প্রতি ৮ জন ভারতীয় মধ্যে এক জন ব্লাড প্রেসারের রোগী!

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের প্রকাশ করা রিপোর্ট অনুসারে গত কয়েক বছরে ভারতীয়দের মধ্যে যে হারে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তের সংখ্যাটা বেড়েছে, তা বেজায় চিন্তার কারণ।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের প্রকাশ করা রিপোর্ট অনুসারে গত কয়েক বছরে ভারতীয়দের মধ্যে যে হারে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তের সংখ্যাটা বেড়েছে, তা বেজায় চিন্তার কারণ। তবে সবথেকে ভয়ের বিষয় হল উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বেশিরভাগেরই বয়স ৩০ এর কাছাকাছি। ফলে এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে ভারতীয় যুবসমাজের একটা বড় অংশই এই মারণ রোগে আক্রান্ত, যা বেজায় চিন্তায় বিষয়। কারণ দীর্ঘ দিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা যায় বেড়ে।

প্রসঙ্গত, ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেল্থ সার্ভের অন্তর্ভুক্ত এই সমীক্ষাটি চালানো হয়েছিল ভারতের প্রায় ১০০ টি জেলার প্রায় ২২.৫ মিলিয়ান ভারতীয়দের উপর। গবেষণাটি চলাকালীন বিশেষজ্ঞরা লক্ষ করেছেন প্রায় ৮ জন ভারতীয়ের মধ্যে ১ জন করে ব্লাড প্রেসারের মতো রোগে আক্রান্ত, যা মোটেও স্বাভাবিক রেশিও নয়। তাই তো বলি বন্ধু, উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগের খপ্পরে পরতে যদি না চান, তাহলে এই প্রবন্ধে আলোচিত খাবারগুলি খেতে ভুলবেন না যেন!

প্রসঙ্গত, যে যে খাবারগুলি রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেগুলি হল...

১. তরমুজ:

১. তরমুজ:

শুনে নিশ্চয় অবাক হয়ে গেছেন? কিন্তু একথার মধ্যে কোনও ভুল নেই যে রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ফলটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে আনারসের অন্দরে উপস্থিত ফাইবার, ভিটামিন এ, পটাসিয়াম এবং লাইকোপেন, রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২. মিষ্টি আলু:

২. মিষ্টি আলু:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত এই সবজিটি খাওয়া শুরু করলে দেহের অন্দরে পটাশিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যা ব্লাড প্রসোরকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৩. কলা:

৩. কলা:

রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখার যদি ইচ্ছা থাকে, তাহলে ব্রেকফাস্টে কখনও কলা খেতে ভুলবেন না। কারণ এই ফলটির শরীরের থাকা পটাশিয়াম শরীরে প্রবেশ করার পর সোডিয়ামের মাত্রা কমাতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপ কমতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও কলার ভূমিকাকে মেনে নিয়েছে চিকিৎসক মহল।

৪. ওটস:

৪. ওটস:

ফাইবার সমৃদ্ধ এই খাবারটি নিয়মিত খেলে সিস্টোলিক প্রেসারের পাশাপাশি ডায়াস্টোলিক প্রেসারও কমতে শুরু করে। সেই কারণেই তো ব্লাড প্রেসার রোগীদের নিয়মিত ওটস খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

৫. পালং শাক:

৫. পালং শাক:

পালক পনির না ঠাকুমার হাতে রান্না করা পালং শাক, কোন পদটা খেতে বেশি মুখরোচক? আপনার উত্তর যাই হোক না কেন, তাতে কিছু এসে যায় না। মধ্যা কথা হল হার্টকে চাঙ্গা রাখতে এবং রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে প্রায় প্রতিদিনই পালং শাক খেতে হবে। কারণ এই শাকটির অন্দরে ঠাসা পটাশিয়াম, ফলেট, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফাইবার শুধু রক্তচাপ কমায় না, সেই সঙ্গে শরীরের একাধিক অঙ্গের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৬. জাম:

৬. জাম:

এই ফলটির শরীরে থাকা ফ্লেবোনয়েড নামক এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই উপাদানটি শরীর থেকে টক্সিক উপাদানদের বের করে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশেষভাবে সাহায্য করে থাকে।

৭. বিট:

৭. বিট:

রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই সবজির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে বিটে উপস্থিত নাইট্রিক অ্যাসিড ব্লাড ভেসেলের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সারা শরীরজুড়ে রক্তের প্রবাহ এতটাই বেড়ে যায় যে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার কোনও সুযোগই পায় না।

৮. অ্যাভোকাডো:

৮. অ্যাভোকাডো:

উচ্চ রক্তচাপের কারণে কি চিন্তায় রয়েছেন? তাহলে নিয়মিত এই ফলটি খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে। কারণ অ্যাভোকাডোর মধ্যে থাকা ওলেয়িক অ্যাসিড শুধুমাত্র ব্লাড প্রেসার কমায় না, সেই সঙ্গে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হর্টকে সুস্থ রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

Story first published: Friday, May 11, 2018, 17:52 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion