অল্প খরচে আরোগ্য লাভ করতে চান কি? তাহলে গরম ভাতের সঙ্গে সেদ্ধ লাল শাক আর কাসন্দি খেতে ভুলবেন না যেন!

Subscribe to Boldsky

১০০ গ্রাম লাল শাকে রয়েছে ১০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১ গ্রাম ডায়াটারি ফাইবার, ৪.৬ গ্রাম প্রোটিন, ৪২ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ৩৪০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ১১ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ৩৬৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ২ মিলিগ্রাম আয়রন, ১.৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন এ এবং ৮০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। আর এই সবকটি উপাদানই যে শরীরের গঠনে ভিষণ ভাবে কাজে লাগে, তা নিশ্চয় আর আলাদা করে বলে দিতে হবে না। বিশেষত ক্যান্সারের মতো মারণ রোগকে দূরে রাখতে, ওজন কমতে,কিডনির ক্ষমতা বাড়াতে এবং আরও নানাবিধ রোগের খপ্পর থেকে শরীরকে বাঁচাতে লাল শাকে উপস্থিত এই সব উপকারি উপদানগুলি নানাভাবে সাহায্য়ে করে থাকে। যেমন ধরুন...

১. অ্যাস্থেমার প্রকোপ কমে:

১. অ্যাস্থেমার প্রকোপ কমে:

বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে লাল শাকে উপস্থিত বিটা-ক্যারোটিন শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে অ্যাস্থেমার প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে রেসপিরেটরি সিস্টেমের উন্নতিও ঘটে চোখে পরার মতো। তাই তো বলি বন্ধু, কলকাতার পাশাপাশি সারা রাজ্যে যে হারে বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়ছে, তাতে লাল শাক খাওয়ার প্রয়োজন যে বেড়েছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই!

২. হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

২. হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

বুড়ো বয়সে যদি নানাবিধ হাড়ের রোগে আক্রান্ত হতে না চান, তাহলে এখন থেকেই রোজের ডায়েটে জায়গা করে দিন লাল শাককে। কারণ এই প্রাকৃতিক উপাদানটির অন্দরে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন কে, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর একবার হাড় শক্তপোক্ত হয়ে উঠলে অস্টিওপরোসিস মতো হাড়ের রোগ যে আর ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

৩. হার্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

৩. হার্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

লাল শাকে উপস্থিত "ফাইটোস্টেরল" নামক একটি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর একদিকে যেমন ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে, তেমনি নানাবিধ হার্টের রোগের অ্যান্টিডোট হিসেবেও কাজ করে। তাই তো সপ্তাহে কম করে ২-৩ দিন যদি লাল শাক খাওয়া যায়, তাহলে হার্টের ক্ষমতা এতটাই বৃদ্ধি পায় যে কোনও ধরনের হার্টের রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না।

৪. অ্যানিমিয়ার মতো রোগ দূরে পালায়:

৪. অ্যানিমিয়ার মতো রোগ দূরে পালায়:

লাল শাকে এমন কিছু উপাদান থাকে, যা শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার মাত্রা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো অ্যানিমিয়া রোগীদের এই শাকটি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। প্রসঙ্গত, ২ আঁটি লাল শাককে পিষে রস সংগ্রহ করে তার সঙ্গে ১ চামচ লেবুর রস এবং ১ চামচ মধু মিশিয়ে যদি নিয়মিত খেতে পারেন, তাহলে শরীরে কখনও রক্তের অভাব হবে না।

picture courtesy

৫. দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

৫. দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

লাল শাকের মূল দিয়ে দাঁত মাজার পর নুন জল দিয়ে কুলকুচি করলে দাঁতের হলুদ ভাব কেটে যায়। সেই সঙ্গে পোকা লাগা সহ মাড়ি এবং দাঁত সম্পর্কিত নানাধিক রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না।

৬. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে:

৬. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে:

লাল শাকে উপস্থিত ভিটামিন সি রেটিনার ক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্যে দিয়ে সার্বিকভাবে দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যারা চোখে কম দেখেন বা পরিবারে গ্লকোমার মতো রোগের ইতিহাস রয়েছে, তারা সময় নষ্ট না করে আজ থেকেই লাল শাক খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন অল্প দিনেই উপকার পাবেন।

৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়ে ওঠে:

৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়ে ওঠে:

আজ থেকে যতদিন বাঁচবেন ততদিন যদি আর কখনও ডাক্তারের মুখ দেখতে না চান, তাহলে রোজের ডায়েটে লাল শাককে অন্তর্ভুক্ত করতে ভুলবেন না যেন! কারণ একাধিক স্টাডিতে দেখা গেছে প্রতিদিন এই শাকটি খাওয়া শুরু করলে শরীরের অন্দরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি-এর ঘাটতি দূর হয়। ফলে রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

৮. জ্বরের চিকিৎসায় দারুন কাজে আসে:

৮. জ্বরের চিকিৎসায় দারুন কাজে আসে:

ওয়েদার চেঞ্জের কারণে যারা জ্বরে ভুগছেন, তারা এই ঘরোয়া পদ্ধতিটির সাহায্য নিতে পারেন। এক্ষেত্রে একটা প্যানে পরিমাণ মতো জল নিয়ে তাতে এক মুঠো লাল শাক ফেলে দিন। তারপর জলটা ফোটাতে শুরু করুন। যখন দেখবেন ফুটতে ফুটতে জলের পরিমাণ অর্ধেক হয়ে গেছে, তখন আঁচটা বন্ধ করে দিন। এরপর জলটা টান্ডা করে সেটা পান করুন। এমনটা কয়েকদিন করলেই দেখবেন জ্বর দে ছুট লাগিয়েছে।

৯. ক্যান্সারের মতো মারণ রোগকে দূরে রাখে:

৯. ক্যান্সারের মতো মারণ রোগকে দূরে রাখে:

লাল শাকে উপস্থিত অ্যামাইনো অ্যাসিড, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন ই, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন সি শরীরে উপস্থিত একাধিক টক্সিক উপাদানের ক্ষতি করার ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে ক্যান্সার সেল যাতে জন্ম নিতে না পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই মারণ রোগ শরীরে বাসা বাঁধার কোনও সুযোগ পায় না।

১০. হেয়ার ফলের মাত্রা কমায়:

১০. হেয়ার ফলের মাত্রা কমায়:

এক আঁটি লাল শাঁক ভাল করে বেটে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। তারপর তাতে ১ চামচ নুন মিশিয়ে ভাল করে নারান। যখন দেখবেন দুটি উপাদান ঠিক মতো মিশে গেছে, তখন মিশ্রনটি ছেঁকে নিয়ে পান করুন। এমনটা প্রতিদিন করলে চুল পড়ার হার অনেক কমবে।

১১. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

১১. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, যা হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে বাওয়েল মুভমেন্ট যাতে ঠিক মতো হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বদ-হজমের আশঙ্কা কমে। সেই সঙ্গে গ্যাস-অম্বলের প্রকোপও হ্রাস পায়।

১২. কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়ে:

১২. কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়ে:

একাধিক সমীক্ষায় দেখা গেছে নিয়মিত লাল শাক খেলে একদিকে যেমন কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়ে, তেমনি অন্যদিকে রক্তে উপস্থিত একাধিক ক্ষতিকর উপাদান শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। ফলে রক্ত পরিশুদ্ধ হয়। ফলে নানাবিধ রোগের প্রকোপও কমে।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: শরীর রোগ
    English summary

    Red spinach is a worthy addition to one's diet

    We are all aware of green spinach and the amazing benefits it is encompassed of. However, are you aware of red spinach? Belonging to the family Amaranthaceae, red spinach is one amongst the several varieties of spinach such as ground spinach, white spinach, spinach thorns etc. Red spinach is a good source of nutrition and is used[1] for medicinal purposes as well. The leafy vegetable has a red liquid in its stem, which is responsible for the red colour that we see on the stems and leaves.
    Story first published: Saturday, December 15, 2018, 15:16 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more