রক্তাল্পতা থেকে ডিহাইড্রেশন, শরীরের যাবতীয় সমস্যা দূর করবে কিশমিশ ভেজানো জল!

জৈষ্ঠ্যের চাঁদিফাটা গরমে টেকা দায় হয়ে যাচ্ছে। শুধু জল খেয়ে এই গরমে তেষ্টা মিটছে না। তীব্র গরমে শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ করার জন্য নানা রকম পানীয় খাচ্ছেন অনেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গরমে শরীর হাইড্রেট রাখার মহৌষধ হতে পারে কিশমিশ ভেজানো জল! এই একটা পানীয় খেয়েই কিন্তু 'ডিহাইড্রেশন' এর সমস্যা মিটিয়ে ফেলা যায়।

তবে কেবল জলের ঘাটতিই পূরণ করে না, পাশাপাশি শরীরের আরও নানা রকম সমস্যা দূর করে কিশমিশের জল। চলুন জেনে নেওয়া যাক, গরমের সময় কিশমিশ ভেজানো জল পানে শরীরের কী কী উপকার হয়।

Benefits of Drinking Raisin Water

টক্সিন বের করে দেয়
দূষণ, প্রসেসড ফুড, জাঙ্ক ফুড, স্ট্রেস, এরকম নানা কারণে আমাদের শরীরে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ জমা হতে থাকে। কিশমিশে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা টক্সিন বের করে দিয়ে শরীর সুস্থ রাখে। কিশমিশের জল প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার হিসেবে কাজ করে। এটি দেহ থেকে ক্ষতিকারক পদার্থ দূর করে এবং শরীর পরিষ্কার রাখে।

রক্তাল্পতা প্রতিরোধ করে
অ্যানিমিয়ার মূল কারণ হল শরীরে আয়রনের ঘাটতি। কিশমিশ আয়রনে ভরপুর, যা লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনে সাহায্য করে। নিয়মিত কিশমিশের জল পানে আমাদের শরীরে আয়রনের মাত্রা ঠিক থাকে। ফলে অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ হয়। গরমকালে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে আয়রন বেরিয়ে যায়। এই সময় কিশমিশের জল পান খুবই উপকারী।

ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখে
কিশমিশে পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়ামের মতো ইলেক্ট্রোলাইট থাকে। শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই ইলেক্ট্রোলাইট খুবই প্রয়োজনীয়। এ ছাড়া, ইলেক্ট্রোলাইট স্নায়ুর কার্যকারিতা, পেশী সংকোচন এবং শরীর হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে। গরমের সময় অত্যধিক ঘাম হওয়ার কারণে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। তবে কিশমিশের জল দেহে ইলেকট্রোলাইট পূরণে সাহায্য করে।

এনার্জি বাড়ায়
কিশমিশে রয়েছে গ্লুকোজ এবং ফ্রুক্টোজ। যা আমাদের শরীরে এনার্জি যোগায়। কিশমিশের জল সারা দিন আমাদের সক্রিয় এবং এনার্জেটিক রাখে।

হজম ভাল হয়
কিশমিশের জল ফাইবার সমৃদ্ধ। যে কারণে হজম ক্ষমতা আরও উন্নত হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকেও মুক্তি মেলে। এ ছাড়া, গ্যাস, অ্যাসিডিটি, অম্বলের সমস্যাও দূর করে কিশমিশের জল।

ওজন কমায়
যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তারা রোজের ডায়েটে কিশমিশের জল রাখতে পারেন। কিশমিশে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি লোভ কমায়। তাছাড়া, ফাইবার সমৃদ্ধ কিশমিশ দীর্ঘক্ষণ পেটও ভরিয়ে রাখে। ফলে বেশি খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য হয়।

ত্বকের জেল্লা ফেরায়
কিশমিশের জল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ। যা ত্বকের ভেতর থেকে পুষ্টি যোগায়। কিশমিশে থাকা ভিটামিন এ এবং ই চোখে মুখে বার্ধক্যের ছাপ পড়তে দেয় না, ত্বককে সতেজ রাখে এবং জেল্লা বাড়ায়।

কী ভাবে তৈরি করবেন?
এক কাপ কিশমিশ ভাল করে জলে ধুয়ে নিন। একটা বাটিতে জল নিয়ে সারা রাত কিশমিশ ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন জলশুদ্ধু কিশমিশ মিক্সারে ভাল ভাবে ব্লেন্ড করে ছাঁকনিতে ছেঁকে নিন। এই জলটা পান করুন।

Story first published: Thursday, June 8, 2023, 21:48 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion