শিশুকে বায়ু দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে এই টিপসগুলি মেনে চলুন

মানুষের সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে পরিবেশ দূষণ। দূষণের বাড়বাড়ন্ত মানুষের জীবনকে অসহনীয় করে তুলছে। বায়ু দূষণ সবচেয়ে ভয়াবহ, যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ধুলোবালি ও ধোঁয়া মিশ্রিত বাতাসের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে শিশুদের।

গবেষকরা জানাচ্ছেন যে, গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে ১.১৬ লাখেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছিল বায়ু দূষণের কারণে। ২০১৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে ৫,৪৩,০০০ জনেরও বেশি কম বয়সীরা বায়ু দূষণ জনিত শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। যাদের মধ্যে বেশির ভাগেরই ফুসফুসে সংক্রমণ, শারীরিক বিকাশে বাধা ও নানাবিধ কঠিন রোগ দেখা দিয়েছিল। এর কারণ, বাতাসে মিশে থাকছে নাইট্রোজেন অক্সাইড, ওজোন গ্যাস, সালফার অক্সাইড, কার্বন মনো-অক্সাইড ও ক্লোরোফ্লুরো কার্বন (CFC) এর ক্ষতিকর উপাদান, যা মানবদেহের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর।

How to protect kids from air pollution

ইউনাইটেড নেশনস চিলড্রেনস ফান্ড বা ইউনিসেফ - এর রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ছয় লাখেরও বেশি শিশু মারা যাচ্ছে বায়ু দূষণের কারণে। তাই বিষয়টিকে হালকাভাবে নিলে চলবে না। আমরা সকলে কিছু সচেতনতা ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বায়ু দূষণ থেকে শিশুদের রক্ষা করা সম্ভব হয়ে উঠবে। চলুন দেখে নিন কী কী করবেন।

ভারতবর্ষের যে শহরগুলিতে সবচেয়ে বেশি বায়ু দূষণ হয়-

গাজিয়াবাদ
দিল্লি
নয়ডা
গুরুগ্রাম
গ্রেটার নয়ডা

এর থেকে রক্ষা পেতে কী কী করবেন?

১) এয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন

বায়ু দূষণ থেকে রক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হল এয়ার মাস্ক। শিশুকে নিয়ে বাইরে বেরোনোর সময় অবশ্যই তাকে মাস্ক পরান। বাতাসে থাকা ধূলিকণা, দূষিত পদার্থ, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসকে আটকে দেয় এই এয়ার মাস্ক। তবে চার বছরের কম বয়সী শিশুদের মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেবেন।

২) বাড়িতে এয়ার পিউরিফায়ার বসান

নবজাতক শিশু বাড়িতে থেকে থাকলে, তাদের দূষণ থেকে রক্ষা করার জন্য বাড়িতে এয়ার পিউরিফায়ার মেশিন বসান। এটি বাতাস থেকে সমস্ত দূষিত পদার্থ পিউরিফাই করে বাতাসকে শুদ্ধ করে তোলে।

৩) বাড়ির বাইরে বেশিক্ষণ থাকবেন না

খুব প্রয়োজন ছাড়া শিশুকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যাবেন না এবং বেশিক্ষণ বাইরে থাকবেন না। এর ফলে কিছুটা হলেও দূষণের খারাপ প্রভাব থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন : শিশুর সর্দি-কাশি সারান এই ঘরোয়া পদ্ধতির মাধ্যমে

৪) মায়ের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করবেন না

এক মাস থেকে এক বছর বয়সী শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য হলো মাতৃদুগ্ধ। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যতটা বৃদ্ধি পাবে, দূষণের খারাপ প্রভাব থেকে সহজেই শিশুকে রক্ষা করা যাবে। সুতরাং সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ থেকে কখনোই বঞ্চিত করবেন না।

৫) পুষ্টিকর খাবার খাওয়ান

এক বছর থেকে বেশি বয়সের শিশুদের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ান। এতে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে যেসব ফল-শাকসব্জিতে ভিটামিন সি ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, সেই সমস্ত খাবার নিজে খান এবং শিশুকে খাওয়ান। নিজের শরীরকে সুস্থ রাখলে দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই করা সহজ হবে।

X
Desktop Bottom Promotion