মরনত্তর জীবন: সত্যিই কি মৃত্যুর পরেও কোনও জীবন রয়েছে? বিজ্ঞান কী বলছে...

Posted By:
Subscribe to Boldsky

বেশ কিছু বছর আগে প্রায় ২,০৬০ জনের উপর একটা গবেষণা করা হয়েছিল। মৃত্য়ুর পরেও জীবন আছে কিনা, সেই বিষয়টি নিয়ে জানতে এই গবেষণাটি ছিল সব থেকে বড় মাপের। এর থেকে একটা জিনিস প্রমাণিত হয়েছিল যে মৃত্য়ুর পরে, অর্থাৎ হার্ট কাজ করা বন্ধ করে দেওয়ার পরেও আমাদের চিন্তা বা "থটস" বেঁচে থাকে। সহজ কথায় স্থুল শরীর তো চলে যায়, কিন্তু সুক্ষ শরীরে যেন মৃত ব্যক্তির অস্তিত্ব তখনও যেন থেকে যায়। কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। একদল মনে করেন, এই জীবনের ওপারেও নাকি একটা জগৎ রয়েছে, মৃত্যুর পরে সবার নাকি ঠিকানা হয় সে জায়গা। এই ধরণাটাকে কি বিজ্ঞান মেনে নেয়? না, বিজ্ঞান এমন কোনও ধরণাকে মান্যতা দেয় না।

বেশ কিছু বছর আগে প্রায় ২,০৬০ জনের উপর একটা গবেষণা করা হয়েছিল

তাহলে মৃত্যুর পরে কী হয়?

হার্ট থেমে যাওয়ার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে মস্তিষ্কের মৃত্যু ঘটে। সেই সময়ই মানব শরীরের অবসান ঘটে। কিন্তু আত্মা বলে যে ধারণা আছে তার অবস্থা কী হয়, সে বিষয়ের উপর কিন্তু বিজ্ঞান সেভাবে আলোকপাত করেনি। কেন করবেই বা বলুন আধুনিক বিজ্ঞান যে আত্মা বলে কিছু আছে এমনটা মেনেই নেয় না। যদিও এর পরেও বিজ্ঞানি মহলে মৃত্যুর পরে কী ঘটে, সে নিয়ে উৎসাহের অবসান ঘটেনি। তারা একটা জিনিস মেনে নিয়েছেন, মৃত্যুর পর কিছু থাকুন বা না থাকুক মানুষের ভাবনা-চিন্তা বা অবচেতন মন কিন্তু তখনও বেঁচে থাকে। একেই হয়তো একদল মানুষ আত্মার গমন কাল বলে বিবেচিত করে থাকেন। এক কথায় বিজ্ঞান যাকে ভাবনা বলছে, ধর্ম তাকে বলছে আত্মা। তাই সত্যটা যে কি সেটা নিশ্চয় বুঝতে অসুবিধা হয় না। যদি বিজ্ঞানকে মেনে নেন তাহলে মানতেই হবে আত্মা বলে কিছু নেই। আর যদি উল্টো পথে হাঁটেন তাহলে একথা মেনে নিতেই পারেন যে মৃত্যুর পরেও জীবন থাকে, যেখানে আমাদের আত্মারা গিয়ে ঘর বাঁধে।

বেশ কিছু বছর আগে প্রায় ২,০৬০ জনের উপর একটা গবেষণা করা হয়েছিল

গবেষণায় কি এমন কোনও কথা প্রমাণিত হয়েছে যে মৃত্যুর পর জীবন নেই:

অস্ট্রিয়া, ইংল্যান্ড এবং আমেরিকা থেকে একত্রিত করা এই ২,০৬০ জন, হার্ট অ্যাটাকের কারণে একেবারে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিল। এদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশের বক্তব্য ছিল, তারা অজ্ঞান থাকাকালীন এমন কিছু ভবনার সম্মুখিন হয়েছিল, যা পরে তারা শত ছেষ্টা করেও মনে করতে পেরেননি। এই অবস্থাকেও অনেকে আলাদা জগৎ হিসেবে বিবেচিত করে থাকেন, আদতে যা হয় ভাবনা বা সচেতন চিন্তা। প্রসঙ্গত, এই ৪০ শতাংশের মধ্যে ২ শতাংশ শুধু বলেছিলেন তাদের মনে হয়েছিল যেন কোনও কিছু তাদের শরীর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, যেমনটা সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করেন যে মৃত্যুর পরে আত্মা শরীরের বাইরে বেরিয়ে আসে। যদিও বাকি ৩৮ শতাংশ একটা বিষয়ে এক মত ছিলেন যে, তাদের যখন অর্ধ মৃত ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছিল, তারা তখনও আশপাশের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলেন। ফলে ভয় লাগছিল তাদের।

বেশ কিছু বছর আগে প্রায় ২,০৬০ জনের উপর একটা গবেষণা করা হয়েছিল

তাহলে আত্মা বেরনোর ধরমা ভুল?

এই কেস স্টাডিতে অংশ নেওয়া ৫৭ বছরের এক ব্যক্তি দাবি করেছিলেন তিনি মৃত্য়ুর আগে শরীরে বাইরে কিছু বেরিয়ে আসছে, এমনটা অনুভব করেছিলেন। তাহলে কি সত্যিই এমন কিছু ঘটে থাকে? একেবারেই না। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, হার্ট কাজ করা বন্ধ করে দেওয়ার আগে ইলিউশন বা হ্যালুসিনেশন গোচের হতে পারে রোগীর। সেক্ষেত্রে মনে হতে পারে আত্মার মতো কিছু শরীর থেকে বেরিয়ে আসছে। কিছু সময় হার্ট বন্ধ থাকার পর পুনরায় কাজ করা শুরু করলেও এমন ইলিউশন হতে পারে। তাই আত্মা বেরিয়ে আসার বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়াই ভাল।

বেশ কিছু বছর আগে প্রায় ২,০৬০ জনের উপর একটা গবেষণা করা হয়েছিল

মৃত্য়ুর পরের এই ভবনা থটস কতক্ষণ পর্যন্ত বেঁচে থাকে?

একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে হার্ট কাজ করা বন্ধে করে দেওয়ার পরেও কয়েক মিনিট পর্যন্ত জীবিত থাকে ভাবনা বা কনসিয়াসনেস। হয়তো এই কারণেই মনে করা হয় মৃত্যুর পরে কোনও এনার্জি বা শক্তি অন্য কোনও জগতে যাত্রা শুরু করে, যার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তাই সব শেষে একথা বলতেই হয় যে, মৃত্যু মানেই শেষ। সবকিছুটে ফুলস্টোপ পরে যাওয়া। এরপর আর কিছুই থাকে না। তাই আত্মার অস্তিত্বকে মেন নেওয়াটা মনের ভুল বা বোকামি ছাড়া কিছুই নয়, অন্তত বিজ্ঞান তাই বলছে। যদিও এত কিছুর পরেও তর্ক শেষ হয়নি। আশা করা যেতে পারে আগামী দিনে এই বিষয়ে আরও কিছু জানতে পারা যাবে। তবে ততদিন পর্যন্ত বিজ্ঞান আর অন্ধবিশ্বাসের এই লড়াই চলতেই থাকবে, আমরা খুঁজতে থাকবো সেই উত্তর- "মৃত্য়ুর পরেও কি কোনও দুনিয়া রয়েছে?"

English summary
in a large scale study of more than 2,000 people, British boffins confirmed that thoughts DO carry on after the heart stops.The shock research has also uncovered the most convincing evidence of an out of body experience for a patient declared dead.
Please Wait while comments are loading...