প্রতিদিন পালং শাক-ফুলকপি সঙ্গে বাদাম এবং ডিম খেতেই হবে! না হলে কিন্তু...!

পরিসংখ্যান বলছে আমাদের দেশে যে হারে বায়ু দূষণ বাড়ছে, তাতে কদিন পরে বাড়িতে বাড়িতে যে অক্সিজেন সিলিন্ডার স্টোর করতে হবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

By Nayan

সুস্থভাবে বাঁচতে চান নাকি ৪০-এই পটল তুলতে চান, একটু খোলসা করে বলুন তো? আরে মশাই এ কেমন কথা! নিশ্চয় বাঁচতে চাই! তাই যদি চান, তাহলে রাতের পর রাত জেগে অফিসের কাজ উতরে দিয়ে মাইনে তো বাড়াচ্ছেন, কিন্তু ঠিক ঠিক খাবার খেয়ে শরীরের অন্দরের অবস্থার উন্নতি ঘটাচ্ছেন না কেন বলতে পারেন?

মানে! ঠিক কী বলতে চাইছি বুঝলেন না তো? দাঁড়ান তাহলে সহজ করে বলি! পরিসংখ্যান বলছে আমাদের দেশে যে হারে বায়ু দূষণ বাড়ছে, তাতে কদিন পরে বাড়িতে বাড়িতে যে অক্সিজেন সিলিন্ডার স্টোর করতে হবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তার উপর অনিয়ন্ত্রিত জীবন, ভাজা খাবারের প্রতি ভালবাসা এবং আরও নানা কারণে শরীর যাচ্ছে ভেঙে। এমন পরিস্থিতিতে যদি নিজের ডেয়েটের দিকে নজর না দেন, তাহলে কিন্তু সুস্থভাবে বেঁচে থাকা একেবারেই সম্ভব নয়। তাই তো চিকিৎসকেরা নিয়মিত মেডিটারিয়ান ডায়েটে মেনে বেশি বেশি করে ফল এবং শাক-সবজি খেতে বলছেন। সেই সঙ্গে ডিম, অলিভ অয়েল এবং বাদামের সঙ্গেও বন্ধুত্ব করার পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণ সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্র অনুসারে নিয়মিত এই ধরনের খাবার খেলে শরীর, ভিতর এবং বাইরে থেকে এতটা শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষার সুযোগ পায় না। সেই সঙ্গে মেলে আরও অনেক উপকার। যেমন...

১. ওজন হ্রাসে পায়:

১. ওজন হ্রাসে পায়:

খাওয়া না কমিয়েও ওজন কমাতে চান নাকি? তাহলে বন্ধু আজ থেকেই মেডিটেরিয়ান ডায়েটে মেনে বেশি করে পালং শাক এবং পছন্দের সব শাক-সবজি খাওয়া শুরু করুন। সেই সঙ্গে নিয়ম করে এক মুঠো বাদাম এবং একটা করে ডিম যদি খেতে পারেন, তাহলে ওজন তো কমবেই, সেই সঙ্গে শরীরে পুষ্টির অভাব দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পাবে। আসলে এমন ধরনের খাবার বেশি করে খেলে শরীরে প্রোটিন এবং ফাইবারের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকার কারণে বারে বারে খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা একেবারে কমে যাবে।

২. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে:

২. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে:

যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে মেডিটেরিয়ান ডায়েট মানেই তাতে থাকবে বাদাম, সবজি, হোল গ্রেন এবং ফল। আর যেমনটা সবারই জানা আছে এইসব খাবারে প্রচুর পরিমাণে যেমন ভিটামিন এবং মিনারেল রয়েছে, তেমনি রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড এবং মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, এই উপাদানগুলি হার্টের কর্মক্ষমতা এতটা বাড়িয়ে দেয় যে কোনও ধরনের কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। প্রসঙ্গত, এই ধরনের খাবারগুলিতে আলফা-লাইনোলেনিক অ্যাসিড বলে একটি উপাদান থাকে, এটি হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৩০-৪৫ শতাংশ কমিয়ে দেয়।

৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে:

৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে:

পরিসংখ্যানের দিকে নজর ফেরালে জানতে পারবেন গত কয়েক দশকে আমাদের দেশে হার্টের রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং ডায়াবেটিসের মতো নন-কমিউনিকেবল ডিজিজের প্রকোপ মারাত্মক বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সুস্থভাবে বাঁচতে বেশি করে শাক-সবজি এবং ফল না খেলে চলবে না। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে হার্টের রোগের আশঙ্কা কমানোর পাশাপাশি খারাপ কোলেস্টেরল এবং ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ধরনের খাবারগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

৪. ক্যান্সারের মতো রোগকে দূরে রাখে:

৪. ক্যান্সারের মতো রোগকে দূরে রাখে:

অঙ্কোলজিস্টদের মতে আমাদের দেশে যে হারে এই মারণ রোগের প্রকোপ বাড়ছে, তাতে আগামী ৫-১০ বছরে প্রায় প্রতিটা পরিবারেই একজন করে ক্যান্সার রোগী থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে মেডিটেরিয়ান ডায়েট মেনে খাওয়া-দাওয়া করার প্রয়োজন যে বেড়েছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আসলে এই বিশেষ ধরনের ডায়েটে যেসব খাবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তার বেশিরভাগের শরীরেরই রয়েছে ওমেগা থ্রি এবং সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড, সেই সঙ্গে রয়েছে ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পলিফেনল। এই উপাদানগুলি শরীরে ক্যান্সারে সেলের জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা একেবারে কমিয়ে ফেলে। ফলে এই মারণ রোগ ধারে কাছেও আসতে পারে না।

৫. টাইপ ২ ডায়াবেটিসের মতো রোগকে প্রতিরোধ করে:

৫. টাইপ ২ ডায়াবেটিসের মতো রোগকে প্রতিরোধ করে:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে শরীরে প্রদাহের মাত্রা কমানোর মধ্যে দিয়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো রোগকে দূরে রাখতে মেডিটেরিয়ান ডায়েট বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে বেশি করে শাক-সবজি, ফল, বাদাম এবং ডিম জাতীয় খাবার খেলে দেহের অন্দরে ইনসুলিনের উৎপাদন বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। এবার বুঝেছেন নিশ্চয় আজকের পরিস্থিতিতে মেডিটেরিয়ান ডায়েট অনুসরণ করার প্রয়োজন কতটা!

Story first published: Friday, January 12, 2018, 15:32 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion