প্লাস্টিক, আবর্জনার বিনিময়ে মিলবে বিনামূল্যে খাবার! ছত্তিশগড়ে চালু হল অভিনব 'গার্বেজ ক্যাফে'

প্লাস্টিক, আবর্জনা জমা দিলেই মিলবে বিনামূল্যে খাবার! ঠিক এরকমই কথা শোনা গেল ছত্তিশগড়ে। শহর পরিষ্কার রাখতে এক অসাধারণ পদক্ষেপ নিল ছত্তিশগড়ের এক পৌর কর্পোরেশন, যার নাম ' গার্বেজ ক্যাফে'। ভারতে প্রথমবার এই অভিনব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, কর্তৃপক্ষ এর জন্য ৬ লাখ বাজেটও ধার্য করেছে।

ছত্তিশগড়ের অম্বিকাপুর পৌর কর্পোরেশন (AMC) স্থাপন করেছে ' গার্বেজ ক্যাফে', যেখানে প্লাস্টিক বা কোনও ধরনের বর্জ্য জমা দিলে বিনামূল্যে খাবার পাওয়া যাবে। এটা মূলত দরিদ্র ও গৃহহীন মানুষের কথা ভেবে তৈরি করা হয়েছে। শুধুমাত্র খাবারই নয়, অন্তত ১০০ জন গৃহহীন মানুষের জন্য আশ্রয় প্রদানের লক্ষ্যও রয়েছে এই প্রকল্পের।

garbage

এক কিলো প্লাস্টিক, বর্জ্যের পরিবর্তে বিনামূল্যে পেট ভর্তি খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। ৫০০ গ্রাম বর্জ্য জমা দিলে পাওয়া যাবে ব্রেকফাস্ট। আমেরিকা, ইউরোপ এবং কম্বোডিয়ায় এই ধরনের ক্যাফে জনপ্রিয়। জানা গেছে, অম্বিকাপুরে সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে এই প্লাস্টিক ও বর্জ্যগুলি ব্যবহার করা হবে। শুধুমাত্র অম্বিকাপুরেই এই ধরনের রাস্তা দেখা যাবে, তা নয়। এর আগেও এ রাজ্যে প্লাস্টিক ব্যাগের সঙ্গে অ্যাসফল্ট মিশিয়ে এই ধরনের রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।

মেয়র অজয় তিরকি জানিয়েছেন, এই ছোটো ক্যাফেটি দরিদ্র ও গৃহহীন মানুষদের খাবার সরবরাহ করবে। এটি আমাদের শহরকে পরিষ্কার রাখতেও সাহায্য করবে। এর জন্য ৬ লাখ টাকা বাজেটও ধার্য করা হয়েছে।

প্রায়ই শোনা যায় অনাহারে-অপুষ্টিতে মারা যাচ্ছে মানুষ। ভারতেও দরিদ্রতা, অনাহার, অপুষ্টির হার অনেক বেশি। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ ভুগছে অনাহারে-অপুষ্টিতে। অথচ, প্রতিদিনই প্রচুর খাবার নষ্ট হয়। গতবছর দিল্লিতে অনাহারে একসঙ্গে তিন বোনের মৃত্যুর কথা শোনা গেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের কথা ও আমরা শুনেছি, যেখানে অনাহারে প্রচুর শিশু মারা গেছে। খিদে যাতে শিশুদের পড়াশুনার পথে বাধা না হয় তার জন্য সারা ভারতে মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা করেছে ভারত সরকার। কিন্তু এর পরেও শেনা যায় বহু শিশু অনাহারে এবং অপুষ্টিতে মারা যাচ্ছে। এমনও শোনা গেছে, খিদের জ্বালা মেটাতে ইঁদুর, খরগোশ পুড়িয়ে খেতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ।

এরকম অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছত্তিশগড়ে 'গার্বেজ ক্যাফে' এক অনন্য পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেকেই। এর ফলে যেমন অনাহার-অপুষ্টির হার কমবে, তেমনই পরিবেশে পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকবে। প্লাস্টিক দূষণের হারও অনেকটা কমবে।

অম্বিকাপুরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আবর্জনা সংগ্রহকারীরা আগে টাকার বিনিময়ে আবর্জনা সংগ্রহ করত। কিন্তু, এখন প্লাস্টিক, আবর্জনা সরকারকে দিলেই তার বিনিময়ে খাবার পাওয়া যাবে। ফলে আমাদের শহর আরো পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর হয়ে উঠবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের ২০১৯ এর স্বচ্ছ্তা সমীক্ষা অনুযায়ী, অম্বিকাপুরকে ভারতের দ্বিতীয় পরিচ্ছন্নতম শহর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

Story first published: Friday, July 26, 2019, 10:20 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion