MasterChef Australia 13 : বাঙালি কন্যার হাত ধরে পান্তা ভাত ও আলু ভর্তার জয়জয়কার অষ্ট্রেলিয়ায়!

পান্তা! এটা আবার খাবার নাকি? আজ্ঞে হ্যাঁ, এই আধুনিক যুগে বহু মানুষের কাছে 'পান্তা' নামক খাবারটি বড্ড সেকেলে। কিন্তু আজও পান্তাভাতের নামে কারও কারও জিভে জল চলে আসে। কন্টিনেন্টাল, চাইনিজ, ইতালিয়ান, ইত্যাদি খাবারের পাশাপাশি গ্রামবাংলার মানুষের কাছে ও বাঙালির ঘরে ঘরে এই খাবারটি আজও চিরন্তন এবং পছন্দের। পান্তাভাতের সঙ্গে ঝাল ঝাল আলু মাখা, মাছ ভাজা, কাঁচা পেঁয়াজ ও শুকনো লঙ্কা পোড়া বা কাঁচা লঙ্কা, সে যেন এক স্বর্গীয় অনুভূতি! তবে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই নয়, অসম, ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ডের নানা অঞ্চলেও এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার।

MasterChef Australia Season 13 : Kishwar Chowdhurys finale dish has got the Internet talking

এই পান্তা ভাত পরিবেশন করেই বাঙালি তনয়া 'মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া'-তে তৃতীয় স্থান অধিকার করে নজর কেড়েছেন বিশ্বের কাছে। মানুষের মন জয় করেছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কিশ্বর চৌধুরী।

মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া-র ত্রয়োদশ সিজনের অন্যতম প্রতিযোগী ছিলেন কিশ্বর চৌধুরী। প্রত্যেকটি ধাপ সাফল্যের সঙ্গে পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছেছিলেন। আর শো-এর ফাইনাল এপিসোডেই তিনি বিচারকদের প্লেট সাজিয়ে দিলেন পান্তা ভাত ও আলু ভর্তা দিয়ে। কিশ্বর এই পদের নাম দিয়েছিলেন 'স্মোকড রাইস ওয়াটার'। পান্তার সঙ্গে আলু ভর্তা ছাড়া, মাছ ভাজাও পরিবেশন করেছেন তিনি। এই শোয়ে এর আগেও তিনি বেগুন ভর্তা, খিচুড়ি, ফুচকা এবং আরও অনেক বাঙালি পদ রান্না করেছেন। প্রশংসাও পেয়েছেন সকলের কাছ থেকে।

ফাইনাল রাউন্ডে বিচারকের আসনে ছিলেন মেলিসা লিয়ং, অ্যান্ডি অ্যালেন ও জোক জোনফ্রিলো। কিশ্বরের রাঁধা এই বাঙালি পদটি মন জয় করেছে ভিনদেশি বিচারকদেরও। বিশ্বের দরবারে দেশের সংস্কৃতি এই ভাবে তুলে ধরার জন্য দুই বাংলার মানুষ কিশ্বরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বিচারকদের কিশ্বর বলেন, "কোনও রেস্তোরাঁয় এই খাবার পাওয়া যায় না। চূড়ান্ত পর্বে এই রান্না করতে সত্যি বেশ ভয় করছিল। তবে নিজেকে সম্মানিত বোধও করছি।'

যদিও শেষ পর্যন্ত জয়ের মুকুট ওঠেনি তাঁর মাথায়। এই প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত জাস্টিন নারায়ণ, দ্বিতীয় হলেন পিটার ক্যাম্পবেল এবং তৃতীয় কিশ্বর চৌধুরি৷

পেশায় প্রিন্টিং ব্যবসায়ী ৩৮ বছর বয়সী কিশ্বর চৌধুরি। তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা অষ্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে। অষ্ট্রেলিয়ায় গ্র্যাজুয়েশন করার পর, লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অফ আর্টস-এ গ্রাফিক ডিজাইন নিয়ে লেখাপড়া করেছেন। পরে গিয়েছিলেন জার্মানিতে। এরপর ছয় বছর ছিলেন বাংলাদেশে। সেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ২০১৫ সালে তিনি ফেরেন মেলবোর্নে৷

X
Desktop Bottom Promotion