কিডনির পাথর থেকে বাঁচতে যোগাসনই ওষুধ? জানুন

By Bhagysree Sarkar

কিডনিতে পাথর হওয়ার সমস্যা বর্তমানে বেশ পরিচিত। এর কারণ, যখন পাথর গঠনকারী পদার্থ প্রস্রাবে নির্গত হয়। অর্থাৎ প্রস্রাবের সংমিশ্রণে পরিবর্তন বা প্রস্রাবের পরিমাণ হ্রাস কিডনিতে পাথর গঠনে সহায়তা করে। এই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টিকারী কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে। যেমন- কম তরল গ্রহণ, কঠোর ব্যায়ামের ফলে ডিহাইড্রেশন, মূত্রনালীতে সংক্রমণ বা কিছু খাদ্যাভ্যাস (উচ্চ প্রোটিন, অত্যধিক লবণ বা চিনি, ভিটামিন ডি, পালং শাকের মতো অক্সালেটযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া)-এর কারণেও হয়ে থাকে।

এটি একটি বেদনাদায়ক সমস্যা। যা প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হওয়ার সময় তীব্র ব্যথা সৃষ্টি করে। তবে এমন কিছু যোগাসন রয়েছে যা কিডনির পাথর অপসারণে এবং কিডনির স্বাস্থ্যের উন্নতিতে করতে সক্ষম। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষ্যে জেনে নিন এই বিষয়ে। এই আসনগুলি নিয়মিত করলে কিডনির পেশী শক্তিশালী হবে, প্রস্রাবের প্রবাহ বাড়িয়ে দেবে এবং পাথর ভাঙতে সাহায্য করবে।

ছবি সৌজন্য- pexels


ভুজঙ্গাসন-
উপুড় হয়ে শুয়ে হাতের তালু দুটি বুকের উভয় পাশে মাটিতে এমন ভাবে রাখুন যে আঙুলের ডগাগুলি কাঁধের বরাবর থাকে। মনে রাখবেন, এতে হাতের কনুই গায়ের সঙ্গে লেগে থাকবে। পা দুটি জোড়া ও পায়ের পাতা পেতে থাকতে হবে। এবার কোমরের উপর জোর দিয়ে নাভি থেকে শরীরের উপরের অংশ মাটি থেকে তুলুন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এই অবস্থায় মনে মনে দশ থেকে ক্রমশ বাড়িয়ে তিরিশ গোনার পর উপুড় হয়ে শবাসনে বিশ্রাম নিন। এভাবে তিনবার করুন।

ধনুরাসন-
উপুড় হয়ে শুয়ে পা উভয় হাঁটুর কাছ থেকে ভাঁজ করে গোড়ালি দুটি জোড়া ভাবে নিতম্বের কাছে আনুন। এবার উভয় হাত দিয়ে পায়ের গোছা দুটো বেশ শক্ত করে ধরে বুক এবং ঊরু মাটি থেকে ওপরের দিকে টেনে তুলুন। তলপেট মাটিতে ঠেকে থাকবে। দৃষ্টি সামনে ও ঘাড় পিছন দিকে হেলে থাকবে। স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাসে মনে মনে দশ থেকে ক্রমশ বাড়িয়ে তিরিশ গুনে তিন বার অভ্যাস করুন। প্রতি বারের পর উপুড় হয়ে শুয়ে শবাসনে বিশ্রাম নিন।

উষ্ট্রাসন-
প্রথমে হাঁটু গেড়ে বসুন। পিছন দিকে হেলে উভয় হাত দিয়ে পায়ের গোড়ালি ধরে মাথা পিছনের দিকে ঝুলিয়ে দিয়ে। এবার আস্তে আস্তে পেট সামনের দিকে এগিয়ে দিন। ডান হাতের বুড়ো আঙুল ডান গোড়ালির ভিতর দিকে ও অন্য আঙুলগুলি বাইরের দিকে থাকবে। বাঁ হাত বাঁ গোড়ালির ওপর অনুরূপ ভাবে থাকবে। পায়ের পাতা মাটিতে পাতা থাকবে। স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাসে মনে মনে দশ থেকে ক্রমশ বাড়িয়ে তিরিশ গোনার পর শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে। এভাবে তিনবার করুন।

তবে মনে রাখবেন, যেকোনও যোগাসন করার আগে, অবশ্যই একজন যোগ প্রশিক্ষকের কাছ থেকে পরামর্শ নেবেন। কোনও স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে এই যোগাসনগুলি করা উচিত কিনা সেই বিষয়ে সঠিক ধারণা দিতে পারেন একজন যোগ প্রশিক্ষকই। পাথর প্রতিরোধে যোগাসনের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়ার অভ্যাসও রাখতে হবে। সঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

X
Desktop Bottom Promotion