শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ায় না, স্বাস্থ্যেরও খেয়াল রাখে হিং! জেনে নিন এর উপকারিতা

Health Benefits Of Asafoetida: রান্নার স্বাদ-গন্ধ বাড়াতে হিংয়ের জুড়ি মেলা ভার। কচুরি হোক বা আলুর দম, এক চিমটি হিং পড়লেই তার স্বাদ বেড়ে যায় তিনগুণ। মশলা হিসেবে হিংয়ের জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তবে শুধু খাবারেরই স্বাদ বাড়ায় না, পাশাপাশি শরীরের নানা সমস্যায়ও হিং দারুণ উপকারী। স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর হিং।

হিং এর স্বাস্থ্য উপকারিতা (Health Benefits Of Asafoetida)

ফাইবার, ক্যালশিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, কার্বোহাইড্রেটে সমৃদ্ধ হিং আদতে সুস্বাস্থ্যের দাওয়াই। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন কোন শারীরিক সমস্যা দূর করতে পারে হিং।

Health Benefits Of Asafoetida

হজমে সাহায্য করে

বদহজম, পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটে ব্যথা, বমি, অ্যাসিডিটি এবং পেটে আরও অনেক সমস্যা নিমেষেই সমাধান করে দিতে পারে ফাইবার সমৃদ্ধ হিং। হজম ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পেট থেকে গ্যাস বের করতেও সাহায্য করে। এ ছাড়া, হিং পিত্তরসের ক্ষরণ স্বাভাবিক রাখতেও সহায়তা করে বলে মনে করেন অনেকে। ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম নিরাময়েও হিং সহায়তা করে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় উপকারী

গবেষণা অনুসারে, হিং-এ অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে ব্রঙ্কাইটিস এবং হাঁপানির মতো শ্বাসযন্ত্রের নানা সমস্যা দূর করে। শ্বাসতন্ত্রকে রোগজীবাণু থেকে পরিষ্কার রাখে। পাশাপাশি সর্দি ও কাশির চিকিৎসায়ও কার্যকর।

ঋতুস্রাবের ব্যথা কমায়

পিরিয়ডের সময়ে অনেকেই পেশির টান, পেটে যন্ত্রণা ও অনিয়মিত রক্তক্ষরণের মতো সমস্যায় ভোগেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সব সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে হিং। হিং পিরিয়ডের সময় রক্ত জমাট বাঁধা কমায় এবং রক্ত প্রবাহ সহজ করে তোলে। এর পাশাপাশি, হিং প্রোজেস্টেরনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে, যার ফলে মাসিক চক্র নিয়মিত হয়।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে

হিং পটাশিয়ামের ভাল উৎস। পটাশিয়াম আমাদের শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখে। ফলে রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ ছাড়াও, হিং ধমনী সংকুচিত হতে দেয় না। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। যে কারণে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমে এবং হৃৎপিণ্ড সুস্থ থাকে। রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও হিং বেশ উপকারী।

হাড় মজবুত রাখে

হাড় ও দাঁত সুস্থ রাখতে ক্যালসিয়াম খুবই প্রয়োজনীয়। হিং-এ পরিমিত পরিমাণ ক্যালসিয়াম রয়েছে। যা দাঁত ও হাড় মজবুত করে, পাশাপাশি অস্টিওপোরোসিস, অস্টিওম্যালাসিয়া এবং অস্টিওপেনিয়ার মতো রোগ-ব্যাধিও দূরে রাখে।

মাথাব্যথা কমায়

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ হিং মাথার রক্তনালী শিথিল করে। তাছাড়া, হিং অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা স্ট্রেসের কারণে হওয়া মাথাব্যথা এবং দীর্ঘস্থায়ী মাইগ্রেন থেকে স্বস্তি দেয়।

এক গ্লাস উষ্ণ জলে এক চিমটি হিং মিশিয়ে পান করুন। এতে মাথাব্যথা থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলতে পারে।

Disclaimer: এই আর্টিকেলে উল্লিখিত সমস্ত তথ্য পরামর্শস্বরূপ। কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ অথবা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন ও সেইমতো নিয়ম মেনে চলুন।

X
Desktop Bottom Promotion