স্ট্রিটফুড খেতে ভালোবাসেন? রইল কলকাতায় সেরা স্ট্রিটফুডের ঠিকানা

By Bhagysree Sarkar

শহর কলকাতা এবং এখানকার স্ট্রিট ফুড। খেতে যেমন সুস্বাদু, দামেও কিন্তু সস্তা। একটু ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে, এই শহরে বিভিন্ন ধরনের মানুষের বাস ছিল একসময়। যেমন- পারসি, ইরান, চাইনিজ, আর্মেনিয়ান, বিহারী, সাউথ ইন্ডিয়ান, গুজরাতি, পাঞ্জাবি সহ আরও অনেক। অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন, প্রায় গোটা বিশ্বের বেশ কিছু প্রান্তের মানুষজনের বাস ছিল এক সময়। যারজন্য তাঁদের রীতি-নীতি, খাবারের ধরন সবই খানিকটা এখনও বর্তমান শহর কলকাতার বুকে।

তবে আপনি ভোজনরসিক হোন বা না হোন, কলকাতার স্ট্রিট ফুড আপনাকে টানবেই। আর এটাই খুব স্বাভাবিক। পুজোর সময় হোক বা সন্ধ্যার স্ন্যাস্ক, মাঝে মধ্যে একটু স্ট্রিট ফুড হলে ক্ষতি নেই। তাই অবশ্যই ঘুরে যেতে হবে আপনাকে কলকাতার নামী স্ট্রিট ফুড সেন্টারগুলিতে। ফুচকা, চপ, সিঙ্গারা থেকে শুরু করে ঝালমুড়ি, পাপড়ি চাট, পাওভাজি কী নেই? সব খাবারেরই

street food

ভাণ্ডার বলা চলে শহর কলকাতাকে। কিন্তু এদের মধ্যে সেরাটা পাবেন কোথায়? জানা আছে কি? না থাকলে চলুন জেনে নেওয়া যাক-

  • ফুচকা:

ফুচকা একটি অতি জনপ্রিয় সুস্বাদু মুখরোচক খাবার। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শহরাঞ্চলে প্রায় সর্বত্রই এই খাবারের চল রয়েছে। তবে অঞ্চলভেদে এটি বিভিন্ন নামে পরিচিত। বাংলায় এটি "ফুচকা" নামে পরিচিত। আবার উত্তর ভারতে এটির পরিচিতি "গোল-গাপ্পা", পশ্চিম ভারতে "পানি-পুরি"। তবে কলকাতায় কোথায় পাবেন বেস্ট ফুচকা, জানতে চান? তাহলে আপনাকে অবশ্যই ট্রাই করতে হবে-
বিবেকানন্দ পার্কের কাছে, সাউদার্ন অ্যাভিনিউ
হাতিবাগান, শ্যামবাজার
দক্ষিণাপনের বাইরে, ঢাকুরিয়া

  • কাঠি রোল:

কাঠি রোল, এই খাবার মিস করলে চলবে কীভাবে? কলকাতার আইকনিক স্ট্রিট ফুডে রয়েছে পরোটা সঙ্গে রসালো চিকেন এবং মটন কাবাবের এক দুর্দান্ত টেস্ট। যা দেখলেই আপনি নিজেকে আটকাতে পারবেন না। সন্ধ্যার সময় একটি গরম কাঠি রোল হলে সারাদিনের ক্লান্তি দূর হবেই।

কলকাতায় সুস্বাদু কাঠি রোল খেতে হলে আপনাকে যেতে হবে-
পার্ক স্ট্রিটে হট কাঠি রোল এবং কুসুম রোল সেন্টারে

  • কচুরি:

কচুরি একধরনের মুখরোচক বাঙালীর প্রিয় খাবার। কলকাতায় ছোট, বড়, মাঝারি সব রকমের স্বাদযুক্ত কচুরির দোকান দেখা যায়। খাস্তা হিঙের জিভে জল আনা কচুরি, সঙ্গে আলুর তরকারি। জমে ওঠে বাঙালীর জলখাবার। কলকাতায় কচুরি খাওয়ার চল বহু বছর ধরেই চলে আসছে। খাস্তা কচুরিই হোক বা সাধারণ কচুরি, সুস্বাদু এই খাবার পছন্দ করেন সব বয়সের মানুষই। এই খাবার একেবারে মনে করিয়ে দেবে লখনউ এবং বারাণসীর রাস্তার কথা। তবে এর স্বাদ আরও বাড়িয়ে তোলে এর সঙ্গে দেওয়া আলুর খুব সাধারণ তরকারি। কোথায় পাবেন শহরের বেস্ট কচুরি?
শহরের সেরা কচুরি খেতে আপনি যেতে পারেন-
বাদরি কি কচোরি, বড় বাজার, জোড়া শঙ্খ,
মহারাজ স্ন্যাকস, দেশপ্রিয় পার্কশর্মা স্ন্যাকস সেন্টার, ভবানীপুর

  • চাট:

পাপড়ি চাট, ভেলপুরি, দহি ভাদা, সেভ পুরি, সমোসা চাট এবং আরও অনেক কিছুই রয়েছে তালিকায়। এই সুস্বাদু খাবারগুলি কোনও সময়েই মন জয় করতে ব্যর্থ হয় না। যদিও বিভিন্ন ধরণের চাটের বিভিন্ন আঞ্চলিক উৎস রয়েছে, আপনি সবগুলিই কলকাতায় পাবেন। শহরের বাইরে পাওয়া চাটগুলির চেয়ে খাস্তা এবং শুষ্ক হয় এগুলি।
সুস্বাদু চাট খেতে হলে আপনাকে যেতে হবে-
শ্যাম বাজার, হাতিবাগান এলাকায় রাস্তার পাশের দোকানে

  • কাটলেট:

কাটলেট হল মাংস বা সবজি দিয়ে তৈরি একটি রান্নার পদ, যা ফেটানো ডিমের মধ্যে ডুবিয়ে এবং তারপরে উপরে বিস্কুট অথবা পাউরুটির গুঁড়ো মাখিয়ে ডুবোতেলে কড়া ভাজা হয়। এটি কেচাপ, কাসুন্দি দিয়ে পরিবেশন করা হয়। এটি একটি জনপ্রিয় জলখাবার।
সুস্বাদু কাটলেট খেতে হলে আপনাকে যেতে হবে-

চিত্তোদার সুরুচি রেস্টুরেন্ট, জেমস হিচেক সরণিশঙ্করের ফ্রাই, পন্ডিতিয়া রোড
অ্যালেন কিচেন, যতীন্দ্র মোহন এভিনিউ

  • চপ:

চিংড়ির চপ, কিমা চপ, মাংসের চপ, আলুর চপ- এই তালিকার যেন শেষ নেই কোনও। কলকাতার একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত জুড়ে শুধুই চপের জনপ্রিয়তা। ভাতঘুম সেরে হোক বা অফিস থেকে ফেরার পথে চপেপ বিকল্প নেই বাঙালীদের কাছে। চপ মূলত একটি মশলাদার ভর্তা, বেসনের বাটাতে ডুবিয়ে সোনালি এবং খাস্তা হওয়া পর্যন্ত ভাজা হয়।
সুস্বাদু চপ খেতে হলে আপনাকে যেতে হবে-
আপনঞ্জন, কালীঘাট
মিত্র ক্যাফে, শোভাবাজারদাস কেবিন, গড়িয়াহাট বাজার

  • চাউমিন:

চাউমিন একটি চাইনিজ খাবার যা ভাজা নুডলস এর সাথে সবজি এবং অনেকসময় মাংস দিয়ে বানানো হয়। যুগ যুগ ধরে, চিনের বিভিন্ন অঞ্চল চাউমিনের নানা পদ সম্প্রসারিত করেছে। আপনি যদি কলকাতায় থাকেন, তাহলে আপনাকে অবশ্যই শহরের রাস্তার কোণে পাওয়া চাউমিন খেতে হবে। এই হাক্কা নুডলটির বেশ ফ্যান বেস রয়েছে, যা খেতে সন্ধ্যায় রাস্তার ধারে বসা ফুড স্টলে ভিড় জমে।
সুস্বাদু চাউমিন খেতে হলে আপনাকে যেতে হবে-
টেরিটী বাজার এবং চায়না টাউনে রেস্তোরাঁ এবং স্টিট স্টলগুলিতে

  • ঘুগনি:

ঘুগনি সন্ধ্যাকালীন এই খাবার খেতে পছন্দ করেন সব বয়সের মানুষেরাই। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারতে (ভারতের বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ) , উত্তর-পূর্ব ভারত (ভারতের অসম ও ত্রিপুরা) জনপ্রিয়। আপনি এটিকে শুধু খেতে পারেন বা পাও, রুটি এবং পুরীর সঙ্গেও খেতে পারেন। মশলা, তেঁতুলের জল, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ এবং উপরে ধনে দিয়ে পরিবেশন করা হয়। ঘুগনি আপনার বাড়িতেও সহজেই তৈরি করা যায়।

  • মালাই টোস্ট:

সকালে মধ্য ও উত্তর কলকাতার যেকোনো চায়ের স্টলে যান, আপনি একটি সুস্বাদু ব্রেকফাস্টের জন্য মালাই টোস্টের কম্বিনেশন দেখতে পাবেন। এটি মূলত একটি ব্রেডের উপর মালাই এবং সাদা চিনি দিয়ে পরিবেশন করা হয়। খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনই এটি দেখতেও বেশ লোভনীয়।

Story first published: Thursday, May 16, 2024, 14:47 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion