সপ্তাহে অন্তত তিনদিন মাশরুম সুপ খাওয়া জরুরি কেন জানেন?

Written By:
Subscribe to Boldsky

এই ধরনের খাবার বাঙালি ডেলিকেসিতে জায়গা না পেলেও সুস্থ থাকতে যদি চান, তাহলে এখন থেকেই মাশরুম খাওয়া করুন। না হলে কিন্তু...!

মাত্রাতিরিক্ত দূষণ, অনিয়ন্ত্রত জীবনযাত্রা এবং স্ট্রেসের কারণে যেভাবে আমাদের শরীর ভাঙতে শুরু করেছে, তাতে মাশরুম খাওয়ার প্রয়োজন যে বেড়েছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত এই প্রকৃতিক উপাদনটি খাওয়া শুরু করলে শরীরের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে তার প্রভাবে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ক্যান্সার রোগও দূরে থাকতে বাধ্য হয়। তবে ভাববেন না এখানেই শেষ। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত মাশরুম খাওয়ার অভ্যাস করলে ত্বকের বয়সের কাঁটা এগতেই পারে না। ফলে আমৃত্যু ত্বক সুন্দর এবং প্রাণচ্ছ্বল রাখার স্বপ্ন পূরণে আর কোনও বাঁধাই থাকে না। সেই সঙ্গে মেলে নানাবিধ শারীরিক উপকারও। যেমন ধরুন...

১. সেলেনিয়ামের ঘাটতি দূর করে:

১. সেলেনিয়ামের ঘাটতি দূর করে:

হাড়কে শক্তপোক্ত করার পাশাপাশি দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে, চুল এবং নখের সৌন্দর্য বাড়াতে এবং শরীরকে বিষ মুক্ত রাখতে এই উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর সেলেনিয়াম সবথেকে বেশি মাত্রায় থাকে মাশরুমে। এবার বুঝেছেন তো এই প্রকৃতিক উপাদনটি দিয়ে বানানো সুপ খাওয়ার প্রয়োজন কতটা!

২. পুষ্টির ঘাটতি দূর করে:

২. পুষ্টির ঘাটতি দূর করে:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে শরীরকে চালাতে যে যে পুষ্টিকর উপাদানগুলির প্রয়োজন পরে, তার বেশিরভাগই মজুত থাকে মাশরুমে। যেমন ভিটামিন ডি-এর কথাই ধরুন না। এই উপাদানটি শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে সচল রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, এই প্রাকৃতিক উপাদানটি খাওয়া শুরু করলে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের ঘাটতিও দূর হয়। ফলে সার্বিকভাবে শরীরের সচলতা বৃদ্ধি পেতে সময় লাগে না।

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে:

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে:

আর্গোথিয়োনাইন নামক বিশেষ এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মজুত রয়েছে মাশরুমে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টটি ইমিউনিটি বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর একবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে গেলে কোনও রোগের পক্ষেই আর শরীরকে আক্রমণ করা সম্ভব হয় না। ফলে সুস্থ জীবনের পথ প্রশস্ত হয়। প্রসঙ্গত, মাশরুমের মধ্যে থাকা প্রকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক নানাবিধ সংক্রমণের আশঙ্কা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৪. ডায়াবেটিস রোগকে দূরে রাখে:

৪. ডায়াবেটিস রোগকে দূরে রাখে:

পরিবারে সুগার রোগের ইতিহাস আছে নাকি? যদি থাকে তাহলে রোজের ডায়েটে মাশরুমের অন্তর্ভুক্তি মাস্ট! কারণ এতে থাকা প্রকৃতিক ইনসুলিন শরীরে প্রবেশ করার পর রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে শুরু করে। ফলে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে। তবে এখানেই শেষ নয়, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে মাশরুম, লিভার, প্যানক্রিয়াস এবং অন্যান্য এন্ডোক্রনিক গ্ল্যান্ডের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫. অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমায়:

৫. অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমায়:

শরীরে আয়রনের পরিমাণ কমতে শুরু করলে লহিত রক্ত কণিকার উৎপাদনে বাঁধা আসতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অ্যানিমিয়ার প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে মাশরুমের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটি আয়রনে ঠাসা। ফলে অ্যানিমিক রোগীদের নিয়ম করে মাশরুম খাওয়ালে রোগের প্রকোপ কমতে সময়ই লাগে না।

৬. আয়রনের ঘাটতি দূর করে:

৬. আয়রনের ঘাটতি দূর করে:

লোহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন বাড়ানোর মধ্যে দিয়ে রক্তাল্পতার মতো সমস্যা দূর করতে এবং শরীরের সচলতা বাড়াতে আয়রন বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই কারণেই তো নিয়মিত মাশরুম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। কারণ এতে উপস্থিত কপার আয়রনের শোষণ মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে দেহে এই খনিজটির ঘাটতি হাওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

৭. খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়:

৭. খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়:

মাশরুমের শরীরে মজুত থাকা ফাইবার এবং উপকারি এনজাইম শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে ধীরে ধীরে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এল ডি এল মাত্রা কমতে শুরু করে। অন্যদিকে বাড়তে শুরু করে উপকারি কোলেস্টেরলের মাত্রা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে কমে অ্যাথেরোস্কেলেরোসিস, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের আশঙ্কাও।

৮. রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখে:

৮. রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখে:

নানা কারণে রক্তচাপ কি খুব ওঠানামা করছে? তাহলে তো মাশাই মাশরুমের সঙ্গই আপনার বন্ধুত্ব করার সময় এসে গেছে। কারণ মাশরুমে উপস্থিত পটাশিয়াম, শরীরের অন্দরে সোডিয়ামের ভারসাম্য ঠিক রাখার মধ্যে দিয়ে ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৯. ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখে:

৯. ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখে:

মাশরুমের অন্দরে বিটা-গ্লকেন এবং লাইনোলিক অ্যাসিড নামে দুটি উপাদান থাকে, যা শরীরে প্রবেশ করার পর কার্সিনোজেনিক গ্রোথ হতে দেয় না। সেই সঙ্গে শরীর থেকে টক্সিক উপাদানদেরও বের করে দেয়। ফলে ক্যান্সার রোগ ধারে কাছেও আসতে পারে না। প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে আমাদের দেশে যে হারে ক্যান্সার রোগের প্রকোপ বেড়েছে, তাতে মাশরুমের মতো অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক খাবার খাওয়ার প্রয়োজন যে বেড়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

১০. হাড়কে শক্তপোক্ত করে:

১০. হাড়কে শক্তপোক্ত করে:

ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে নিয়মিত এই প্রকৃতিক উপাদানটি খেলে ধীরে ধীরে হাড়ের গঠনে উন্নতি ঘটতে শুরু করে। সেই সঙ্গে নানাবিধ হাড়ের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। তাই তো বুড়ো বয়সে গিয়ে যদি জয়েন্টের ব্যথায় কাবু হতে না চান, তাহলে এখন থেকেই মাশরুমের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতে শুরু করুন। দেখবেন দারুন উপকার পাবেন।

চিকেন-মাশরুম সুপ বানানোর পদ্ধতি:

চিকেন-মাশরুম সুপ বানানোর পদ্ধতি:

এক্ষেত্রে প্রথমে পরিমাণ মতো মাশরুম ভাল করে কেটে নিন। তারপর একটা ফ্রাইং প্যান নিয়ে তাতে পরিমাণ মতো মাখন নিয়ে গলিয়ে নিন। এবার তাতে স্লাইস করা পিঁয়াজ, রসুন এবং মাশরুমের টুকরোগুলো দিয়ে দিন। যতক্ষণ না পর্যন্ত পিঁয়াজটা নরম হচ্ছে, ততক্ষণ নারাতে থাকুন। তারপর ২ চামচ বেসন মিশিয়ে ভাল করে নারাতে থাকুন। যখন দেখবেন সবকটি উপাদান ভাল করে মিশে গেছে, তখন তাতে অল্প করে ছোট ছোট করে কাটা চিকেনের টুকরো ফেলে দিন। কিছু সময় পরে অল্প পরিমাণ ক্রিম মিশিয়ে ভাল করে নারাতে থাকুন। এই সময় প্রয়োজন মনে করলে অল্প করে বেসনও দিতে পারেন। যখন দেখবেন চিকেন এবং মাশরুমটা ভাল করে রান্না হয়ে গেছে তখন আঁচ বন্ধ করে দিন। আপনার মাশরুম-চিকেন সুপ তৈরি পরিবেশনের জন্য।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: শরীর রোগ
    English summary

    এই ধরনের খাবার বাঙালি ডেলিকেসিতে জায়গা না পেলেও সুস্থ থাকতে যদি চান, তাহলে এখন থেকেই মাশরুম খাওয়া করুন। না হলে কিন্তু...!

    The health benefits of mushrooms include relief from high cholesterol levels, breast cancer, prostate cancer, and diabetes. They also help in weight loss and increase the strength of your immune system.
    Story first published: Saturday, February 17, 2018, 12:56 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more