সাবধান: দীর্ঘমেয়াদি মন খারাপের কারণে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে ব্রেনের!

Written By:
Subscribe to Boldsky

অল্প বিস্তর মন খারাপ তো আমাদের সবারই হয়ে থাকে। কিন্তু একথা কি জানা আছে যে ক্রনিক মন খারাপের সমস্যায় দীর্ঘ দিন ভুগলে মস্তিষ্কের অন্দরে এত মাত্রায় ক্ষতি হয় যে নানাবিধ ব্রেন ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই মন খারাপের মতো অনুভূতিকে বেশি দিন মনে প্রশ্রয় দিলে কিন্তু বিপদ!

সম্প্রতি ল্যান্সেট পত্রিকায় প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্রে এমনটা দাবি করা হয়েছে যে দীর্ঘ সময় ধরে ডিপ্রেশনের মতো রোগে ভুগলে ব্রেনের অন্দরে প্রদাহের মাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্রেন সেলের মারাত্মক ক্ষতি হয়। আর এমনটা হতে থাকলে অ্যালঝাইমারস, ডিমেনশিয়া এবং পার্কিসনের মতো জটিল মস্তিষ্কঘটিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

গবেষণাটি চলাকালীন বিশষজ্ঞরা লক্ষ করেছিলেন মন খারাপ যখন মাত্রা ছাড়ায়, তখন মস্তিষ্কের অন্দরে ট্রান্সলোকেটার প্রোটিনের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যা প্রমাণ করে যে ডিপ্রেশনের সঙ্গে ইনফ্লেমেশন বেড়ে যাওয়ার গভীর যোগ রয়েছে। প্রসঙ্গত, আমাদের দেশের যুবসমাজের মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশ মানসিক অবসাদের শিকার, যা সারা বিশ্বের মধ্যে সবথেকে বেশি। শুধু তাই নয়, ডিপ্রেশন বা মন খারাপের কারণে আমাদের দেশে প্রতি বছর যতজন আত্মহত্যা করছেন, তার সংখ্যার নিরিখেও ভারত বাকি অনেক দেশকে পিছনে ফেলে দিয়েছেন। তাই এমন পরিস্থিতিতে যুব সমাজকে যে আরও বেশি করে সাবধান হতে হবে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

এখন প্রশ্ন হল এত স্ট্রেসফুল পরিস্থিতিতে মানসিক অবসাদের থেকে দূরে থাকার কোনও উপায় আছে কি? অবশ্যই আছে। তবে তার জন্য এই প্রবন্ধে আলোচিত খাবারগুলিকে রোজের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাহলেই দেখবেন এই মারণ রোগ আপনার ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে যে যে খাবারগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, সেগুলি হল...

১. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার:

১. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার:

এটি এমন একটি উপাদান যা নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। শুধু তাই নয়, মন খারাপ, অ্যাংজাইটি এবং ডিপ্রেশনের মতো ভয়ঙ্কর রোগকে দূরে রাখতেও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই এমন স্ট্রেসফুল পরিবেশে নিজের মনকে বাগে রাখতে চেরি, আঙুর এবং সবুজ শাক-সবজির মতো খাবার বেশি করে খেতে হবে। না হলে কিন্তু বেজায় বিপদ!

২. মাছ:

২. মাছ:

প্রতিটি বাঙালি বাড়িতেই এখনও প্রতিদিন মাছ রান্নার রেওয়াজ রয়েছে, যে কারণে খেয়াল করে দেখবেন ব্রেন পাওয়ারের দিক থেকে বাঙালি অনেকের থেকেই বেশ এগিয়ে রয়েছে। আসলে মাছে উপস্থিত ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন বি, বি৬ এবং বি১২ এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, এই উপাদানগুলি মানসিক অবসাদের মতো রোগের আক্রমণ থেকে বাচ্চাদের বাঁচাতেও নানাভাবে সাহায্য় করে থাকে।

৩. সাইট্রাস ফল:

৩. সাইট্রাস ফল:

পাতি লেবু, কমলা লেবু এবং মৌসাম্বি লেবুর মত সাইট্রাস ফলের শরীরে মজুত রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রকৃতিক সুগার, যা স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ তো কমায়ই, সেই সঙ্গে মানসিক অবসাদকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। তাই তো বাচ্চাদের প্রতিদিন এক বাটি করে ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

৪. টমাটো:

৪. টমাটো:

এতে উপস্থিত লাইকোপেন নামক এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে প্রবেশ করার পর মন খারাপকে সমূলে উৎখাত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে মানসিক অবসাদের মতো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সময় লাগে না। এই কারণেই তো যাদের খুব স্ট্রেসফুল কাজ করতে হয়, তাদের প্রতিদিন একটা করে কাঁচা টমাটো খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

৫. পালং শাক:

৫. পালং শাক:

বাঙালির প্রিয় এই শাকটি নিয়মিত খাওয়া শুরু করলে শরীরে আয়রন, এবং ফলিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। যার প্রভাবে মস্তিষ্কের অন্দরে স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ কমে। ফলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে শুরু করে। সেই সঙ্গে সার্বিকভাবে শারীরিক ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। তাই এবার থেকে যখনই মনটা বেশ খারাপ খারাপ লাগবে পালং শাক খাওয়া শুরু করবেন। দেখবেন উপকার মিলবে।

৬. ভিটামিন ডি:

৬. ভিটামিন ডি:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে শরীরে এই বিশেষ ধরনের ভিটামিনটির ঘাটতি দেখা দিলে মুড সুইং এবং ডিপ্রেশনের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এই কারণেই তো নিয়মিত কিছু সময় গায়ে রোদ লাগানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। কারণ সূর্যের আলো গায়ে লাগলে দেহের অন্দরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দূর হতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, যে যে খাবারে এই ভিটামিনটি প্রচুর পরিমাণে থাকে, সেগুলি হল মাশরুম, সয়ামিল্ক, ডিম প্রভৃতি।

৭. নারকেল:

৭. নারকেল:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নাককেলে উপস্থিত বেশ কিছু উপকারি ফ্যাট শরীরে প্রবেশ করার পর মস্তিষ্কের অন্দরে ফিল গুড হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে ব্রেন পাওয়ার এতটা বাড়িয়ে দেয় যে স্ট্রেস এবং মানসিক অবসাদের প্রকোপ তো কমেই, সেই সঙ্গে বুদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তিরও উন্নতি ঘটে।

৮. বাদাম:

৮. বাদাম:

এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন বি২, ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম এবং জিঙ্ক। এই সবকটি উপাদান সেরাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বার করে দেয়। ফলে কোনওভাবেই স্ট্রেস ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

৯. রসুন:

৯. রসুন:

এতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের অন্দরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মাত্রা কমানোর মধ্যে দিয়ে স্ট্রেস এবং অ্যাংজাইটি কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, ছোট থেকেই নিয়মিত রসুন খাওয়ার অভ্যাস করলে হার্টের কর্মক্ষমতা যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি ডায়াবেটিসের মোতে রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে।

১০. কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট:

১০. কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট:

নিয়মিত ব্রাউন রাইস বা হোল গ্রেনের মতো খাবার খেলে শরীরে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা নার্ভাসনেস, অ্যাংজাইটি এবং ইনসমনিয়ার মতো সমস্যা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

১১. দই:

১১. দই:

স্কুল থেকে ফেরার পর প্রতিদিন যদি আপনার বাচ্চাকে এক বাটি করে দই খাওয়াতে পারেন, তাহলে তাদের শরীরে সরোটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা স্ট্রেস কমানোর পাশাপাশি ব্রেন পাওয়ার বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর একবার ব্রেন পাওয়ার বেড়ে গেলে অ্যাংজাইটির মতো সমস্যা কো কমেই, সেই সঙ্গে পড়াশোনাতেও উন্নতি ঘটে।

    Read more about: শরীর রোগ
    English summary

    অল্প বিস্তর মন খারাপ তো আমাদের সবারই হয়ে থাকে। কিন্তু একথা কি জানা আছে যে ক্রনিক মন খারাপের সমস্যায় দীর্ঘ দিন ভুগলে মস্তিষ্কের অন্দরে এত মাত্রায় ক্ষতি হয় যে নানাবিধ ব্রেন ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই মন খারাপের মতো অনুভূতিকে বেশি দিন মনে প্রশ্রয় দিলে কিন্তু বিপদ!

    Depression is fast emerging to be one of the most common medical concerns across the globe. Globally, more than 300 million people of all ages suffer from depression. Depression is a disorder characterized by negative frame of mind, which negatively impacts the way you think and act. According to a latest study, long term depression can alter brain and manifest into many other brain-related disorders. The study said that untreated depression, lasting more than a decade, had significantly more brain inflammation compared to those who had less than 10 years of untreated depression.
    Story first published: Wednesday, February 28, 2018, 15:06 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more