মোজা ছাড়া জুতো পরলেই কিন্তু বন্ধুত্ব করতে হবে দই-রসুনের সঙ্গে! না হলেই বিপদ!

Written By:
Subscribe to Boldsky

মোজা ছাড়া জুতো পরাটা এখন একটা জনপ্রিয় ট্রেন্ড। কিন্তু এই ট্রেন্ডের চক্করে যে পায়ের বারোটা বেজে যাচ্ছে, সে বিষয়ে কারওই নজর নেই।

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে দিনের পর দিন মোজা ছাড়া জুতো পরলে পায়ে ফাঙ্গাল ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কা মারাত্মক বৃদ্ধি পায়। ফলে দামি জুতো পরলেও পায়ের সৌন্দর্য কিন্তু একেবারে গায়েব হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে সারা দিনে পায়ে প্রায় ২৩০ এম এল ঘাম হয়। এই পরিমাণ ঘাম সাধারণত কটন মোজা শুষে নিয়ে পাকে সুরক্ষিত রাখে। কিন্তু কেউ যদি মোজা ছাড়া জুতো পরে, তাহলে পায়ের ঘাম জুতোয় জমতে শুরু করে। আর এমনটা হতে থাকলে জুতোর মধ্যে ক্ষতিকর ফাঙ্গাসের পরিমাণ বাড়তে থাকে, যা থেকে পায়ে অ্যাথেলিট ফুট বা ঐ জাতীয় সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

কলেজ অব পডিয়েট্রির বিশেষজ্ঞদের মতে পায়ে ঘাম হতে থাকার কারণে শরীরের এই আংশে আদ্রতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। আর যেমনটা সবারই জানা আছে যে আদ্র, স্যাঁতস্যাঁতে জায়গাতেই ফাঙ্গাসের জন্ম এবং বৃদ্ধি বেশি মাত্রায় হয়ে থাকে। তাই তো মোজা ছাড়া জুতো পরা কোনও মতেই চলবে না। তবু যদি ফাঙ্গাসের আক্রমণের সামনে পরতে হয়, তাহলেও চিন্তা করবেন না। কারণ আমাদের রান্নঘরে এমন কিছু উপাদান মজুত থাকে, যা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন ধরুন...

১. দই:

১. দই:

ফাঙ্গাল ইনফেকশনের প্রকোপ কমাতে দইয়ের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এতে উপস্থিত উপকারি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের চিকিৎসায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ টক দই নিয়ে তুলোতে লাগিয়ে বাড়ে বাড়ে ক্ষতস্থানে লাগাতে হবে। তাহলেই দেখবেন কষ্ট কমে যাবে।

২. রসুন:

২. রসুন:

এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-ফাঙ্গাল প্রপাটিজ, যা ফাঙ্গাস ইনফেকশন সারাতে দারুনভাবে কাজে আসে। শুধু তাই নয়, রসুনে উপস্থিত অ্যান্টিবায়োটিক প্রপাটিজও এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই এবার থেকে এমন কোনও পরিস্থিত দেখা দিলেই ২ টো রসুন নিয়ে বেটে নেবেন। তারপর সেই পেস্ট ভাল করে ক্ষতস্থানে লাগালেই দেখবেন সমস্যা কমে যাবে।

৩. নারকেল তেল:

৩. নারকেল তেল:

এতে উপস্থিত উপকারি ফ্যাটি অ্যাসিড জীবাণুদের মেরে ফেলে সংক্রমণের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যদি লোফার জাতীয় জুতো পারার খুব ইচ্ছা থাকে, তাহলে নারকেল তেলের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতে ভুলবেন না যেন! এক্ষেত্রে ক্ষতস্থানে অল্প করে নারকেল তেল লাগিয়ে শুকনোর সময় দিতে হবে। তারপর জয়গাটা ধুয়ে নেবেন। এইভাবে দিনে ২-৩ বার করলেই দেখবেন উপকার মিলবে।

৪. চা:

৪. চা:

এই পানীয়টিতে রয়েছে ট্যানিন্স নামক একটি উপাদান, যা আদতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল। সেই কারণেই তো যে কোনও ধরনের সংক্রমণেই যদি অল্প করে ঠান্ডা লিকার চা লাগানো যায়, তাহলে দারুন উপকার মেলে। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে একটি টি ব্য়াগ ১০ মিনিট গরম জলে জবিয়ে কিছুটা ঠান্ডা করে যদি ক্ষতস্থানে লাগানো যায়, তাহলেও দারুন উপকার মেলে।

৫. হলুদ:

৫. হলুদ:

এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক, যা সংক্রমণের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এখন প্রশ্ন হল, এমন রোগে কিভাবে হলুদকে ব্যবহার করতে হবে? এক্ষেত্রে ক্ষতস্থানে অল্প করে হলুদের রস লাগিয়ে ২-৩ ঘন্টা রেখে দিতে হবে। সময় হয়ে গেলে হাল্কা গরম জলে ধুয়ে নিতে হবে জায়গাটা। এইভাবে যদি দিনে দুবার সংক্রণের চিকিৎসা করা য়ায়, তাহলে রোগের প্রকোপ কমতে সময় দেখবেন একেবারে সময় লাগবে না।

৬. ক্র্যানবেরি জুস:

৬. ক্র্যানবেরি জুস:

চিনি ছাড়া এই জুসটি নিয়মিত পান করলে শরীরের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে, যার প্রভাবে সংক্রমণ কমতে শুরু করে। আর যদি ক্র্যানবেরি জুস খেতে ইচ্ছা না করে, তাহলে ট্য়াবলেট হিসেবেও খেতে পারেন। এমনটা করলেও সমান উপকার পাওয়া যায়।

Read more about: রোগ, শরীর
English summary
A new study reveals that while it may be increasingly fashionable among men to wear shows without socks, it is not exactly a really good idea.
Story first published: Monday, October 9, 2017, 17:19 [IST]
Please Wait while comments are loading...