গর্ভাবস্থায় ত্বকে কী কী সমস্যা দেখা যায়, জানুন প্রতিকার

By Bhagysree Sarkar

গর্ভাবস্থা একজন মহিলার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর পর্যায়গুলির মধ্যে একটি। কিন্তু ততটাই চ্যালেঞ্জিংও। গর্ভাবস্থায় নারীরা তাদের শরীরে অনেক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যান। শারীরিক ও মানসিক নানা পরিবর্তন হয়ে থাকে এই সমসয়। এই পরিবর্তন ত্বকেও দেখা যায়। অনেক গর্ভবতী মহিলার সবচেয়ে সাধারণ সমস্যাগুলির মধ্যে একটি হল তাদের ত্বকের পরিবর্তন।

সাধারণত চিকিৎসকদের মতে, হরমোনজনিত প্রভাব ও গর্ভের শিশুর আকার বেড়ে যাওয়ার কারণেই এসব পরিবর্তন হয়ে থাকে। একটি সুষম এবং স্বাস্থ্যকর পুষ্টি, সঠিক ঘুম, কম চাপ এবং নিয়মিত ব্যায়াম গর্ভাবস্থায় হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে।

pregnancy

এই পরিবর্তনগুলি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার কারণ হতে পারে যেমন ব্রণ, স্ট্রেচ মার্ক, পিগমেন্টেশনের সমস্যা। হরমোনের বর্ধিত মাত্রা, বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন। এছাড়াও আর কী কী সমস্যা দেখা যায় চলুন জেনে নেওয়া যাক-

  • শরীরের ভাঁজের পিগমেন্টেশন, স্তনবৃন্তের চারপাশে পিগমেন্টেশন এবং অ্যারিওলা। প্রায়শই রোগীর, ভ্রূণের ক্রমবর্ধমান আকারের কারণে, মুখের পিগমেন্টেশন, স্তনের এলাকা এবং পেটের চারপাশে কালো হয়ে যায়।
  • কখনও কখনও মহিলারা গর্ভাবস্থায় বা প্রসবের পরে প্রচুর চুল পড়া এবং নখের অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। অর্থাৎ নখ খুব দ্রুত বাড়তে থাকে এবং প্রচুর ব্রণ বাড়তে পারে বিশেষ করে যদি কারও ব্রণের প্রবণতা থাকে।
  • গর্ভের শিশু আকারে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে পেটের ত্বকে টান পড়তে থাকে। ফলে ত্বকে ফাটা দাগ দেখা দেয়।
  • গর্ভকালে হরমোনজনিত কারণে ত্বকের তৈলাক্ততা বেড়ে যায়‌। মুখের ত্বকের তৈলাক্ততা বাড়ার কারণে ব্রণ দেখা দেয়।
  • যেসব মায়েদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের অ্যালার্জিজনিত অ্যাকজিমা বেড়ে যেতে পারে।
  • চুলকানির ফলে ত্বক লালচে হয়ে ফুলে যেতে পারে। তবে গর্ভকালীন জন্ডিসের কারণে চুলকানি হলেও ত্বকের কোনো পরিবর্তন হয় না।
  • মুখে মেছতা দেখা দিতে পারে। গলা, ঘাড় ও ত্বকের বিভিন্ন ভাঁজে গাঢ় দাগ দেখা দিতে পারে। এটি মূলত হয় হরমোনজনিত কারণে।

হাড় শক্ত, কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি সহ একাধিক পুষ্টির জন্য অবশ্যই খান গ্রীষ্মকালীন এই ফল!

গর্ভাবস্থায় এগুলি সবচেয়ে সাধারণ জিনিস যা সবই চিকিৎসাযোগ্য। তবে নির্দিষ্ট সময়ে চিকিৎসা না করলে আপনার এই সমস্য়া আরও বাড়তে পারে এবং তা দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে। যা অস্তিকর হয়ে উঠতে পারে আপনার জন্য।

তবে কিছু নিয়ম মেনে চললেই আপনার এই সমস্যা মিটতে পারে। চলুন প্রতিকারগুলি জেনে নেওয়া যাক-

  • গর্ভকালে হরমোনজনিত কারণে ত্বকের তৈলাক্ততা বেড়ে গেলে, তা দূর করতে নিয়মিত ক্লিনজার বা স্ক্র্যাবার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে অতি অবশ্যই।
  • প্রসবের পর পেটের ফাটা দাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত গ্লিসারিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে পারেন।
  • ত্বকের মসৃণতা ঠিক রাখতে ময়েশ্চারাইজার ক্রিম বা লোশন অবশ্যই ব্যবহার করা উচিত।
  • গর্ভাবস্থায় ত্বক সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। তাই সূর্যের রশ্মির সংস্পর্শে আসলে সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। তবে অবশ্যই তা ৩০ এসপিএফ হতে হবে।
  • কালো হয়ে যাওয়া স্থানে লেবুর রস দিয়ে ঘযতে পারেন। লেবু প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসেবে কাজ করে এবং পিগমেন্টেশনকে অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
  • মুখে ব্রেকআউটের সমস্যা দেখা দিলে আপনি দিনে অন্তত দুবার মুখ ধুয়ে নিন। নন-কমেডোজেনিক স্কিনকেয়ার এবং মেকআপ পণ্য ব্যবহার করুন। এছাড়াও আপনি মুলতানি মাটি, শসার রস এবং লেবু দিয়ে তৈরি একটি মাস্কও ব্যবহার করতে পারেন যা অতিরিক্ত সিবাম উৎপাদনের ভারসাম্য বজায় রাখবে এবং ত্বককে শান্ত করবে।

Story first published: Monday, May 27, 2024, 18:27 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion