হাড় শক্ত, কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি সহ একাধিক পুষ্টির জন্য অবশ্যই খান গ্রীষ্মকালীন এই ফল!

By Bhagysree Sarkar

অন্যান্য ঋতুর তুলনায় গ্রীষ্মকালে ফলের রকমারি অনেকটাই বেশি। চিকিৎসকদের মতে, এইসময় যেকোনও মরশুমের ফল খাদ্যতালিকায় রাখা স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ভালো।

গ্রীষ্মকালীন ফল কার না প্রিয়। আর সেই তালিকাতেই রয়েছে লিচু। এটি একটি গ্রীষ্মকালীন রসালো ফল, যার স্বাদ খুবই মিষ্টি। ছোট থেকে বড়, সকল বয়সের মানুষরাই এই ফল খেতে ভীষণ পছন্দ করে থাকেন। মিষ্টি এই ফলটি খেতে পছন্দ করলেও এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানেন কি?

Lychee

লিচুতে প্রচুর পরিমাণে থাকে জল। প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম থাকে। এদিকে এই ফলে কিন্তু ফ্যাটও নেই। তবে রয়েছে ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ। যেমন- ম্যাঙ্গানিজ আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, কপার ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে প্রচুর ডায়েটারি ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। পুষ্টিগুণ তো জানা হল, কিন্তু জানেন কি এর উপকারিতা সম্পর্কে?

  • পুষ্টিবিদদের মতে, লিচুতে প্রচুর পরিমাণ জল থাকায় এটি খেলে গরমে শরীরের জলের ঘাটতি পূরণ হয়। গরমে শরীরে জলশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই জল খাওয়ার পাশাপাশি লিচুর মতো জলীয় উপাদান সমৃদ্ধ ফল খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।
  • লিচুতে এপিকেচিন ও রুটিন নামক দুটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ রয়েছে, যা এ গরমে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
  • লিচুতে লিচিট্যানিন নামক ভাইরাস বিরোধী উপাদান আছে, যা ভাইরাস ছড়াতে বাধা দেয়।
  • লিচু ডায়াটেরি ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা প্রতিরোধ করে।
  • লিচুতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, কপার এসব মিনারেল হাড়কে ক্যালসিয়াম শুষে নিতে সাহায্য করে। ফলে হাড় শক্ত ও সুস্থ থাকে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে খান খালি পেটে কিসমিসের জল, রয়েছে বহু পুষ্টিগুণও

  • লিচুতে রয়েছে এসকরবিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
  • শরীরের বাড়তি ওজন কমানোর সময় খাদ্যতালিকায় এ ফল পরিমাণমতো রাখা ভালো। লিচুতে থাকা ফাইবার এবং জল পেট ভরিয়ে রাখে। ফ্যাট না থাকা ওজন কমাতে সাহায্য করে। খাদ্যআঁশ দেহের ভেতর থেকে টক্সিন বের করে দিতে সহায়তা করে।
  • লিচু খেলে ত্বকের বলিরেখা দূর করে, বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না, ত্বক উজ্জ্বলও দেখায়।

তবে মনে রাখবেন, লিচু সকালে খালি পেটে, খাওয়ার পরেই এবং ঘুমাতে যাওয়ার সময় খাওয়া ঠিক নয়। এতে শরীরে সুগার লেভেল বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি মাত্রাতিরিক্ত লিচু খেলে রক্তচাপ অনেক কমে যেতে পারে। ফলে শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, বমি ভাব, দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। এতে পটাশিয়াম থাকায় কিডনি রোগীদের খেতে নিষেধ করা হয়ে থাকে। একজন সুস্থ ব্যক্তি দিনে ১০-১২টি লিচু খেতে পারেন। তবে একসঙ্গে না খেয়ে একটু বিরতি দিয়ে খাওয়া ভালো। তাই মরশুমের ফলের স্বাদ নিতে কিন্তু ভুলবেন না।

Story first published: Monday, May 27, 2024, 16:06 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion