এই শীতে সর্দি-কাশির খপ্পর থেকে বাঁচতে চান তো?

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে বছরের এই সময় যদি কয়েকটি ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া যায়, তাহলে শরীর ভিতর থেকে এতটা শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে জ্বর,সর্দি এবং কাশি, এই ত্রয়ী আপনার ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না।

By Nayan

শীত মানে কী? কী আবার তাপমাত্রা কমে যাওয়া। আরে বাহহহহ....! আপনার উত্তর শুনে নেবেল কমিটি না এবার আপনাকেই বিশেষ ক্যাটাগরিতে নোবেল দিয়ে দেয় মশাই! আরে সে তো সবাই জানে শীত মানে ঠান্ডা পরা, এ আর নতুন কথা কী! আমি বলছি শীত মানে কী কী বিষয়ের সঙ্গে আমরা এই মরসুমকে রিলেট করতে পারি!

আচ্ছা আচ্ছা এমনটা বলছেন! তাহলে তো বলতে হয় শীত মানে ভুরিভোজ, পিকনিক, ২৫ ডিসেন্বরের পার্টি আর অবশ্যই ঠান্ডা লেগে নাক ফচফচ করা। এবার একশোয় একশো মশাই! একেবারে ঠিক বলেছেন! আর এই নাক ফচফচের হাত থেকে বাঁচা যায় কিভাবে সে সম্পর্কে কোনও জ্ঞান আছে কি?

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে বছরের এই সময় যদি কয়েকটি ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া যায়, তাহলে শরীর ভিতর থেকে এতটা শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে জ্বর,সর্দি এবং কাশি, এই ত্রয়ী আপনার ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না। শুধু তাই নয়, সেই সঙ্গে সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমবে।

সবই তো বুঝলাম! কিন্তু কী কী ভিটামিনকে এ সময় গুরুত্ব দিতে হবে, সে সম্পর্কে তো কিছু বললেন না মশাই! আরে বন্ধু সেই নিয়েই তো বাকি প্রবন্ধে আলোচনা করা হল।

১. ভিটামিন ডি:

১. ভিটামিন ডি:

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তোলার পাশাপাশি দূষণ এবং নানাবিধ সংক্রমণের হাত বাঁচাতেও এই ভিটামিনটি সাহায্য করে। তাই শীতকালে শরীরে যাতে কোনও ভাবেই এই ভিটামিনটির ঘাটতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর এই কাজটি করবেন কিভাবে? খুব সহজ! প্রতিদিন সকালে কিছুটা সময় গায়ে রোদ লাগান। তাহলেই কেল্লাফতে! কারণ সূর্যালোক যখন আমাদের ত্বকের উপর আছড়ে পরে, তখন বিপুল পরিমাণে ভিটামিন ডি তৈরি হয় দেহের অন্দরে। এছাড়াও মাশরুম, মাছ এবং ডিম খেলেও শরীরে এই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দূর হয়।

২. ভিটামিন সি:

২. ভিটামিন সি:

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তুলতে ভিটামিন সি-এর কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। সেই কারণেই তো সারা বছর ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। আর শীতকালে যেহেতু এমনিতেই নানাবিধ ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়, তাই এই সময় তো বেশি করে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার, যেমন- পাতি লেবু, কমলা লেবু, কর্নফ্লাওয়ার, আপেল এবং পেয়ারা খেতে হবে।

৩. প্রোটিন:

৩. প্রোটিন:

মানব শরীরকে চালাতে জলের পরেই যার নাম আসে সে হল প্রোটিন। এই উপাদানটি ছাড়া শরীরের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। তাই তো প্রোটিনের ঘাটতি যেন কোনও সময় না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে, বিশেষত শীতকালে। কারণ এই সময় এমনিতেই নান কারণে শরীর বেশ দুর্বল হয়ে পরে। তার উপর যদি ঠিক মতো প্রোটিনের যোগান না হয়, তাহলে আরও বিপদ! তাই শীতকালে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার, যেমন-মাছ, মাংস, ডিম, দুধ এবং পনির বেশি করে খেতে ভুলবেন না যেন!

৪. জিঙ্ক এবং সেলেনিয়াম:

৪. জিঙ্ক এবং সেলেনিয়াম:

শরীর তখনই সফলভাবে সংক্রমণের সঙ্গে লড়াই করতে পারবে, যখন জিঙ্ক এবং সেলেনিয়ামের ঘাটতি দূর হবে। কারণ এই দুটি উপাদান রোগ প্রতিরাধী ব্যবস্থাকে এতটা শক্তিশালী করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো রোজের ডায়েটে মাশরুম, পালং শাক, মুরগির মাংস এবং বাঁধা কোপি থাকা মাস্ট!

৫. ভিটামিন এ:

৫. ভিটামিন এ:

শরীরের বহিরাংশে যে কোষেরা রয়েছে, তারা হল দেহের প্রথম ডিফেন্স সিস্টেম। তাই তো ছোট-বড় নানা রোগ থেকে দূরে থাকতে হলে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে। আর এই কাজটি করা তখনই সম্ভব হবে, যখন দেহে ভিটামিন এ-এর ঘাটতি দূর হবে। আসলে এই বিশেষ ধরনের ভিটামিনটি ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসদের প্রতিরোধ করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো শীতকালে সুস্থ-সবল থাকতে বেশি করে খেতে হবে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার, যেমন- রাঙা আলু, ব্রকলি, গাজর, পালং শাক,মাছ, মাংস, ডিম প্রভৃতি।

৬. হলুদ:

৬. হলুদ:

এই মশলাটির অন্দরে উপস্থিত কার্কিউমিন নামক একটি উপাদান একদিকে যেমন শরীরের অন্দরে হতে থাকা প্রদাহ কমায়, তেমনি দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও ব্য়াপোক শক্তিশালী করে তোলে। প্রসঙ্গত, হলুদের শরীরে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজ এবং নানাবিধ ডিটক্সিফাইং এজেন্টও এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৭. রসুন:

৭. রসুন:

হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তুলতে রসুনের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই তো এই শীতকালে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক কোয়া করে রসুন খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে।

Story first published: Thursday, November 30, 2017, 15:13 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion