আপনার বাচ্চা মানসিক অবসাদের শিকার নয় তো? বুঝবেন কীভাবে?

মানসিক চাপ, স্ট্রেস, অবসাদ, কষ্ট, একাকীত্ব, এসব শুধু বড়দেরই নয়, বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। আমরা বেশিরভাগ সময়ই বাচ্চা বলে সবকিছু এড়িয়ে যাই। কিন্তু বাচ্চারাও প্রাপ্তবয়স্কদের মতোই একই মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগতে পারে এবং এর বিভিন্ন লক্ষণও তাদের মধ্যে দেখা যায়। তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ১২ শতাংশ শিশু বা বাচ্চা আচরণগত সমস্যা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছে।

Signs that show your child may be suffering from mental health issues

উদ্বেগজনিত ব্যাধি, হতাশা এবং অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার (ADHD) কিছু সাধারণ সমস্যা এবং এগুলি সময়মতো সমাধান না করা হলে আজীবন এর প্রভাব থাকতে পারে। এখানে বাচ্চাদের মধ্যে কয়েকটি মানসিক ব্যাধির লক্ষণ সম্পর্কে বলা হল, যেগুলি আপনার অবশ্যই জানা উচিত।

চুপচাপ হয়ে যাওয়া

চুপচাপ হয়ে যাওয়া

আপনার বাচ্চা যদি বরাবরই খুব দুরন্ত হয় এবং খেলাধূলা, হই হুল্লোড় করতে পছন্দ করে, কিন্তু বেশ কয়েকদিন ধরেই আপনি তাকে খুব চুপচাপ দেখছেন, তবে এটি হালকা ভাবে নেবেন না। কেন সে চুপচাপ হয়ে গেছে এবং সমস্যা কী, সেটা জানতে চেষ্টা করুন।

অতিরিক্ত ভয় বা কান্নাকাটি

অতিরিক্ত ভয় বা কান্নাকাটি

অতিরিক্ত ভয় বা দুঃস্বপ্ন বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন - ভয় বা উদ্বেগ, রাগ, দুঃখ, ইত্যাদি। যেসব শিশুরা ট্রম্যাটিক ঘটনাগুলি অনুভব করেছে তারা ঘন ঘন দুঃস্বপ্ন দেখতে পারে, যার ফলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা হতে পারে, এমনকি বড় হওয়ার পরেও তাদের সেই ঘটনাগুলি বিরক্ত করতে পারে। তাই শৈশবেই এই বিষয়গুলি সমাধান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খিদে কমে যাওয়া

খিদে কমে যাওয়া

ওজন কমা বা খিদে কমে যাওয়া ডিপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে। ডিপ্রেশন প্রতিদিনের ক্রিয়াকলাপে হস্তক্ষেপ করতে পারে। হতাশা এবং ক্ষুধা মস্তিষ্কের একই অংশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই এর ফলে খিদে না পাওয়া এবং ওজন হ্রাস হতে পারে। তবে সঠিক সময়ে এর চিকিৎসা করলে এইসব সমস্যা কেটে যেতে পারে।

মাথা ব্যথা ও পেটে ব্যথার মতো শারীরিক সমস্যা নিয়ে ঘন ঘন বলতে থাকা

মাথা ব্যথা ও পেটে ব্যথার মতো শারীরিক সমস্যা নিয়ে ঘন ঘন বলতে থাকা

পেশীতে টান, মাথাব্যথা, অনিদ্রা এবং অস্থিরতার মতো শারীরিক লক্ষণগুলিও মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। উদ্বেগের ফলে পেট ব্যথা, মাথা ভারি, একাগ্রতার অভাবও হতে পারে। সুতরাং, যদি আপনার বাচ্চা এই সমস্যাগুলি সম্পর্কে প্রায়শই বলতে থাকে তবে এর কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন।

পড়াশুনায় মন না বসা

পড়াশুনায় মন না বসা

যদি আপনার বাচ্চা বরাবরই পড়াশুনায় খুব ভাল হয়, কিন্তু বেশ কয়েকদিন ধরে তার পড়াশুনায় মন বসছে না বা পরীক্ষায় খারাপ নম্বর পাচ্ছে, তাহলে এটিকে হালকাভাবে নেবেন না। ক্লাসে মনোযোগ না দেওয়া, অন্যান্য অ্যাক্টিভিটি-তে অংশ না নেওয়া, ক্লাস না করা, স্ট্রেস বা ডিপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে। আপনার শিশুর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলুন এবং কী সমস্যা হচ্ছে তা জানার চেষ্টা করুন। সমস্যার সমাধান করা আপনার সন্তানের পক্ষে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

অবাধ্যতা বা আগ্রাসন

অবাধ্যতা বা আগ্রাসন

বাচ্চাদের মধ্যে অবাধ্যতা বা আগ্রাসন মাঝে মাঝেই দেখা যায়। হয়তো আপনি তাদের কিছু করতে বলছেন বা বারণ করছেন, কিন্তু তারা কথা শুনছে না। তবে যদি এই সমস্যা নিয়মিত হতে থাকে এবং আপনি যদি তাদের আচরণে সিরিয়াস কোনও পরিবর্তন দেখতে পান তবে জানবেন, তা স্বাভাবিক নয়। এর মূল কারণটি খোঁজার চেষ্টা করুন, অন্যথায় চিকিৎসকের সহায়তা নিন। আপনার বাচ্চা পরিবারের যার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি থাকে, কথা বলে আপনি তার সঙ্গেও এ ব্যাপারে কথা বলতে পারেন।

X
Desktop Bottom Promotion