রোজের এই ৬ ভুলের কারণেই কমছে বিপাক হার! এখনই সতর্ক হোন

শরীর চাঙ্গা রাখার জন্য মেটাবলিজম বা বিপাক-এর ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিপাক হার দ্রুত হলে হজমশক্তি বাড়ে, ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে শরীরও থাকে ফিট। তবে বিপাক হার ধীর হলেই দেখা দেয় যত সমস্যা।

বিপাক হল এক ধরনের প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে শরীর খাবার থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চয় করে। তাই খাওয়াদাওয়ার অভ্যাসের উপর অনেকটাই নির্ভর করছে দেহের বিপাক প্রক্রিয়া কী রকম হবে। তবে খাদ্যাভ্যাস ছাড়াও, দৈনন্দিন জীবনে আমাদেরই কিছু ভুলের প্রভাব পড়ে শরীরের বিপাক হারের উপর। জেনে নিন, কোন কোন অভ্যাস আপনার বিপাক হারের উপর প্রভাব ফেলে।

Metabolism

মানসিক চাপ

রোজকার জীবনযাপনে ব্যস্ততা যত বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে স্ট্রেস। কর্মক্ষেত্রে কাজের চাপ, ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের মতো একাধিক কারণে মানসিক চাপের সম্মুখীন কমবেশি সকলেই। আর মানসিক স্বাস্থ্য ভাল না থাকলে খিদে কমে যেতে পারে। হতাশা, উদ্বেগ এবং স্ট্রেসের মতো অবস্থার কারণে ক্ষুধা হ্রাস হয়। যার ফলে বিপাকীয় হার কমে যায়।

কম খাওয়া

অনেকেরই ধারণা, খাবার খাওয়ায় লাগাম টানলেই ওজন কমে দ্রুত। সেই লক্ষ্যপূরণে দিনের অর্ধেক খাবারই বাদ দিয়ে দেন অনেকে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, কম খেলেই যে ওজন কমবে, এমনটা নয়। বরং দিনের সঠিক সময়ে সঠিক মাত্রায় খাবার না খেলে তার প্রভাব পড়বে বিপাক হারের উপর। যার ফলে ওজন তো কমবেই না, উল্টে বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

ঘুম কম হওয়া

সুস্বাস্থ্যের জন্য রোজ ভাল ঘুম হওয়া খুবই প্রয়োজন। ঠিকঠাক ঘুম না হলে শরীরে ক্লান্তি আসে। বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। প্রতি দিন অন্তত পক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো ভীষণ জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বিপাক হারের উপর প্রভাব পড়ে। মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। এর ফলে ওজন বৃদ্ধির হতে পারে।

চিনিযুক্ত পানীয়

কার্বোনেটেড পানীয় এবং এনার্জি ড্রিঙ্কগুলিতে প্রচুর চিনি থাকে, যা মানসিক এবং শারীরিক উভয় স্বাস্থ্যের উপরই খারাপ প্রভাব ফেলে। এই সব পানীয় নিয়মিত পান করলে বিপাক হারের উপর প্রভাব পড়ে।

কার্বোহাইড্রেট না খাওয়া

লো-কার্ব ডায়েট খুবই স্বাস্থ্যকর। ওজন কমানোর জন্য সাধারণত এই ডায়েট মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু অতিরিক্ত যে কোনও কিছুই ক্ষতিকারক। ওজন ঝরাতে গিয়ে খাওয়ার তালিকা থেকে একেবারেই কার্বোহাইড্রেট বাদ দিয়ে দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এতে বিপাক হার কমে যায়। হজম প্রক্রিয়ার উপরেও প্রভাব পড়ে।

শরীরচর্চা না করা

বিপাক হারের তারতম্যের একটি অন্যতম কারণ হল নিয়মিত শরীরচর্চা না করা। কর্মব্যস্ততার কারণে অনেকেই শরীরচর্চার সময় পান না। তার উপর অফিসে এক জায়গায় বসে বসে কাজের ফলে হাঁটাচলার সময়ও তেমন মেলে না। এই অভ্যাসও কিন্তু বিপাক হার কমিয়ে দিতে পারে।

Disclaimer: এই আর্টিকেলে উল্লিখিত সমস্ত তথ্য পরামর্শস্বরূপ। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

X
Desktop Bottom Promotion