৫৫ পেরিয়ে গেলেও ঋতুবন্ধ হচ্ছে না? ঠিক কী কী কারণে হতে পারে এই সমস্যা?

ঋতুস্রাব, গর্ভাবস্থা, মেনোপজ - মহিলাদের জীবনের প্রতিটি পর্যায় হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। একজন মহিলার শারীরিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে হরমোন। তাই হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ঘটলে একের পর এক সমস্যা লেগেই থাকে।

বয়স ৪৫ ছুঁইছুঁই হলেই সবচেয়ে বেশি যে কথাটি মহিলাদের ভাবায়, তা হল মেনোপজ বা ঋতুবন্ধ। অনেকেই এর কারণে অবসাদে ভোগেন। কিন্তু এটাও তো ঠিক যে মেনোপজ একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, যা প্রত্যেক মহিলার জীবনেই আসবে।

menopause

মেনোপজ কখন হয়?

মেনোপজ হল একজন মহিলার মাসিক চক্রের সমাপ্তি। ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নির্গত হওয়া বন্ধ হলেই মেনোপজ হয়। জন্মের সময়ে প্রত্যেক মহিলার ডিম্বাশয়ে প্রায় ১০ লক্ষ ডিম্বাণু থাকে। পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার পর থেকেই শরীর প্রতি মাসে এক একটা করে ডিম্বাণু ছাড়তে থাকে। ৩০ বছর বয়স পেরোনোর পর ডিম্বাণুর সংখ্যা কমতে শুরু করে। ৪০-এর পর আরও দ্রুত হারে কমে যেতে থাকে। এর সঙ্গে কমে আসে সন্তানধারণের সম্ভাবনাও। ডিম্বাণু একেবারে নিঃশেষিত হয়ে গেলে ডিম্বাশয়ে আর ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন ক্ষরিত হয় না। তখনই হয় মেনোপজ।

বছর খানেক টানা পিরিয়ড না হলে ধরে নিতে হবে যে ঋতুবন্ধ হয়ে গিয়েছে। সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে মহিলাদের মেনোপজ হয়ে থাকে। আসুন জেনে নেওয়া যাক, কোন কোন কারণে ঋতুবন্ধ পিছিয়ে যেতে পারে।

জেনেটিক

জিনগত কারণে ঋতুবন্ধ দেরিতে হতে পারে। যদি আপনার পরিবারে দেরিতে মেনোপজ হওয়ার ইতিহাস থাকে, তবে তা আপনার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থাৎ যাঁদের মা বা ঠাকুমার ঋতুবন্ধ দেরিতে হয়েছে, সেই মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা থেকেই যায়।

স্থূলতা

ওজন বেশি হলেও ঋতুবন্ধ দেরিতে হতে পারে। শরীরে অতিরিক্ত মেদ থাকলে সেই মেদ থেকে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোন তৈরি হয়। যদি ৫০ বছর বয়সের পরেও এই হরমোনগুলি নিঃসৃত হয়, তবে ঋতুস্রাব চলতেই থাকে। যা মেনোপজ দেরীতে শুরু হওয়ার অন্যতম কারণ।

থাইরয়েড

থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে ঋতুবন্ধ দেরিতে হতে পারে। অল্প বয়সে কোনও মহিলার থাইরয়েডের সমস্যা ধরা পড়লে অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যায় ভুগতে হয়। যার ফলে সঠিক সময়ে পিরিয়ড হয় না, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়া, অনেক সময় রক্তক্ষরণ খুব কম হতে পারে, কয়েক মাস পিরিয়ড বন্ধও হয়ে যেতে পারে। এই হরমোনজনিত সমস্যা দেরিতে মেনোপজের কারণ হতে পারে।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

যে সব মহিলার শরীরে ইস্ট্রোজেনের ক্ষরণ বেশি, তাঁদেরও দেরিতে ঋতুবন্ধ হয়। তবে সঠিক ডায়েট, ব্যায়াম এবং ডাক্তারের পরামর্শে থেরাপি মেনে চললে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে।

Disclaimer: এই আর্টিকেলটি ইন্টারনেটে উপলব্ধ তথ্যের উপর ভিত্তি করে লেখা। এর সত্যতার দাবি করে না বোল্ডস্কাই বাংলা। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Story first published: Saturday, December 30, 2023, 20:44 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion