বাবা মায়ের নেশার ফাঁদে পরে মরছে বাচ্চারা!

বিষয়টা নিয়ে সরব হয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু খাতায় কলমে কেউ প্রমাণ করতে পারেননি এতদিন। এবার প্রমাণও হয়ে গেল।

By Nayan

বিষয়টা নিয়ে সরব হয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু খাতায় কলমে কেউ প্রমাণ করতে পারেননি এতদিন। এবার প্রমাণও হয়ে গেল। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি স্টিডিতে একথা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেল যে নব প্রজন্মের ধূমপানের ফাঁদে পরার পিছনে অনেকাশেই দায়ি তাদের বাবা-মায়েরা।

দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু সহ একাধিক প্রথমসারির শহরের প্রায় ১৯০০ জন ছাত্রের উপর করা এই সমীক্ষাটি চলাকালীন গবেষকরা লক্ষ করেছিলেন যে বেশিরভাগই ধূমপান শুরু করেছেন কাউকে দেখে, বিশেষত বাবা-মাকে স্মোক করতে দেখে। তাই তো চিকৎসকেরা বাবা-মায়েদের সাবধান হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণ বর্তমানে আমাদের দেশে যেভাবে স্মাকিং-এর কারণে মৃত্যুহার বাড়ছে, তাতে এই সমীক্ষা রিপোর্ট কপালে যে আরও ভাঁজ ফলবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

এখন প্রশ্ন হল যারা ইতিমধ্যেই এমন ধরনের নেশার খপ্পরে পরে গেছেন তারা কিভাবে বেরিয়ে আসবেন এমন মারণ ফাঁদ থেকে? প্রসঙ্গত, বাজার চলতি নেশা ছাড়ানোর পদ্ধতিগুলির বেশিরভাগই সেভাবে কোনও কাজে আসে না। সেই সঙ্গে যোগ হয়, নেশার প্রতি প্রবল আকর্ষণ। ফলে বছরের শুরুতে অনেকেই ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে বিপ্লব ঘোষণা করলেও, শেষে গিয়ে আদতে কাজটা করতে পারেন খুবই কম লোক। তাই তো যারা স্মোকিং ছাড়ার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর, তাদের সাহায্য করতে আজ বোল্ডস্কাই বাংলা এমন কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা বাস্তবিকই ধূমপানের নেশাকে ছাড়াতে দারুন কাজে আসে। শুধু একটাই কথা, ধৈর্য ধরে এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলিকে কাজে লাগিয়ে যেতে হবে, তাহলেই মিলবে নেশা থেকে মুক্তি।

কী কী ঘরোয়া পদ্ধতি এক্ষেত্রে কাজে আসে? এক ঝলক এই প্রবন্ধে চোখ রাখলেই উত্তর পেয়ে যাবেন।

১. জল:

১. জল:

দীর্ঘদিন ধরে সিগারেট খেলে আমাদের শরীরে একেবারে ভিতর পর্যন্ত চলে যায় নিকোটিন। যে কারণে ধূমপান ছাড়তে এতটা কষ্ট হয়। এক্ষেত্রে জল দারুন কাজে আসে। কীভাবে? আসলে শরীরে টক্সিন হিসেবে জমতে থাকা নিকোটিনকে ধুয়ে বার করে দিতে জলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। শুধু তাই নয়, তামাক এবং নিকোটিনের নানা ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে বাঁচাতেও জল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২. আদা:

২. আদা:

আপনি কি ধূমপান ছাড়তে চান? তাহলে আজ থেকেই আদার সাহায্য নিন। আসলে এতে উপস্থিত বেশ কিছু উপাদান নানাভাবে সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছাকে দমিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে ধূমপান ছাডা়র কারণে যেসব উইথড্রল সিম্পটন দেখা দেয়, সেগুলিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। ফলে সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছাটাই চলে যায়। এক্ষেত্রে আদা চা বা কাঁচা আদা খেতে হবে। তবেই মিলবে উপকার।

৩.ভিটামিন:

৩.ভিটামিন:

নিকোটিনের মতো টক্সিনের সঙ্গে লড়াই করার জন্য নিজের সঙ্গে শক্তিশালী কাউকে না রাখলে কিন্তু এই অসম যুদ্ধে জেতা সম্ভব নয়। আর এক্ষেত্রে আপনার পাশে দাঁড়াতে পারে ভিটামিন। প্রতিদিন ভিটামিন- এ, সি এবং ই সমৃদ্ধ ক্যাপসুল অথবা খাবার খেলে সিগারেটের নেশা একেবারে চলে য়ায়। সেই সঙ্গে আরও নানাবিধ রোগে প্রকোপও কমে। প্রসঙ্গত, ভিটামিন আমাদের শরীরকে এতটাই চাঙ্গা করে দেয় যে সিগারেট ছাড়ার পর যে যে লক্ষণগুলি দেখা যায়, সেগুলি আর কোনও ভাবেই শরীর এবং মনকে কাবু করতে পারে না।

৪. জিনসেং:

৪. জিনসেং:

ধূমপান বন্ধে কর দিতে কিন্তু তেমন কোনও কষ্ট হয় না। আসল লড়তে হয় সিগার খাওয়ার ইচ্ছার সঙ্গে। এই বিষাক্ত ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখতে এই প্রাকৃতিক উপাদানটি দারুন উপকারে লাগে। এক চামচ জিনসেং পাউডার, জুসে বা সুপে মিশিয়ে প্রকিদিন সকালে খেলে সারা দিনের জন্য সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছা চলে যায়। ফলে নেশার ফাঁস ধীরে ধীরে আলগা হতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, যদি দেখেন এক চামচে কাজ হচ্ছে না, তাহলে একটু বেশি করেও খেতে পারেন।

৫. আঙুরের রস:

৫. আঙুরের রস:

নিকোটিনের কারণে শরীরের ভিতরে জমতে থাকা টক্সিন বেরিয়ে যেতে শুরু করলে একদিকে যেমন ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, তেমনি সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছাও কমতে শুরু করে। আর এই কাজে আপনাকে সাহায্য করতে পারে আঙুরের রস। কারণ এতে উপস্থিত একাধিক পুষ্টিকর উপাদান এবং স্বাস্থ্যকর অ্যাসিড শরীরতে ডিটক্সিফাই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে শরীরে জমে থাকা বাকি ময়লাদেরও বাইরে বের করে আনে। ফলে শরীর রোগ মুক্তির পথে শরীর আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যায়।

৬. ওটস:

৬. ওটস:

সিগারেটের নেশা ছাড়াতে ওটসের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই তো বহুকাল আগে থেকেই ধূমপানের বিরুদ্ধে যে লড়াই চলচে তাতে সামিল করা হয়েছে এই উপাদানটিকে। ২ কাপ ফোটানো জলের সঙ্গে ১ চামচ ওটস মিশিয়ে সারা রাত রেখে দিন। পরদিন সকালে জলটি পুনরায় ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিয়ে প্রতিটি খাবারের পর অল্প করে খেতে থাকুন। এমনটা করলে দেখবেন শরীর থেকে নিকোটিন বেরিয়ে যাবে। সেই সঙ্গে কমে যাবে সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছাও।

৭. মুলো:

৭. মুলো:

১ গ্লাস মুলোর রসের সঙ্গে পরিমাণ মতো মধু মিশিয়ে দিনে দুবার করে খেলে ধূমপানের ইচ্ছা একেবারে কমে যায়। তাই তো এমন কু-অভ্য়াস ছাড়াতে আজও মুলোর উপর ভরসা রাখেন আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞরা।

৮. মধু:

৮. মধু:

এতে উপস্থিত বেশ কিছু ভিটামিন, এনজাইম এবং প্রোটিন শরীর থেকে নিকোটিন বের করে দেওয়ার পাশাপাশি সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছাকেও নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে ধূমপান ছাড়তে কোনও অসুবিধাই হয় না।

Story first published: Tuesday, December 5, 2017, 15:48 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion