For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

আপনিও কি শ্রীদেবীর মতো অকালে চলে যেতে চান নাকি?

By Nayan
|

আপনার উত্তর যদি না হয়, তাহলে এই প্রবন্ধটি দ্রুত পড়ে ফেলতে ভুলবেন না যেন! কারণ এই লেখায় এমন কিছু খাবার সম্পর্কে আলোচনা করা হল যা নিয়মিত খাওয়া শুরু করলে হার্টের স্বাস্থ্যের এত মাত্রায় উন্নতি ঘটে যে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

রবিবার রাতে বনি কাপুরের সঙ্গে ডিনার ডেটে যাওয়াক কথা ছিল শ্রীদেবীর। সেই মতো স্নান সেরে তৈরিও হচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ ম্যাসিভ অ্যাটাকের কারণে অচৈতন্য হয়ে পরেন মহানায়িকা। ১৫ মিনিট কোনও সারা শব্দ না পেয়ে বাথরুমের দরজা ভেঙে দেখা যায় শ্রীদেবী প্রয়াত হয়েছেন। কারণ হার্ট অ্যাটাক। এমন পরিস্থিত আমাদের যে কারও হতে পারে। বিশেষত কম বয়সিদের। তাই ভয়টা আরও বেশি।

প্রশ্ন করতে পারেন এমন কি হল যে যুবসমাজের পরিস্থিতি এতটা খারাপ দিকে যাচ্ছে? পরিসংখ্যানের দিকে নজর ফেরালে জানা যায়, যত দিন যাচ্ছে, তত খারাপের দিকে যাচ্ছে সিংহভাগ ভারতীয় হার্ট। ফলে বাড়ছে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্তের সংখ্যা। শুধু তাই নয়, এমনটা যদি চলতে থাকে, তাহলে আগামী কয়েক বছরে সারা বিশ্বের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের সংখ্যার দিক থেকে ভারতের স্থান যে একেবারে প্রথম হবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই বিশেষজ্ঞরা। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইন্ডিয়ান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে বছরে যত জন ভারতীয় হার্ট অ্যাটাকের কবলে পরেন, তাদের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশেরই বয়স ৫০ বছরের কম। তাই সাবধান থাকার সময় মনে হয় গেছে বন্ধুরা।

এমন পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকতে একদিকে যেমন নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে, তেমনি এই প্রবন্ধে আলোচিত খাবারগুলি নিয়মিত খেতে হবে, তাহলেই দেখবেন হার্টের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যাবে কমে। সেই সঙ্গে স্ট্রোকের সম্ভাবনাও হ্রাস পাবে। প্রসঙ্গত, হার্টের ক্ষমতা বাড়াতে যে যে খাবারগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, সেগুলি হল...

১. রেড ওয়াইন:

১. রেড ওয়াইন:

ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত রেড ওয়াইন খাওয়া শুরু করলে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাশাপাশি এমন কিছু উপকারি উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে যে তার প্রভাবে কেবল হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে না। সেই সঙ্গে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ দূরে থাকতেও বাধ্য হয়। প্রসঙ্গত, রেড ওয়াইনে উপস্থিত রেজভারেট্রল নামক একটি উপাদান, শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর পাশাপাশি আর্টারির কর্মক্ষমতা বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই কম বয়সেই যদি হার্টের রোগে আক্রান্ত হতে না চান, তাহলে প্রতিদিন দু গ্লাস করে রেড ওয়াইন পান করতে ভুলবেন না যেন!

২. পালং শাক:

২. পালং শাক:

হার্টকে দীর্ঘকাল সুস্থ রাখতে হলে সবজির দুনিয়ায় সেরার শিরোপা পাওয়া পালং শাকের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেই হবে। কারণ এতে রয়েছে বিপুল পরিমাণে ফাইটোকেমিকাল, ভিটামিন এবং মিনারেল, যা হার্টের রোগকে দূরে রাখার পাশাপাশি শরীরকে সার্বিকভাবে চাঙ্গা রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, পালং শাকে উপস্থিত ফলেট, হর্টের কর্মকক্ষমতা তো বাড়ায়ই, সেই সঙ্গে দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতেও সাহায্য করে থাকে।

৩. আদা:

৩. আদা:

এই প্রাকৃতিক উপাদানটি একদিকে যেমন খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়, তেমনি অন্যদিকে ব্লাড ক্লটের আশঙ্কাও দূর করে। সেই সঙ্গে হার্টের অন্দরে কোনওভাবে যাতে প্রদাহ সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখে। এক কথায় সব দিক থেকে হার্টকে নিরাপত্তা প্রদানে আদা দারুন কাজ আসে।

৪. রসুন:

৪. রসুন:

একাধিক গবেষণায় একথা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়ে গেছে যে প্রতিদিন সকালে যদি এক কোয়া করে রসুন খাওয়া যায়, তাহলে রক্তে বাজে কোলেস্টেরল বা এল ডি এল-এর মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না। উল্টে ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। এখানেই শেষ নয়, রসুন হার্টের ক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্যে দিয়ে সারা শরীরে রক্তর সরবরাহ মারাত্মক বাড়িয়ে দেয়। ফলে হার্টের পাশাপাশি মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাও মারাত্মক বৃদ্ধি পায়।

৫. কাঁচা লঙ্কা:

৫. কাঁচা লঙ্কা:

শুনে অবাক লাগলেও একথা ঠিক যে হার্টকে সুস্থ রাখতে কাঁচা লঙ্কার বাস্তবিকই কোনও বিকল্প হয় না। আসলে এতে উপস্থিত ক্যাপসিসিন নামক উপাদান, ব্লাড ভেসেলের ইলাস্ট্রিসিটি বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সেই সঙ্গে ব্লাড ক্লটের আশঙ্কাও কমায়। ফলে হার্টের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি প্রাকাশিত বেশ কয়েকটি গবেষণা পত্র অনুসারে কাঁচা লঙ্কায় উপস্থিত ক্যাপসিসিন, রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ফলে সবদিক থেকে হার্ট সুরক্ষিত থাকে।

৬. গ্রিন টি:

৬. গ্রিন টি:

এতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, কোষেদের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি রক্তে যাতে কোনওভাবে এল ডি এল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি না পায়, সেদিকেও খেয়াল রাখে। শুধু তাই নয়, ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতেও গ্রিন টি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো হার্ট এবং ব্রেনকে সুস্থ রাখতে আজ থেকেই দিনে ২ কাপ করে গ্রিন টি পান করা শুরু করতে পারেন। এমনটা করলে দেখবেন দারুন উপকার পাবেন।

৭. ওটমিল:

৭. ওটমিল:

প্রতিদিন ব্রেকফাস্টে হোক কী যে কোনও সময়, এই খাবারটি খেলে শরীরে ভিটামিন এবং মিনারেলের ঘাটতি যেমন দূর হয়, তেমনি খারাপ কোলেস্টেরল বা এল ডি এল-এর মাত্রাও কমে। ফলে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

৮. জাম:

৮. জাম:

এই ফলটির শরীরে মজুত রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলি নানাভাবে হার্টকে সুস্থ রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই যেমন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কথাই ধরুন না। এই উপাদানটি রক্তে মিশে থাকা টক্সিক উপাদানদের শরীরে থেকে টেনে টেনে বার করে দেয়। ফলে তারা যতক্ষণে হার্টের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করে, ততক্ষণে অন্টিঅক্সিডেন্ট এমন খেল দেখায় যে হার্টের উপর খারাপ প্রভাব পরার আশঙ্কাই থাকে না।

৯. মাছ:

৯. মাছ:

এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এই উপাদানটি হার্টের স্বাস্থ্য়ের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের রিপোর্ট অনুসারে সপ্তাহে ২-৩ বার যদি মাছ খাওয়া যায়, তাহলে শীররে এই বিশেষ ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিডটির ঘাটতি দূর হয়। ফলে হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে। তাই হে মাছে-ভাতে বাঙালি, আর যাই করুন না কেন, ভুলেও রোজের ডায়েট থেকে মাছকে বাদ দেবেন না যেন!

১০. সয়াবিন:

১০. সয়াবিন:

হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে যে পরিমাণ ফাইবার, ভিটামিন এবং মিনারেলের প্রয়োজন পরে, তার অনেকটাই সরবরাহ করে সয়াবিন। সেই কারণেই তো প্রতিদিন এই খাবারটি খেলে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে। শুধু তাই নয়, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের আশঙ্কা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা নেওয়া ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতেও সয়া প্রোটিন বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই কারণেই তো হার্টকে ভাল রাখতে নিয়মিত সোয়াবিন বা সোয়া মিল্ক খাওয়ার পরিমার্শ দেন চিকিৎসকরো।

Read more about: শরীর রোগ
English summary

এই লেখায় এমন কিছু খাবার সম্পর্কে আলোচনা করা হল যা নিয়মিত খাওয়া শুরু করলে হার্টের স্বাস্থ্যের এত মাত্রায় উন্নতি ঘটে যে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

Can the contents of your kitchen seriously save your life? A growing body of research suggests that what you eat and drink can protect your body against myriad health woes—and studies have shown that up to 70% of heart disease cases are preventable with the right food choices.
Story first published: Monday, February 26, 2018, 17:14 [IST]
X