ফল তো খান, কিন্তু সঠিক নিয়ম মানেন তো? নইলে মারাত্মক বিপদ হতে পারে!

পুষ্টি উপাদানে ভরপুর ফল। পেট ভরানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যেরও যত্ন নেয়। চিকিৎসকরা বলেন, সুস্থ-সবল ভাবে বাঁচতে গেলে রোজকার ডায়েটে বিভিন্ন ধরনের ফলমূল রাখা উচিত। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে, ত্বক ভালো থাকবে, আবার বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকেও মুক্তি মিলবে।

তবে ফলের সম্পূর্ণ উপকার পেতে গেলে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। না হলে নিয়মিত যতই ফলমূল খান না কেন, শরীরে কোনও কাজে আসবে না! জেনে নিন, ফল খাওয়ার সময় কোন কোন বিষয় মাথায় রাখবেন।

Common Mistakes Should Avoid While Eating Fruits

ফলের সঙ্গে অন্য খাবার খাওয়া
অন্যান্য খাবারের চেয়ে ফল অনেক সহজে এবং তাড়াতাড়ি হজম হয়। ফলের সঙ্গে কিছু অন্য খাবার খেলে শরীরে টক্সিন তৈরি হতে শুরু করে। ফলে হজমের সমস্যা হয়। কারণ আমাদের শরীর প্রথমে ভারী খাবার হজম করে এবং এই প্রক্রিয়ায় ফলগুলি দীর্ঘ সময় শরীরে থাকে। শরীর তাদের পুষ্টি শোষণ করতে অক্ষম হয়। এর ফলে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ফল আলাদা করে খাওয়াই ভালো।

রাতে ফল খাওয়া
ঘুমানোর ২-৩ ঘণ্টা আগে কোনও কিছু না খাওয়াই ভালো। কারণ এতে হজম প্রক্রিয়ায় বাধা পড়ে। ফলের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। সূর্যাস্তের পরে বা ঘুমানোর ঠিক আগে ফল খেলে আপনার ঘুম এবং হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। কারণ ফল প্রচুর পরিমাণে চিনি নিঃসরণ করে, যা রাতে ঘুমানোর সময় শরীরে এনার্জির মাত্রা বাড়ায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

তাছাড়া, ফলগুলিতে কার্বোহাইড্রেট থাকে। রাতের বেলা আমাদের বিপাক ক্রিয়া কমে যায় এবং কার্বোহাইড্রেট হজম করা কঠিন হয়ে পড়ে। গভীর রাতে ফল খেলে অ্যাসিডিটির সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

ফল খাওয়ার পর জল পান
অনেকেরই ফল খাওয়ার পরে জল পানের অভ্যাস আছে। কিন্তু এটা অত্যন্ত ক্ষতিকর। ফল খাওয়ার পর জল পান করলে পাচনতন্ত্রের পিএইচ মাত্রা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে যে সব ফলে জলের পরিমাণ বেশি, সেগুলি খাওয়ার ঠিক পরেই জল খাওয়া উচিত নয়।

তরমুজ, ফুটি, আনারস, বাতাবি লেবু, খরমুজ, শসা, কমলালেবু এবং স্ট্রবেরির মতো উচ্চ জলযুক্ত ফল খাওয়ার পরে কখনই জল পান করা উচিত নয়। এতে ডায়রিয়া বা কলেরার মতো রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

আসলে, আমাদের শরীরে হজমের জন্য নির্দিষ্ট পিএইচ মাত্রার প্রয়োজন হয়। যে সব ফলে এমনিতেই জল রয়েছে, তার সঙ্গে যদি আবার জল খাওয়া হয়, তা হলে পিএইচ মাত্রা কমে যায়। ফলে হজমে ব্যাঘাত ঘটে।

ফলের খোসা ছাড়ানো
ফলের খোসায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। উদাহরণস্বরূপ, আপেলের খোসায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ভিটামিন সি এবং এ রয়েছে। খোসা সমেত ফল খেলে স্থূলতা এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমতে পারে।

ফলে নুন মিশিয়ে খাওয়া
ফলে লবণ বা চাট মশলা ছড়ালে এর স্বাদ বাড়ে ঠিকই, কিন্তু এটা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ফলে নুন মেশানো হলে তা থেকে জল বেরোয়। যার ফলে পুষ্টিগুণও নষ্ট হয়। এ ছাড়াও, লবণ এবং চাট মশলায় থাকা সোডিয়াম কিডনির জন্য একেবারেই ভালো নয় এবং আমাদের শরীরে জলও ধরে রাখে। তাই লবণ বা চাট মশলা ছাড়াই ফল খান।

ফল কাটার পর জলে ধোওয়া
ফল হোক বা সব্জি, কেটে ফেলার পর সেগুলি জলে ধুলে তার পুষ্টিগুণ সব বেরিয়ে যায়। তাই খোসা ছাড়ানোর আগে ভালো করে ধুয়ে নিন। সব্জি বা ফল কাটার পর না ধুলেই ভালো।

X
Desktop Bottom Promotion