আমের পাতা যদি খেতে পারেন তাহলে কত উপকার মেলে জানেন?

Written By:
Subscribe to Boldsky

ফলের রাজা যখন বাজার মাতায়, পাতার ভাগ্যে জোটে তখন শুধু পুজোর ঘট! কিন্তু এই প্রাকৃতিক উপাদানটি দেব আরাধনায় লাগার পাশাপাশি আরও কত যে কাজে লাগতে পারে সে বিষয়ে কারোরই জ্ঞান নেই। তাই তো আম পাতার আজ এই হাল!

কথায় বলে না, দেখে বোঝা সম্ভব নয়, কার মধ্যে কী গুণ লুকিয়ে! আমের পাতার ক্ষেত্রেও এই কথাটি সবদিক থেকে ঠিক। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে বেশ কিছু মারণ রোগেকে দূরে রাখতে আম পাতার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটির শরীরে থাকা ভিটামিন সি, বি, এ এবং আরও সব উপকারি উপাদান মানব শরীরকে ভিতর থেকে এতটাই শক্তিশালী করে তালে যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। তাই তো এই শীতে শরীরকে চাঙ্গা রাখতে আমের সন্ধান না পেলেও আম পাতাকে কাজে লাগাতেই পারেন!

প্রসঙ্গত, আম পল্লবের অন্দরে আরেকটি উপকারি উপাদান থাকে, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে অ্যান্টিঅ্যাক্সিডেন্ট নামে পরিচিত। এই উপাদানটি ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই আর অপেক্ষা না করে চলুন জেনে নেওয়া যাক প্রতিদিন আম পাতা খাওয়ার অভ্যাস করলে কী কী উপকার মেলে, সে সম্পর্কে।

১. ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে:

১. ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে:

ক্রমশ ভয়ঙ্কর রূপ নিতে থাকা এই মারণ রোগটিকে লাগাম পরাতে যেকটি প্রকৃতিক উপাদান বিশেষ ভূমিকা নেয়, আম পাতা তাদের মধ্যে অন্যতম। আসলে এর মধ্যে থাকা টেনিনস নামক এক ধরনের উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা এতটা বাড়িয়ে দেয় যে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার সুযোগই পায় না। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো আম পাতা নিয়ে সেগুলিকে শুকিয়ে পাউডার বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই পাউডার যে কোনও কিছুর সঙ্গে মিশিয়ে গ্রহণ করলেই কেল্লাফতে! আরেকভাবেই আম পাতাকে শরীরের কাজে লাগাতে পারেন। এক গ্লাস জলে পরিমাণ মতো আম পাতা চুবিয়ে সারা রাত রেখে দিন। পরদিন সকালে জলটা ছেকে নিয়ে পান করুন। এমনটা যদি কয়েকদিন করতে পারেন, তাহলে ডায়াবেটিস নিয়ে যে আর কোনও চিন্তাই থাকবে না, সে কথা হলফ করে বলতে পারি।

২. রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে:

২. রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে:

আম পাতার অন্দরে থাকা হাইপোটেনসিভ প্রপাটিজ শরীরে প্রবেশ করার পর ব্লাড ভেসেলের কর্মক্ষমতাকে এতটা বাড়িয়ে দেয় যে সারা শরীরে রক্তের প্রবাহে উন্নতি ঘটতে শুরু করে। সেই সঙ্গে রক্তচাপও স্বাভাবিক হয়ে যায়। তাই যাদের পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস রয়েছে, তারা আম পাতাকে কাজে লাগিয়ে এই মারণ রোগকে দূর রাখতেই পারেন।

৩. অ্যাংজাইটি কমায়:

৩. অ্যাংজাইটি কমায়:

গত কয়েকদিন নানা কারণে খুব টেনশনে আছেন? মনে হচ্ছে সব সময় হাত-পা কেমন যেন কাঁপছে, সেই সঙ্গে মনের জোরও কমতে বসেছে? তাহলে একেবারে সময় নষ্ট না করে আম পাতাকে কাজে লাগাতে শুরু করুন। কারণ বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত স্নানের জলে কয়েকটি আম পাতা ফেলে স্নান করলে মানসিক চাপ তো কমেই, সেই সঙ্গে শরীর এবং মন এতটা তরতাজা হয়ে ওঠে যে অ্যাংজাইটির প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না।

৪. কিডনি স্টোনের চিকিৎসায় কাজে লাগে:

৪. কিডনি স্টোনের চিকিৎসায় কাজে লাগে:

শুনতে একটু আজব লাগলেও বাস্তবিকই গল এবং কিডনি স্টোনের চিকিৎসায় এই প্রকৃতিক উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। বেশ কিছু কেস স্টাডিতে দেখা গেছে নিয়মিত এক গ্লাস জলে আম পাতার গুঁড়ো ফেলে সারা রাত রেখে পরদিন সকালে সেই পানীয় খেলে স্টোনের প্রকোপ কমতে একেবারেই সময় লাগে না। তাই আপনিও যদি এমন কোনও রোগে ভুগতে থাকেন, তাহলে নিশ্চিন্তে এই ঘরোয়া পদ্ধতিটিকে কাজে লাগিয়ে দেখতে পারেন। এমনটা করলে উপকার যে মিলবে, তা হলফ করে বলতে পারি।

৫. রেসপিরেটরি প্রবলেম কমাতেও দারুন কাজে আসে:

৫. রেসপিরেটরি প্রবলেম কমাতেও দারুন কাজে আসে:

গত কয়েক বছরে যে হারে কলকাতা সহ সারা রাজ্য়ে বায়ু দূষনের প্রকোপ বেড়েছে, তাতে আম পাতার গুরুত্বও বেড়েছে সমান তালে। আর কেন বাড়বে নাই বা বলুন! একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত এক গ্লাস জলে পরিমাণ মতো আম পাতা এবং মধু মিশিয়ে সেই জল ফুটিয়ে যদি খেতে পারেন, তাহলে শ্বাসকষ্ট, অ্যাস্থেমা এবং সর্দি-কাশির মতো রোগের প্রকোপ কমতে সময় লাগেই না। সেই সঙ্গে বায়ু দূষণের কুপ্রভাব যাতে বেশি মাত্রায় লাং-এর উপর প্রভাব ফেলতে না পরে, সেদিকেও খেয়াল রাখে আম পাতা।

৬. কানের ব্যথা দূর করে:

৬. কানের ব্যথা দূর করে:

শীতকালে ঠান্ডা লেগে কানে যন্ত্রণা হওয়ার ঘটনা প্রায়শই ঘঠে থাকে। তাই তো তাপমাত্রা কমার আগে প্রয়োজন মতো আম পাতা সংগ্রহ করে নিতে ভুলবেন না যেন! আসলে এক চামচ আম পাতার রস, একটু গরম করে যদি কানে দেওয়া যায়, তাহলে এই ধরনের সমস্যা কমতে একেবারে সময়ই লাগে না।

৭. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়:

৭. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়:

পরিমাণ মতো আম পাতা নিয়ে এক গ্লাস গরম জলে ফেলে দিন। তারপর সেই জলটি সারা রাত রেখে দিন। পরদিন সকালে উঠে খালি পেটে এই মিশ্রনটি পান করলে হজমে সহায়ক পাচক রসের ক্ষরণ বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বেরিয়ে গিয়ে হজম ক্ষমতার উন্নতিতে ঘটতে সময় লাগে না।

Read more about: রোগ, শরীর
English summary
Mango leaves are very useful for managing diabetes. The tender leaves of the mango tree contain tannins called anthocyanidins that may help in treating early diabetes. The leaves are dried and powdered, or used as an infusion to treat the same. It also helps to treat diabetic angiopathy and diabetic retinopathy. Soak the leaves in a cup of water overnight. Strain and drink this water to help relieve the symptoms of diabetes. It also helps in treating hyperglycemia.
Story first published: Tuesday, November 21, 2017, 10:56 [IST]
Please Wait while comments are loading...