যে কোনও সময় লিচু খেলে কি হতে পারে জানেন?

রোজ লিচু খেলে দৃষ্টিশক্তি তো বাড়েই। সেই সঙ্গে ড্রাই আইয়ের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

By Nayan

খালি পেটে জল, ভরা পেটে ফল...এই কথাটা সেই পুচকে বয়স থেকেই শুনে আসছি। কিন্তু কোনও দিন সত্যি-মিথ্যা বিচার করার সুযোগ পাইনি। এই লোকটাও জানে কিনা সন্দেহ, কিন্তু আজ হঠাৎই আমায় ধমকে বললো খালি পেটে লিচু খেলে জানো কি হতে পারে? বললাম জানি না। আমার উত্তর শুনে আরো বোমকে গেল লোকটা। শেষে উত্তর তো দিলোই না, উল্টে দাঁত খিঁচিয়ে চলে গেল। আচ্ছা খালি পেটে লিচু খেলে কী হয় বলতে পারেন?

সেকি আপনারাও জানেন না! এদিকে লিচুর পর লিচু খেয়ে চলেছেন! তাহলে তো মশাই এই প্রবন্ধে একবার আপনাদের চোখ রাখতেই হবে। কারণ আজ এই লেখায় এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সবরকম চেষ্টা চালাবো আমি। জানার চেষ্টা করবো স্ট্রবেরি খাওয়ার আদর্শ সময় সম্পর্কে।

বেশ কয়েকটি গবেষণা চালিয়ে বিশেষজ্ঞরা জানতে পেরেছেন ছোট্ট এই ফলটির শরীরে এত ধরনের পুষ্টিকর উপাদান রয়েছেন যে নিয়মিত যদি লিচু খাওয়া যায়, তাহলে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি তো ঘটেই, সেই সঙ্গে হার্ট থেকে মস্তিষ্ক, শরীরের প্রতিটি অঙ্গের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই জটিল রোগেরা দূরে থাকতে বাধ্য় হয়। তাই যখন খুসি লিচু খান, তাতে শরীর তো খারাপ হবেই না, উল্টে উপকার হবে!

এখন প্রশ্ন হল কীভাবে লিচু আমাদের শরীরের উপকারে লাগে?

১. দৃষ্টিশক্তিকে জোরদার করে:

১. দৃষ্টিশক্তিকে জোরদার করে:

আজকাল সবাইকেই প্রায় দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করতে হয়। সেই সঙ্গে স্মার্ট ফোনে মুখ গুঁজে ওয়েব দুনিয়ায় ঘোরা-ফেরা তো আছেই। এমন পরিস্থিতে চোখের উপর এতটা চাপ পরে যে ধীরে ধীরে চোখের ক্ষমতা কমে যেতে শুরু করে। এই অবস্থায় চোখকে বাঁচাতে লিচুর কোনও বিকল্প হতে পারে না। আসলে এই ফলটিতে রয়েছে ফ্লেবোনয়েড, ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট এবং ইলেজিক অ্যাসিড, যা চোখের ক্ষতি করে এমন টক্সিক উপাদানদের শরীর থেকে বার করে দেয়। ফলে দৃষ্টিশক্তি তো বাড়েই। সেই সঙ্গে ড্রাই আইয়ের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, অনেক সময় ধরে ডিজিটাল স্ক্রিনে চোখ রেখে কাজ করলে ড্রাই আইয়ের মতো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

জীবাণুর আক্রমণ থেকে শরীরকে বাঁচাতে একেবারে প্রাথমিক সুরক্ষা বলয় হল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা। তাই তো এই দেওয়ালে কমজোরি হয়ে গেলে মারাত্মক বিপদ! সেক্ষেত্রে জীবাণুরা বিনা বাঁধায় শরীরের একেবারে ভিতর পর্যন্ত ঢুকে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যাবে। ফলে নানাবিধ রোগে শরীরকে করে তুলবে জর্জরিত। এমনটা আপনার সঙ্গেও ঘটুক, তাই তান নাকি? না না একেবারেই চাই না! তাহলে তো বন্ধুরা ইমিউন সিস্টেমের খেয়াল রাখতে হবে। আর এই কাজটি করতে আপনাকে সাহায্য করতে পারে স্ট্রবেরি। কিভাবে? রক্তিম এই ফলটির অন্দরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, যা নানাভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নামক দেওয়ালকে এতটাই শক্তিশালী করে তোলে যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। প্রসঙ্গত, প্রতিদিন আমাদের দেহের যে পরিমাণ ভিটামিন সি-এর প্রয়োজন পরে, তার সিংহভাগ মেটাতেই লিচু সক্ষম। তাই সুস্থ থাকতে এই ফলটির সঙ্গে দুরত্ব বজায় রাখলে কিন্তু চলবে না।

৩. আর্থ্রাইটিস রোগের প্রকোপ কমায়:

৩. আর্থ্রাইটিস রোগের প্রকোপ কমায়:

জয়েন্টকে সচল রাখতে যে তরল উপাদান আমাদের শরীরের অন্দরে রয়েছে, তা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শুকিয়ে যেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে গাঁটে গাঁটে টক্সিক উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে এমন ধরনের হাড়ের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে প্রতিদিন যদি লিচু খাওয়া যায়, তাহলে জয়েন্টের সচলতা পুনরায় বৃদ্ধি পায়, সেই সঙ্গে ফলটিতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। ফলে কষ্ট অনেক কমে যায়।

৪. ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখে:

৪. ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখে:

আমাদের শরীরে জমতে থাকা টক্সিক উপাদানের মাত্রা বেড়ে গেলে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই কোনওভাবেই যাতে টক্সিক উপাদানের মাত্রা না ছাড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখাটা একান্ত প্রয়োজন। আর এই কাজটি করবেন কিভাবে? টক্সিক উপাদানদের শরীর থেকে বার করে দিতে কাজে আসে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আর এই উপাদানটি প্রচুর মাত্রায় রয়েছে লিচুতে। তাই তো প্রতিদিনের ডায়েটে লিচুকে রাখলেই কেল্লাফতে!

৫. ব্রেন পাওয়ার বাড়ায়:

৫. ব্রেন পাওয়ার বাড়ায়:

বয়স বাড়তে থাকলে স্বাভাবিক নিয়ম মেনেই শরীরে প্রতি অঙ্গের কর্মক্ষমতা কমে যেতে শুরু করে। একই ঘঠনা ঘটে মস্তিষ্কের সঙ্গেও। আর এই ডিজেনারেশন শুরু হয় সাধারণত ৩০ বছর পর থেকে। তাই তো এই সময় থেকেই বেশি করে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। কারণ এই দুটি উপাদান মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। ফলে বয়স বাড়লেও তার কোনও প্রভাব পরে না ব্রেনের উপর। আর যেমনটা আপনাদের সকলেরই জানা আছে যে লিচুতে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, এই দুইই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। প্রসঙ্গত, বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে লিচুতে আয়োডিন এবং পটাশিয়ামও রয়েছে অনেক পরিমাণে। এই উপাদানটি দুটিও ব্রেন ফাংশন ঠিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয়।

৬. রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখে:

৬. রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখে:

লিচুতে উপস্থিত পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম শুধু রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখে না, সেই সঙ্গে শিরা এবং ধমনীকে প্রসারিতও করে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই রক্তচাপ মাত্রা ছাড়ানোর সুযোগই পায় না। তাই তো যাদের খুব স্ট্রেসফুল কাজ করতে হয়, তারা সময় থাকতে থাকতেই এই ফলটির সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়ে ফেলুন। দেখবেন আগামী দিনে উপকার মিলবে। কারণ স্ট্রেসের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের সরাসরি যোগ রয়েছে। তাই পরিস্থিতি বুঝে ডায়েটে পরিবর্তন আনতে দেরি করবেন না যেন!

৭. হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায়:

৭. হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায়:

হার্টেক সুস্থ সবল রাখতে যে উপাদানগুলি বিশেষ ভূমিকা নেয়, সেগুলির মধ্যে অন্যতম হল ফাইবার, ফলেট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি। আর এইসবকটি উপাদানই প্রচুর মাত্রায় রয়েছে লিচুতে। তাই তো এই ফলটি খাওয়ার অভ্যাস করলে কোনও ধরনের হার্টের রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। ফলে আয়ু বৃদ্ধি পায় চোখে পরার মতো!

Story first published: Tuesday, September 26, 2017, 15:48 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion