নিয়মিত নাশপাতি খাওয়া উচিত কেন জানা আছে?

Written By:
Subscribe to Boldsky

একদিকে ক্রমাগত বাড়তে থাকা পরিবেশ দূষণ, অন্যদিকে ভেজাল খাবার, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা, ঘুমের অভাব এবং মাত্রাতিরিক্ত স্ট্রেসের কারণে যেভাবে শরীর ভাঙছে তাতে নাশপাতির মতো ফল খাওয়ার প্রয়োজন যে বেড়েছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

কিন্তু নাশপাতি খেলে কী হবে? সম্প্রতি ফুড রিসার্চ ইন্টারন্যাশনাল পত্রিকায় প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্র অনুসারে নিয়মিত একটা করে নাশপাতি খাওয়া শুরু করলে দেহের অন্দরে উপকারি খনিজ এবং ভিটামনিসহ পটাশিয়াম, ফেনোলিত কম্পাউন্ড, ফলেট, ডায়াটারি ফাইবার, কপার, ম্যাঙ্গানিজ এবং ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে হাইপারগ্লাইসেমিয়া, হাইপারটেনশম এবং গ্যাস্ট্রিকের মত সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে মেলে আরও অনেক শারীরিক উপাকারিতা। যেমন...

১.হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

১.হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

নিয়মিত একটা করে নাশপাতি খাওয়া শুরু করলে দৈনিক ফাইবারের চাহিদার প্রায় ১৮ শতাংশ পূরণ হয়। ফলে পাকস্থলির কর্মক্ষমতা বাড়ার মধ্যে দিয়ে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। আসলে ফাইবার হল এমন একটি উপাদান যা যে কোনও ধরনের পেটের রোগের উপশমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে কনস্টিপেশনের মতো রোগের প্রকোপ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। প্রসঙ্গত, কোলন ক্যান্সারের মতে মারণ রোগকে দূরে রাখতেও এই ফলটি নানাভাবে সাহায্য করে থাকে।

২. ওজন হ্রাসে সাহায্য করে:

২. ওজন হ্রাসে সাহায্য করে:

অতিরিক্ত ওজনের কারণে কি চিন্তায় রয়েছেন? তাহলে প্রতিদিনের ডায়েটে একটা করে নাশপাতি রাখার চেষ্টা করুন। দেখবেন অতিরিক্তি ওজন কমে যেতে সময়ই লাগবে না। আসলে নাশপাতির অন্দরে থাকা ফাইবার অনেকক্ষণ পর্ন্ত পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে বারেবারে খাবার খাওয়ার প্রবণতা যেমন কমে, তেমনি দেহের অন্দরে ক্যালরির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনা একেবারে কমে যায়।

৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি দূর করে:

৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি দূর করে:

এই উপাদানটির মাত্রা শরীরে যত বৃদ্ধি পায়, ততই ভাল। কারণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হল সেই আস্ত্র যাকে কাজে লাগিয়ে শরীরের প্রতিটি কোণায় উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বরে করে দেওয়া সম্ভব হয়। ফলে দেহের অন্দরে ক্যান্সার সেল জন্ম নেওয়া আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এতটা শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। প্রসঙ্গত, হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও এই উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো শরীরে যাতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টর কখনও ঘাটতি না হয়, তার জন্য নিয়মিত একটা করে নাশপাতি খাওয়া উচিত। কারণ এমনটা করলে এই উপকারি উপাদানটির ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তোলে:

৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তোলে:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নাশপাতিতে উপস্থিত ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতাকে এতটা শক্তিশালী করে তোলে যে রোগভোগের আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। এই কারণেই তো বাচ্চা এবং বয়স্কদের এই ফলটি নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

৫. হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে:

৫. হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে:

নাশপাতিতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় পটাশিয়াম, যা একদিকে রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে, অন্যদিকে কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের উপর তৈরি হওয়া চাপকেও কমায়। ফলে হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা তো কমেই, সেই সঙ্গে হৃদপিন্ডের কর্মক্ষমতাও এতটা বৃদ্ধি পায় যে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। প্রসঙ্গত, সারা শরীরে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের প্রবাহ বাড়ানোর মধ্যে দিয়ে সার্বিকভাবে দেহের প্রতিটি অঙ্গের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও নাশপাতি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে এখানেই শেষ নয়, এই ফলটির অন্দরে থাকা পটাশিয়াম, দেহের অন্দরে জলের ভারসাম্য ঠিক রাখার পাশাপাশি কোষেদের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও সাহায্য করে।

৬. দ্রুত চোট আঘাত সারায়:

৬. দ্রুত চোট আঘাত সারায়:

নিয়মিত একটা করে নাশপাতি খাওয়া শুরু করলে শরীরে ভিটামিন সি-এর ঘাটতি দূর হতে শুরু করে। ফলে নতুন কোষেদের জন্মহার বাড়তে থাকে, সেই সঙ্গে প্রতিটি কোষের কর্মক্ষমতা এতটা বৃদ্ধি পায় যে চোট-আঘাত সারতে একেবারেই সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, ক্ষতিগ্রস্থ ব্লাড ভেসেলকে সুস্থ করে তুলতেও এই ফলটি বিশেষ ভূমিকা নেয়।

৭.দেহের অন্দরে প্রদাহ কমায়:

৭.দেহের অন্দরে প্রদাহ কমায়:

নানা কারণে শরীরে যদি উনফ্লেমেশন রেট বাড়তে থাকে, তাহলে নানাবিধ অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি হয়, তাই তো এমনটা যাতে কখনও না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন। আর এই কাজটি করবেন কিভাবে? খুব সহজ! নিয়মিত একটা করে নাশপাতি খাওয়া শুরু করুন। তাহলেই শরীরে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করবে। ফলে একদিকে যেমন প্রদাহ কমবে, তেমনি জয়েন্ট পেন হওয়ার মতো সমস্যাও ধারে কাছে ঘেঁষতে পারবে না।

Read more about: রোগ, শরীর
English summary
A new in vitro (test tube) study, "Dietary functional benefits of Bartlett and Starkrimson pears for potential management of hyperglycemia, hypertension and ulcer bacteria Helicobacter pylori while supporting beneficial probiotic bacterial response," was published in the March issue of Food Research International.
Story first published: Thursday, January 11, 2018, 17:06 [IST]