নুন খাওয়া কমালেই কঠিন রোগ থেকে মুক্তি! দিনে কতটা পরিমাণ নুন খাবেন? জেনে নিন

Benefits of Reducing Salt Intake in Bengali: নুন ছাড়া যে কোনও খাবারই বিস্বাদ। মুখে তোলা যায় না। অনেকের আবার খাবার পাতে কাঁচা নুন খাওয়ারও অভ্যাস আছে। ফলমূল বা কোনও পানীয়ের সঙ্গেও অনেকে নুন মিশিয়ে খান। এই ভাবে সারা দিনে কতটা নুন বা সোডিয়াম যে শরীরে গেল, তার হিসেব থাকে না। আর এখানেই হয় আসল বিপদ!

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজকার খাবারে নুনের মাত্রা প্রয়োজনের চেয়ে একটু বেশি হলে তা স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। স্নায়ুর কার্যকারিতা, পেশী সংকোচন ও শিথিল করা এবং শরীরে জল ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য শরীরে খুব অল্প পরিমাণে সোডিয়ামের প্রয়োজন হয়। প্রতিদিন প্রায় ৫ গ্রাম সোডিয়ামই যথেষ্ট।

Health Benefits of Reducing Salt Intake

অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার ফলে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, হার্ট ফেইলিওর এবং কিডনি রোগের মতো আরও অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে অত্যধিক নুন না খাওয়াই ভালো। চলুন জেনে নেওয়া যাক, নুন খাওয়া কমালে স্বাস্থ্যের কী কী উপকার হতে পারে -

নিম্ন রক্তচাপ - নুন হল সোডিয়ামের অন্যতম উৎস। শরীরে বেশি পরিমাণে সোডিয়াম এবং তুলনায় কম পরিমাণে পটাশিয়াম গেলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দেয়। রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে বেশি নুন খাওয়ার অভ্যাস। তবে লবণ গ্রহণ কমিয়ে দিলে রক্তচাপও কমে।

হার্ট সুস্থ রাখতে - অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। হৃৎপিণ্ডে রক্তসঞ্চালক ধমনীর ভিতর জমে প্লাক। ফলে সেখানে রক্ত চলাচল ঠিকমতো হয় না। এই কারণেই হার্ট অ্যাটাক (Heart Attack) হয়। তবে লবণ খাওয়া কমালে রক্তচাপ কমে এবং ধমনীতে প্লাকও তৈরি হয় না। ফলে হার্ট সুস্থ থাকে।

কিডনি রোগের ঝুঁকি কমে - নুন বেশি খেলে কিডনি রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। নুনের অতিরিক্ত সোডিয়াম কিডনির শত্রু। শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি হলে তা বেরিয়ে আসতে পারে না এবং কিডনির ক্ষতি করতে শুরু করে। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া পরিহার করুন এখন থেকেই।

ওজন কমাতে নুন কম খান - ওবেসিটি বা মেদবাহুল্যের জন্যও নুন অনেকটাই দায়ী। নুন বেশি খেলে শরীরে জলের পরিমাণ বেড়ে যায়, যার ফলে ওজন বাড়তে পারে। তবে লবণ খাওয়া কমালে শরীর ততটাও জল জমতে পারে না।

বারবার তেষ্টা পায় - নুনযুক্ত খাবার বেশি খেলে বারবার তেষ্টা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অতিরিক্ত লবণ শরীরের তরলের সঙ্গে মিশে যায় এবং শরীরে বারবার জলের চাহিদার অনুভব করায়। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে নুন খাওয়া কমান।

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমে - শুধু গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকেই আলসার হয় না, অতিরিক্ত পরিমাণে সোডিয়াম বা নুন গ্রহণ করলেও পাকস্থলীতে আলসার হতে পারে। কারণ নুন খাবার হজমে বাধা দেয়। ফলে খাবার পাকস্থলীতে জমা হয় এবং ঠিকভাবে হজম না হতে পারার কারণে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়। তবে পরিমিত পরিমাণে নুন খেলে এই সমস্যা দেখা দেয় না।

X
Desktop Bottom Promotion