গলা জ্বালায় প্রায়ই ভোগেন? ওষুধ ছাড়াই মুক্তি মিলবে এ সব ঘরোয়া টোটকায়!

ঠান্ডা লেগে গলা ব্যথা, গলা জ্বালা হওয়া খুবই সাধারণ। গলা জ্বালা-ব্যথার কারণে কথা বলতে, ঢোক গিলতে খুবই সমস্যা হয়। অম্বল বা অ্যাসিডিটির প্রভাবেও গলা-বুক জ্বালা এবং চোঁয়া ঢেকুরের সমস্যা হয়। আমাদের পাকস্থলীতে পরিপাকের কাজের জন্য অ্যাসিড জমা থাকে। খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম, অস্বাস্থ্য়কর খাবার এবং অতিরিক্ত তেলমশলার প্রভাবে পাকস্থলীতে এই অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই অ্যাসিড পাকস্থলীর কপাটিকা থেকে সোজা খাদ্যনালীতে চলে আসে। এই কারণেই আমাদের গলা ও বুক জ্বলতে থাকে আমাদের। এছাড়াও আরও অনেক কারণে গলা জ্বালার সমস্যা হয়।

Home Remedies To Cure Burning Sensation In The Throat

তবে বিশেষ কিছু ঘরোয়া টোটকায় গলা জ্বালার সমস্যা থেকে মুক্তি মিলতে পারে নিমেষেই! দেখে নিন, গলা জ্বালার অস্বস্তি থেকে বাঁচতে কী করবেন-

গলায় জ্বালা হওয়ার কারণ

গলায় জ্বালা হওয়ার কারণ

গলায় জ্বালাপোড়া বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন -

-দূষণ

-অত্যধিক গরম খাদ্য বা পানীয়

-মশলাদার খাবার

-অ্যাসিডিটি

-গলায় ইনফেকশন

-আলসার

-খাবার থেকে অ্যালার্জি, ইত্যাদি।

মধু

মধু

সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) অনুসারে, মধু গলায় জ্বালাপোড়ার সমস্যা কমাতে দারুণ কার্যকর। মধুর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য গলায় জ্বালাপোড়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসকে মেরে ফেলে। সরাসরি দুই চা চামচ মধু খেতে পারেন বা অথবা গরম হার্বাল চায়ের সঙ্গে মিশিয়েও মধু সেবন করতে পারেন।

গরম জলে গার্গল

গরম জলে গার্গল

গলা ব্যথা বা গলায় জ্বালা হলে এক কাপ গরম জলে ১/৪ চা চামচ লবণ মিশিয়ে গার্গল করুন। লবণ ব্যবহারে গলার টিস্যু থেকে তরল নির্গত হয়, যা ভাইরাস এবং শ্লেষ্মা অপসারণে সহায়তা করে। এ ছাড়াও, গরম জলে গার্গল অ্যাসিড উৎপাদন হ্রাস করে এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল অস্বস্তিও কমায়। তাই গলার অস্বস্তি কমাতে দিনে বেশ কয়েকবার গার্গল করুন। আর অবশ্যই পর্যাপ্ত জল পান করুন, এতে শরীর হাইড্রেট থাকে এবং গলায় জ্বালাপোড়ার সমস্যাও কমবে।

ঠান্ডা দুধ

ঠান্ডা দুধ

পেট এবং গলা জ্বালাপোড়ার জন্য সেরা প্রতিকার হল এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ। দুধে প্রচুর পরিমাণে ইলেক্ট্রোলাইট এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে। এই উভয় বৈশিষ্ট্যই ডিহাইড্রেশন এবং হজমের সমস্যা কমাতে পারে। আর, গলা ব্যথা কমাতে খুবই কার্যকর ঠান্ডা দুধ।

পুদিনা পাতা

পুদিনা পাতা

পুদিনা পাতায় অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণাগুণ রয়েছে। পুদিনার এই গুণই ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক এবং ভাইরাস মেরে ফেলতে পারে। এ ছাড়া, অ্যাসিডিটি এবং অম্বলের কারণেও গলায় জ্বালাপোড়া হতে পারে। সেক্ষেত্রেও পুদিনা সাহায্য করে। পুদিনা পেটে অ্যাসিডের উৎপাদন কমায়।

স্বাস্থ্যকর খাবার খান

স্বাস্থ্যকর খাবার খান

এমন কিছু খাবার এবং পানীয় রয়েছে যা গলায় জ্বালাপোড়া উপশমে দারুণ কাজ করে। ডিমের সাদা অংশ, দই, আদা, ওটস জাতীয় খাবার এবং শাকসবজির স্যুপ, শাকসবজির স্মুদি, নন-ক্যাফিনযুক্ত পানীয় খেতে পারেন। এক কাপ গরম চায়ে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।

এই খাবারগুলি খাবেন না

এই খাবারগুলি খাবেন না

ধূমপান, অ্যালকোহল, গরম মশলাদার বা অ্যাসিডিক খাবার, কফি, চা এবং জাঙ্ক ফুড না খাওয়াই ভালো। এর পরিবর্তে এমন খাবার খান যেগুলি আপনার গলা ভালো রাখবে। আর, ধুলো-ময়লা ভর্তি জায়গায় যাবেন না।

Disclaimer : এই আর্টিকেলটি সাধারণ তথ্যের উপর ভিত্তি করে লেখা। কোনও কিছু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেবেন।

X
Desktop Bottom Promotion