For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

অবসাদে ভুগছেন? ওষুধ আর ডাক্তার নিত্যসঙ্গী? আধ্যাত্মিক উপায়ে মিলতে পারে মুক্তি

|

এই দুনিয়াতে দিন যত বেড়েছে, যাত্রার মান তত উন্নত হয়েছে। বিজ্ঞানের সাধনা এবং অগ্রগতির সাথে সাথে তাল মিলিয়ে মানুষ বিশ্ব এবং বিশ্বের বাইরে নিজের পা রেখেছে। কর্ম ব্যস্ততা বেড়েছে সাথে নিজের রুজি রোজগারের চাহিদা ক্রমাগত বেড়েছে। এই চাহিদা বাড়ার অন্যতম কারণ টাকা। কারণ জীবন যাত্রার মান উন্নত করতে গেলে এবং জীবনের সুখ স্বাচ্ছন্দ বা বিলাস ব্যসন আনতে গেলে টাকার প্রভূত জরুরী তা খুব অল্প সময়ের মধ্যে মানুষ বুঝতে পেরেছে। ফলে নিজের সামাজিক জীবন ছেড়ে নিজের পছন্দ-অপছন্দ কে কম প্রাধান্য দিয়ে রোজকার ইঁদুর দৌড়ে সামিল হয়েছে। বেঁচে থাকার অপর অর্থ যে শুধুমাত্র নিজের লোভ-লালসাকে মিটিয়ে টাকার পিছনে ঘুরে বেড়ানো নয় তা মানুষ ভুলে গেছে। ফলে নিজে কিসে সুখ পাবে বা নিজের মন কি করলে ভালো লাগবে তা আজকের দিনে অনেকেই জানেনা। অফিসের ফাইল বা কম্পিউটার বা ক্রেডিট খাতায় মুখ ডুবানো মানুষ ভাবতে ভুলে গেছে তার নিজের ভেতরকার বা নিজের আত্মার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা।

এর সাথে রয়েছে ছোটদের উপর জোর করে চাপিয়ে দেয়া পড়াশোনার বিশাল বোঝা। কোন শিশুর কিসে পছন্দ বা কোন সে সে কি পড়তে ভালবাসে তা না জেনেই তার বাবা-মার ভালোলাগাকে শিশুর উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন হাঁটতে থাকা সেই শিশুটার মনের জোর ক্রমশ কমে যাচ্ছে, পিছিয়ে পড়ছে তার বাকি বন্ধুদের থেকে এবং হতাশা এবং অবসাদ তাকে শুধু মাত্র গ্রাস করছে যা পরবর্তীকালে কাজের ক্ষেত্রে তাকে পিছু ছাড়ছে না।

এরই পাশাপাশি রয়েছে আজকের যোগাযোগ মাধ্যম। আগে একটা সময় ছিল চিঠির যুগ যখন কথা বার্তা আদান-প্রদানের একমাত্র মাধ্যম ছিল চিঠি। প্রেরক এবং প্রাপক এর মধ্যে সেই চিঠির যাওয়ার সময় কাল এতটাই দীর্ঘ ছিল যে সে চিঠি পাওয়ার জন্য আশা আকাঙ্ক্ষা বা টান অনেক বেশি থাকত। মনের ভাব বা ভালোবাসার আক্ষরিক প্রকাশের মাধ্যম ছিল এই চিঠি। বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে তারপর এল টেলিফোন। তারপর মোবাইল এবং এখনকার যুগে ইন্টারনেট। শুনছে না বুঝলেও এর ক্ষতি আজকের দিনে সবাই বুঝতে পারে।শুধু খুব কম লোকই আছে যারা এই চক্রব্যূহ এর ফাঁস থেকে বেরিয়ে আসে। তথাকথিত কাছের মানুষকে পাওয়ার জন্য যোগাযোগ মাধ্যমের এই উন্নতি যেমন মানুষের সুবিধা করেছে, তেমনি অজান্তে একজনের প্রতি আরেকজনের টান যেন কমাতে শুরু করেছে। চাইলেই তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এবং অভিযোগ-অনুযোগ এর পাল্লা একটু ভারী হলে তাকে বাদ দিয়ে নতুন অপশন খোঁজা আজকের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এর ক্ষতিকর দিক গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এর উপর মানুষ এতোটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে যে বাস্তব জগতের থেকে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের জগত তার কাছে মুখ্য ভূমিকা রাখছে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ে একজনের কাজ, কথাবার্তা বা গতিবিধির উপর বাকি দুনিয়ার মানুষ কি ভাবছে তা কিভাবে নিচ্ছে সেই অনুযায়ী মানুষের ভালো লাগা খারাপ লাগা নির্ভর করছে আজকের দিনে।

ফলে বাড়তে থাকছে অবসাদ। এই অবসাদ কাটাতে মানুষ আরো সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এর উপর নির্ভর করছে। বাড়তি থাকা অবসাদকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য অনেকেই মনোবিজ্ঞানীদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। কেউবা রোজ অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট ওষুধ খাচ্ছেন। কেউবা আত্মহননের পথ পর্যন্ত বেছে নিচ্ছেন। কিন্তু আধ্যাতিক ভাবেও যে এর সমাধান করা যায় তার চিন্তা কেউ করছে না। স্পিরিচুয়াল কথাটা এসেছে স্পিরিট থেকে যার অর্থ আত্মা। আমাদের আত্মা যা অবিনশ্বর, সেই আত্মার মুক্তি এবং সেই আত্মা কিসে ভালো থাকবে তার চিন্তা আমরা কখনই করি না তার বদলে শুধুমাত্র পার্থিব ভোগ বিলাসে নজর দি।

রোজকার কর্মব্যস্ততায় বা পড়াশোনা বা নিজের সামাজিক এবং সংসার জগতে যারা প্রতিদিনের অবসাদের শিকার, তারা নিজের ক্ষতি না করে বা মনোবিজ্ঞানীর কাছে না গিয়ে বা ওষুধ না খেয়ে কিভাবে এই অবসাদ থেকে আধ্যাত্মিক ভাবে মুক্তি পাবেন তা জানানোর জন্যই আজকের এই প্রতিবেদন যেখানে আধ্যাত্মিক ভাবে সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কয়েকটা পথ বলার চেষ্টা করা হলো।

১. গ্রহ নক্ষত্রের প্রভাব

১. গ্রহ নক্ষত্রের প্রভাব

আধুনিক বিজ্ঞান উন্নত সাথে সাথে অনেকেই আজকের দিনে আমাদের জীবনের উপর যে গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব আছে তা স্বীকার করতে চান না। কিন্তু বৈদিক যুগ থেকে এই গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব আমাদের জীবনে যে অনস্বীকার্য তা মেনে নেওয়া হয়েছে। বহু স্টোন আছে যাদের প্রতিটা গ্রহ নক্ষত্রের প্রতীক হিসাবে ভাবা হয়। আপনার রাশি অনুযায়ী আপনার আত্মার উন্নতিকরণের জন্য কোন কোন গ্রহের ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক প্রভাব রয়েছে তা জেনে স্টোন বা পাথর ধারন করে নিজের আত্মার উন্নতি ঘটানো সম্ভব।

২. ধ্যান

২. ধ্যান

ধ্যান যে আমাদের মনসংযোগ ঘটানোর ক্ষেত্রে সেই প্রাচীনকাল থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে তা নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। প্রাচীন যুগের মুনি ঋষিরা সবসময় আত্মার উন্নতি সাধনের জন্যে ধ্যানের পরামর্শ দিতেন। মনের একাগ্রতা বাড়াতে এবং মন যাতে বাইরের ঝামেলাতে জড়িয়ে না পড়ে তার জন্যে ধ্যানের দরকার সবার। আজকের দিনে তাই যেকোনো ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা বইয়ে কিভাবে ধ্যান করবেন টা জানানো থাকে। অনেকে মানসিক শান্তি খোঁজার জন্যে তার পথপ্রদর্শক গুরুর শরণাপন্ন হন এই একই কারণে। কারণ ধ্যান আত্মার মোক্ষ এবং মুক্তি লাভের একমাত্র পথ।

৩. খাওয়া

৩. খাওয়া

অনেকেই মনে করেন পরিপূর্ণ আহার নিজের শরীরের জন্যে অবশ্যই দরকারি। ভালো খাওয়া দাওয়ার অর্থ তার মানে এই নয় যে তামসিক খাবার খেয়ে নিজেকে এবং আত্মাকে কষ্ট দেওয়া। যা আগেকার দিনে ক্ষত্রিয়ের প্রধান খাদ্যাভ্যাস ছিল। বরং আত্মার শুদ্ধিকরণ এবং অবসাদের থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে সহজ সরল খাওয়াদাওয়া একান্ত জরুরি। কম মসলাযুক্ত খাবার যার মধ্যে অন্যতম। বাত, পিত্ত, এবং কফ এই তিন ধরনের শরীরের গুণ ভেদে একজনের শরীরে কি খাবার দরকার তা জেনে খেলে অনেকটাই উপকার পাওয়া যায়।

৪. বই পড়া

৪. বই পড়া

সোশাল নেটওয়ার্কিং এর দুনিয়ায় মুখ না ডুবিয়ে প্রোডাক্টিভ কিছু করার চেষ্টা করুন। এমন কিছু যা থেকে আপনার আত্মার শান্তি আসে এবং একই সাথে অন্যের উপকার হয়। মোবাইল এর কম্পিউটারে মুখ না ডুবিয়ে নতুন নতুন বই পড়ুন। জ্ঞান অর্জনের সাথে অধ্যাত্ববাদকেও জানার চেষ্টা করুন। সারাদিনের কাজের শেষে নিজের অবসর সময় কে অহেতুক দুশ্চিন্তা বা অবসাদের পথে না ঠেলে এসব কাজে ব্যাস্ত রাখুন।

৫. পরিবেশ

৫. পরিবেশ

চেষ্টা করুন এমন জায়গায় থাকার যেখানে পরিবেশ আপনাকে ভালো রাখবে। সবুজের কাছে থাকুন। কাজ শেষে ঘরে ফিরে কৃত্রিম আলোর বদলে সুগন্ধি মোমবাতি বা ধূপ ঘরে রেখে দেখুন। সারাদিনে একবার ভগবান বা সর্বশক্তিমানের আরাধনা করুন। অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা না করে বা হিংসা না করে নিজের যা আছে তাতে দেখুন আপনার দৈনন্দিন চাহিদা মিটছে কিনা, যদি মেটে তাহলে অহেতুক কষ্ট পাওয়ার থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। আপনার অবসাদ মিটতে বা কম হতে বাধ্য।

English summary

spiritual healing techniques I use to heal my depression

you can addopt spiritual healing techniques for depression to assist you in both times of need and your daily routine.
Story first published: Saturday, April 20, 2019, 10:00 [IST]
X