাংস, ডিম, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, টফু, কটেজ চিজ, দুধ ইত্যদি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেলে শরীরে অ্যামিনো অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ে। ফলে কোলাজেন উৎপাদনের হারও বেড়ে যায়।

জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার খান
শরীরে কোলাজেন উৎপাদনে জিঙ্কেরও প্রয়োজন রয়েছে। এটি কোলাজেন প্রোটিন ধ্বংস হতে বাঁধা দেয়। রোজকার খাদ্যতালিকায় কুমড়োর বীজ, টফু, ওটস, কাজুবাদাম, ঝিনুক বা গুগলি রাখতে পারেন। এগুলিতে ভরপুর মাত্রায় জিঙ্ক থাকে।

X
Desktop Bottom Promotion