কোলেস্টেরল কমাতে কী খাবেন? ট্রাই করুন গ্রীষ্মকালীন এই ফলগুলি

By Bhagysree Sarkar

বৈশাখের প্রথমদিন থেকেই তাপমাত্রা ঊর্ধ্বমুখী। এর সঙ্গেই বেড়েছে একাধিক রোগ। বর্তমানে উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা বহু বাড়িতেই রয়েছে। আমরা যা খাই তা শরীরে কোনো না কোনোভাবে প্রভাব ফেলছে, ফলে উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বাড়ছে। কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ নয়।

দৈনন্দিন জীবনে অনিয়ম করলেই কোলেস্টেরলের মাত্রা চড়চড় করে বাড়বে। এছাড়াও, খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে অনেক খাবারকেই। তেল-ঝোল, মশলাদার খাবার থেকে একেবারেই দূরে থাকা জরুরি। নয়তো সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

Fruits

তাই শরীরকে সুস্থ রাখতে সুষম খাদ্য গ্রহণ করা খুবই প্রয়োজন। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক ও ধমনিসংক্রান্ত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তবে নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রম কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

তবে আপনি কি জানেন, খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে গ্রীষ্মকালীন কিছু ফল সেরা ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসকরা বলছেন, গ্রীষ্মকালীন ফলগুলি প্রাকৃতিকভাবে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। চলুন দেখে নিই কোন কোন ফল আপনার শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে -

  • পেঁপে-

পেঁপের বীজে প্যাপেইন নামক একটি এনজাইম থাকে, যা খাদ্যের প্রোটিন এবং চর্বি ভাঙতে সাহায্য করে। এই এনজাইমেটিক ক্রিয়াটি সামগ্রিক কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে অবদান রাখতে পারে, বিশেষ করে ক্ষতিকারক LDL কোলেস্টেরল যা ধমনীকে আটকাতে পারে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

পেঁপে খেলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের মতো মারাত্মক রোগ দূরে থাকে এবং হার্ট সুস্থ থাকে। এছাড়া ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে পেঁপে খুবই সহায়ক।

  • আনারস-

ব্রোমেলেন নামক এনজাইমে সমৃদ্ধ আনারস। যা কোলেস্টেরল এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এটি হজমে এবং হার্টের স্বাস্থ্যেও সহায়তা করে। আপনার খাদ্যতালিকায় তাজা আনারস যোগ করা এর উপকারিতা থেকে লাভ করার একটি আনন্দদায়ক উপায় হতে পারে।

  • কিউই-

আমাদের দেশে কিউই খুব একটা প্রচলিত ফল নয়। তাই অনেকেই এক ফলটি নিয়ে বিভ্রান্ত হন। কিউই চর্বি কমাতে সাহায্য করে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধে বিশেষ কার্যকর। কিউই কোনও ক্ষতিকারক প্রভাব ছাড়াই রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। আপনার খাদ্যতালিকায় কিউই অন্তর্ভুক্ত করলে আপনার হার্ট সুস্থ থাকবে।

  • তরমুজ-

গরমের দিনে এক টুকরো তরমুজ খেতে কেই বা অপছন্দ করেন? আপনার তৃষ্ণা মেটানো ছাড়াও, এই গ্রীষ্মের আপনার হৃদয়ের জন্যও ভাল এই ফল। এতে আছে ভিটামিন সি, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি দারুণ কার্যকর। ভাইরাসজনিত রোগের সঙ্গে লড়তে খেতে পারেন তরমুজের খোসার সাদা অংশ। রক্তে কোলেস্টেরল ও শর্করার মাত্রা কমাতে তরমুজের খোসা খুবই উপকারী।

  • সাইট্রাস ফল-

লেবু, কমলা এবং আঙ্গুরের মতো সাইট্রাস ফল, তাদের উচ্চ ভিটামিন সি স্তরের জন্য বিখ্যাত। কোলাজেন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা আমাদের রক্তনালীগুলির স্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। এছাড়াও, এগুলিতে উপস্থিত দ্রবণীয় ফাইবার খারাপ (LDL) কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে দুর্দান্ত।

  • অ্যাভোকাডোস-

একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিত্যদিনের খাদ্যাতালিকায় অ্যাভোকাডো রাখলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি। উচ্চ ফাইবারে সমৃদ্ধ অ্যাভোকাডো কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে ক্যারোটিনয়েডের মতো একাধিক খনিজ উপাদান। রয়েছে ভিটামিন সি এবং ই। তাই প্রতিদিন একটি করে অ্যাভোকাডো খাওয়ার অভ্যাস থাকলে, কোলেস্টেরলের সমস্যা কমে যাবে।

Story first published: Sunday, April 21, 2024, 14:40 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion