গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে এই কাজগুলি ভুলেও করবেন না, মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে

একজন নারীর জীবনে মাতৃত্বের অনুভূতি হল সবচেয়ে সুখকর। গর্ভাবস্থা, প্রত্যেক নারীর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়কাল। প্রেগনেন্সির সময়কালকে মূলত তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়ে থাকে, প্রথম ত্রৈমাসিক, দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক এবং তৃতীয় ত্রৈমাসিক। প্রথম ত্রৈমাসিকের সময়সীমা হল, শেষ মাসিকের প্রথম দিন থেকে প্রায় ১২তম সপ্তাহ পর্যন্ত।

Avoid these mistakes in your first trimester

গর্ভাবস্থায় শারীরিক, মানসিক দিক থেকে নানান পরিবর্তন আসে। এই সময় প্রত্যেক মায়েরই একটু অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকের সময় বিশেষ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। এমন কিছু কাজ আছে, যেগুলি এই সময় একেবারেই করা উচিত নয়, তাহলে মারাত্মক বিপদ হতে পারে। আসুন দেখে নেওয়া যাক, প্রথম ত্রৈমাসিকে কোন কোন বিষয়গুলি এড়িয়ে চলা উচিত।

১) ধূমপান করা এড়িয়ে চলুন

১) ধূমপান করা এড়িয়ে চলুন

গর্ভাবস্থায় ধূমপান করা শিশু এবং মা, উভয়ের জন্যই অত্যন্ত ক্ষতিকারক। এমনকি ই-সিগারেট সেবন করাও গর্ভবতী অবস্থায় নিরাপদ নয়। গর্ভাবস্থায় ধূমপান করলে, জন্মের সময় বাচ্চার ওজন কম হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, শিশুর অকাল জন্মের সম্ভাবনা বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা হতে পারে, শিশুর মৃত্যুও হতে পারে। এছাড়া, গর্ভাবস্থায় ধূমপানের ফলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

২) মদ্যপান ত্যাগ করুন

২) মদ্যপান ত্যাগ করুন

গর্ভাবস্থায় অ্যালকোহল গ্রহণ করা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলুন। এইসময় মা যদি মদ্যপান করেন তাহলে তা গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। মদ্যপান করলে, অ্যালকোহল মায়ের রক্ত প্রবাহে প্রবেশ করে। অ্যালকোহল প্লাসেন্টা অতিক্রম করে এবং শিশুর কাছে পৌঁছে যায়। যার ফলে শিশুর শারীরিক ক্ষতি হতে পারে। খুব বেশি মদ্যপান করলে, গর্ভপাতের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া, জন্মের সময় শিশুর ওজন কম হওয়া, শিশুর হার্টের সমস্যা, আচরণগত ব্যাধি অথবা ফেটাল অ্যালকোহল স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারের মতো বিভিন্ন গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৩) কিছু বিশেষ খাদ্য, খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিন

৩) কিছু বিশেষ খাদ্য, খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিন

গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে কিছু বিশেষ খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করুন, যেমন - শেলফিশ, নির্দিষ্ট ধরনের চিজ, ক্যাফিন, কাঁচা ডিম, বেশিরভাগ সামুদ্রিক খাদ্য, কাঁচা মাংস প্রভৃতি। এই সকল খাদ্য গর্ভাবস্থায় ক্ষতিকর হতে পারে। এছাড়া, ব্যাকটেরিয়া সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াও এই সময় এড়িয়ে চলা উচিত, নাহলে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকতে পারে, এর ফলে নবজাতকের ইনফেকশন বা স্টিলবার্থ এবং গর্ভপাতের মতো ক্ষতিও হতে পারে।

৪) সানবাথ এবং সনা এড়িয়ে চলুন

৪) সানবাথ এবং সনা এড়িয়ে চলুন

গর্ভাবস্থায় ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। হিটস্ট্রোক ভ্রুণের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। তাই এই সময় সানবাথ এড়িয়ে চলুন। গর্ভাবস্থায় সনা নেওয়ার ফলে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, যার ফলে ডিহাইড্রেশন এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৫) কঠিন ব্যায়াম করবেন না

৫) কঠিন ব্যায়াম করবেন না

গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা ব্যায়াম বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে এইসময় যেকোনও ধরণের কঠিন শরীরচর্চা করা থেকে বিরত থাকুন। ভারী কাজ এবং কঠিন শরীরচর্চা ভ্রুণের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। গর্ভপাতও হতে পারে।

৬) নিজে থেকে কোনও ওষুধ খাবেন না

৬) নিজে থেকে কোনও ওষুধ খাবেন না

গর্ভাবস্থায় থাকাকালীন চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ ছাড়া, নিজে থেকে কোনও ওষুধ কখনই গ্রহণ করবেন না। এতে মা এবং ভ্রুণ, উভয়েরই ক্ষতি হতে পারে।

প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলুন

প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলুন

প্রক্রিয়াজাত খাবারে ফুড অ্যাডিটিভ এবং পদার্থ থাকে, যা ভ্রূণের বিকাশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ক্ষতিকর। ফুড অ্যাডিটিভস-এ সোডিয়াম নাইট্রেট ট্রেস এবং ক্যান্সার সৃষ্টিকারী পদার্থ থাকে, যা আপনার স্বাস্থ্যের পাশাপাশি গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। তাই প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেজড ফুড আইটেম এড়িয়ে চলাই ভাল। এছাড়াও, ফল এবং শাকসবজি খাওয়ার আগে অবশ্যই ভাল করে জলে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে খাবেন।

Disclaimer : এই আর্টিকেলটি সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লেখা। তাই কোনও কিছু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সহায়তা নেবেন এবং তাদের পরামর্শ মেনে চলবেন।

X
Desktop Bottom Promotion