বছরের শেষে পুরনো সব আন্ডারওয়্যার ফেলে দেওয়া উচিত কেন জানেন?

Written By:
Subscribe to Boldsky

একবার এক বিজ্ঞাপনে শুনেছিলাম বাহ্যিক নয়, বরং ভেতরের জামা-কাপড় হওয়া চাই ব্রেন্ডেড এবং সাফ-সুতরা। কারণ তা না হলে শরীরের মন্দ হতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে একাধিক সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। সেই কারণেই তো আজ এই প্রবন্ধে এমন একটি বিষয়ের উপর আলোকপাত করার চেষ্টা করা হবে, যা আপাত দৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও আদতে কিন্তু একেবারেই সাধারণত নয়।

প্রতিটি জিনিসের যেমন একটা এক্সপায়ারি ডেট থাকে, তেমনি আন্ডারওয়্যারেরও একটি এক্সপায়ারি ডেট রয়েছে। সেই ডেটের পর যদি কেউ পুরানো আন্তর্বাস ব্যবহার করেন তাহলে সংক্রমক ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। যার মধ্যে রয়েছে ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশনও। তাই মহিলাদের এক্ষেত্রে বেশি করে সাবধান হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

এখন প্রশ্ন হল আন্ডারওয়্যারের এক্সপায়েরি ডেট কখন আসে? এই উত্তর পেতে করা হয়েছিল একাদিক কেস স্টাডি। তাতে দেখা গেছে অন্তর্বাস কেনার পর এক বছরের বেশি তা ব্যবহার করা একেবারেই উচিত নয়। কারণ এই নির্দিষ্ট সময়ের পর আন্ডারওয়্যারের অন্দরে ই.কোলাই সহ একাধিক জীবাণুর দাপাদাপি বেড়ে যায়। ফলে সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়। এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, তা হল আন্ডারওয়্যারের সব সময় গরম জলে কাচার সচেষ্টা করবেন। এমনটা করলে অন্তর্বাসে থাকা প্রায় ১০,০০০-এরও বেশি ব্যাকটেরিয়া খতম হতে সময় লাগে না। ফলে জীবাণুর আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পায় আমাদের শরীর।

এই সবধনতাগুলি নেওয়ার পরেও যে সংক্রমণ থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব, এমনটা নয় যদিও। কারণ কখন কোন দিক থেকে কোন জীবাণু এসে শরীরে সেঁধিয়ে বসে, তা নজরে রাখা বেশ কঠিন। তাই তো আন্ডারওয়্যার ব্যবহারের এই নিয়মটি মেনে চলার পাশাপাশি যদি নিয়মিত বিশেষ কিছু খাবার খেতে পারেন, তাহেল সুস্থ থাকার চান্স অনেকটাই বারে। আসেল এই প্রবন্ধে আলোচিত খাবারগুলির মধ্যে এমন কিছু উপাদান থাকে, যা শরীরকে ভিতরে থেকে এতটাই শক্তিশালী করে দেয় যে কোনও জীবাণুর পক্ষেই কোনও ধরনের ক্ষতি করে ওঠা সম্ভব হয় না।

প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে যে যে খাবারগুলি শরীরকে সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, সেগুলি হল...

১. মধু:

১. মধু:

এই প্রাকৃতিক উপাদানটির শরীরে থাকা একাদিক অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশেষত মধুতে থাকা এক ধরনের এনজাইম, শরীরের ভিতরে হাইড্রাজেন প্যারাঅক্সাইডের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, যা দেহের ভিতরে থাকা জার্মস এবং ক্ষতিকর ফরেন এলিমেন্টদের মেরে ফেলতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। আর এমনটা হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস গরম জলে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেতে হবে।

২. রসুন:

২. রসুন:

এর অন্দরে উপস্থিত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদানে যে কোনও সময় যে কোনও ধরনের জাবীণুদের মেরে ফেলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই কারণেই তো সংক্রমণের থেকে দূরে থাকতে নিয়মিত এক কোয়া করে রসুন খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। প্রসঙ্গত, রসুন যে শুধুমাত্র সংক্রমণের বিরুদ্ধেই জেহাত ঘোষণা করে, এমন নয় যদিও। হার্টের স্বাস্থ্য়ের উন্নতিতেও এটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৩. হলুদ:

৩. হলুদ:

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শরীরকে সুস্থ রাখতে এই মশলাটি ব্যবহার হয়ে আসছে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে। আর কেন হবে নাই বা বলুন! হলুদের অন্দরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান ক্ষত সারাতে যেমন বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, তেমনি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তুলে সুস্থ জীবনের স্বপ্ন পূরণেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। সেই কারণেই তো সংক্রমণের প্রকোপ থেকে বাঁচতে আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন এক গ্লাস করে হলুদ মেশানো দুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

৪. নারকেল তেল:

৪. নারকেল তেল:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নারকেল তেলে উপস্থিত ল্যারিক এবং ক্যাপরায়ালিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস এবং ভাইরাসদের মারতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই কারণেই তো সংক্রমণের মার থেকে বাঁচতে পরিষ্কার অন্তর্বাসের পাশপাশি নারকেল তেল ব্যবহারের প্রয়োজনও যে রয়েছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

৫. লেবু:

৫. লেবু:

বাকি যে কোনও সাইট্রাস ফলের মতে লেবুতেও রয়েছে বিপুল পরিমাণে ভাটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই দুটি উপাদান শরীরকে ভিতর থেকে শক্তিশালী করে তোলে। সেই সঙ্গে রক্তে মিশে থাকা টক্সিক উপাদানদেরও শরীর থেকে বের করে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সংক্রমণ ধারে কাছে ঘেঁষার সুযোগ পায় না।

৬.আনারস:

৬.আনারস:

সংক্রমণে থেকে দূরে থাকতে গেলে এমন খাবার বেশি করে খেতে হবে, যাতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজ। আর সেদিক থেকে বিচার করলে আনারসকে বাদ দেওয়া কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। কারণ এই ফলটি জাবীণু এবং ভাইরাসদের যোম! তাই সংক্রমণ থেকে যদি দূরে থাকতে চান, তাহলে আনারস খেতে কখনও ভুলবেন না যেন!

Read more about: রোগ, শরীর
English summary
UNDERWEAR should be thrown out every year for health reasons to reduce the risk of urinary tract and other infections, the Good Housekeeping Institute warns.Failure to do allows bugs such as E. coli and dust mites to flourish, causing problems from urinary tract infections to thrush and allergies
Story first published: Monday, November 13, 2017, 10:10 [IST]
Please Wait while comments are loading...