প্রতিদিন এক মুঠো করে বাদাম খেলে কি হতে পারে জানেন?

Written By:
Subscribe to Boldsky

এতদিন যে মুকুট আপেলের মাথায় ছিল, তা এক প্রকার ছিনিয়ে নিল বাদাম। আর এমনভাবে এই কাজটি করল যে একেবারে শিরনামে চলে এল ছোট্ট এই প্রকৃতিক উপাদানটি! কম করে ১০০-২০০ বছর তো হবেই। সেই থেকে চিকিৎসকেরা মনে করতেন যে নিয়মিত আপেল খেলে শরীরের এত উন্নতি ঘটে যে জীবনে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজনই পরে না। কথাটির মধ্যে বাস্তবিকই কোনও ভুল ছিল না। কিন্তু বাঁধ সাধল দাম। দিন দিন আপেলের দাম আকাশ ছোঁয়া হতে থাকলো। ফলে বিকল্প রাস্তা কিছু আছে কিনা সেই নিয়ে শুরু হল খোঁজ খবর। অবশেষে বিজ্ঞাণীরা নিশ্চিত হলেন যে হাসতে হাসতে আপেলের জায়গা নিতে পারে বাদাম।

সম্প্রতি একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে অল্প খরচে চিকিৎসকে দূরে রাখতে হলে বাদামের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। একাধিক খনিজ এবং ভিটামিনে পরিপূর্ণ এই খাবারটি শরীরে অন্দরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে এমন খেল দেখাতে শুরু করে যে একাদিক মারণ রোগ তো দূরে থাকতে বাধ্য হয়ই, সেই সঙ্গে শরীর এমন চাঙ্গা হয়ে ওঠে যে আয়ুও বৃদ্ধি পায়।

এত দূর পড়ার পর নিশ্চয় এবার বাদামের গুণাগুণ সম্পর্কে জানতে ইচ্ছা করছে? তাহলে আর অপেক্ষা কেন, চলুন জেনে নেওয়া যাক বাদাম নামক "সুপার ফুড" টির নানাবিধ কার্যকারিতা সম্পর্কে। এক্ষেত্রে মূলত ৯ টি উপকারিতা পাওয়া যায়। যেমন...

১. পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়:

১. পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়:

মধ্যপ্রাচ্য থেকে এসে এদেশে ঝাঁকিয়ে বাসা এই প্রকৃতিক উপাদনটির শরীরে রয়েছে প্রায় ৩.৫ গ্রাম ফাইবার, ৬ গ্রাম প্রোটিন, ১৪ গ্রাম ফ্যাট সহ ভিটামিন ই, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি২, ফসফরাস এবং ম্যাগনেসিয়াম। এই সবকটি উপাদানই শরীরকে সুস্থ রাখতে বিশেষ প্রয়োজনে লাগে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো একাধিক ক্রনিক রোগকে দূরে রাখতেও এই উপাদানগুলি সাহায্য করে। প্রসঙ্গত, এক মুঠো বাদাম খেলে শরীরে মাত্র ১৬১ ক্যালরি প্রবেশ করে। ফলে এই খাবারটি খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার কোনও ভয় থাকে না।

২. শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি দূর করে:

২. শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি দূর করে:

এটি হল এমন একটি উপাদান যা ক্যান্সার রোগকে প্রতিরোধ করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর মধ্যে দিয়ে নানাবিধ সংক্রমণকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এখানেই শেষ নয়, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আরও নানা উপকারে লেগে থাকে। যেমন, অ্যাক্সিডেটিভ ট্রেস কমিয়ে কোষেদের ক্ষত রোধ করে, সেই সঙ্গে ত্বকের এবং শরীরের বয়স কমাতেও সাহায্য করে থাকে।

৩. কোষেদের খেয়াল রাখে:

৩. কোষেদের খেয়াল রাখে:

বাদামে উপস্থিত প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন ই শরীরের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে থাকা কোষেদের কর্মক্ষমতার বৃদ্ধি ঘটানোর সঙ্গে সঙ্গে তাদের শরীরে যাতে কোনও ভাবে ক্ষতের সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে বয়স বাড়লেও শরীরের উপর তার কোনও প্রভাব পরে না।

৪.ডায়াবেটিস রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখে:

৪.ডায়াবেটিস রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখে:

বাদামে থাকা ম্যাগনেসিয়াম রক্তে উপস্থিত শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সেই কারণেই তো ডায়াবেটিকদের নিয়মিত বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ২৫-৩৮ শতাংশ কমে যায়। তাই যাদের পরিবারে এই মারণ রোগের ইতিহাস রয়েছে, তারা সময় থাকতে বাদামকে কাজে লাগাতে শুরু করে দিন। দেখবেন উপকার মিলবে।

৫. ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে:

৫. ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে:

শুধু ডায়াবেটিস নয়, বাদামে উপস্থিত ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে শরীরে এই খনিজটির ঘাটতি দেখা দিলে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্লাড প্রেসার মারাত্মক বেড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। আর বেশি দিন যদি রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে, তাহলে হঠাৎ করে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং কিডনির সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই দেহে যাতে কোনও সময় ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন।

৬. খারাপ কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণে রাখে:

৬. খারাপ কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণে রাখে:

গত কয়েক দশকের পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখতে পাবেন কীভাবে অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরলের কারণে হার্টের রোগে আক্রান্তের হার বৃদ্ধি পয়েছে। তাই এই বিষয়ে সাবধান থাকাটা জরুরি। শরীরে যাতে কোনও ভাবেই বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি না পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর এই কাজটি করবেন কীভাবে? খুব সহজ! প্রতিদিনের ডায়েটে বাদামের অন্তর্ভুক্তি ঘটান, তাহলেই দেখবেন হার্টের স্বাস্থ্য নিয়ে আর চিন্তায় থাকতে হবে না। আসলে বাদামে উপস্থিত বেশ কিছু কার্যকরি উপাদান শরীরে অন্দরে ভাল কোলেস্টরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে কমে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও।

৭.ওজন হ্রাসে সাহায্য করে:

৭.ওজন হ্রাসে সাহায্য করে:

বাদাম খাওয়ার পর ক্ষিদে একেবারে কমে যায়। ফলে মাত্রাতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে শরীরে প্রয়োজন অতিরিক্ত ক্যালরি জমে ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও কমে।

Read more about: রোগ, শরীর
English summary
Almonds are a fantastic source of antioxidants.Antioxidants help to protect against oxidative stress, which can damage molecules in cells and contribute to aging and diseases like cance.The powerful antioxidants in almonds are largely concentrated in the brown layer of the skin.For this reason, blanched almonds (skin removed) are not the best choice from a health perspective.A clinical trial of 60 male smokers found that 84 grams (about 3 ounces) of almonds per day reduced oxidative stress biomarkers by 23-34%, over a 4 week period.
Please Wait while comments are loading...