কাজু বাদাম খেলে শরীরের কী কী উপকার হয় জানা আছে?

Subscribe to Boldsky

কিডনির মতো দেখতে। এমনি খান কী ভেজে। দু ক্ষেত্রেই স্বাদে এত তোফা যে লোভ সামলানো কঠিন হয়ে যায়। এমনিতে চিকিৎসকেরা বলেন বাদাম খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল। কিন্তু কাজু বাদামের ক্ষেত্রে কি এই কথাটা খাটে?

কোনও দিনই আমাদের দেশে এই বিশেষ বাদামটির চাষ হত না। ১৪৯৮ সালে ভাস্কো দা গামার হাত ধরে এদেশে এন্ট্রি ঘটে কাজু বাদামের। তার পর থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পরে এর স্বাদের সুখ্যাতি। এখন তো ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকা মহাদেশের একাধিক দেশে এই বাদামটির চাষ হয়ে থাকে। কিন্তু প্রশ্ন হল কাজু বাদাম খাওয়া কি আদৌ স্বাস্থ্যকর?

এক্ষেত্রে যদি বৈজ্ঞানিক নথির উপর ভারসা রাখতে পারেন, তাহলে বলতেই হয় যে পুষ্টিগুণ এবং শরীরিক উপকারিতার দিক থেকে কাজু বাদামের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এতে উপস্থিত প্রোটিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খনিজ এবং ভিটামিন নানা ভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। শুধু তাই নয়, কাজু বাদামে ভিটামিনের মাত্রা এত বেশি থাকে যে চিকিৎসকেরা একে প্রকৃতিক ভিটামিন ট্যাবলেট নামেও ডেকে থাকেন। তবে একথাও ঠিক যে মাত্রা ছাড়া এই বাদামটি যদি কেউ খায়, তাহলে কিন্তু শরীরের উপকারের থেকে অপকার হয় বেশি। কারণ উপকারি উপাদানও যদি বেশি মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করে, চতাহলে উল্টো ফল হতে শুরু করে। তাই পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে কাজু বাদাম, তাহলেই দেখবেন এর খেল।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত যদি কাজু বাদাম খাওয়া যায়, তাহলে শরীরে নান পুষ্টিকর উপাদানের ঘাটতি দূর হয়, সেই সঙ্গে আরও কিছু উপাকার পাওয়া যায়। যেমন...

১. ক্যান্সার রোগ দূরে থাকে:

১. ক্যান্সার রোগ দূরে থাকে:

এই মারণ রোগটি যদি সাপ হয়,তাহলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হল বেজি। তাই তো যেখানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, সেখানে ক্যান্সার সেলের খোঁজ পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই তো প্রতিদিন এক মুঠো করে কাজু বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। আসলে এই বাদমটির শরীরে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ক্যান্সার সেলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি টিউমার যাতে দেখা না দেয় সেদিকেও খেয়াল রাখে। প্রসঙ্গত, কাজু বাদামে থাকা প্রম্যান্থোসায়ানিডিন নামে একটি উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২. সংক্রমণের আশঙ্কা কমে:

২. সংক্রমণের আশঙ্কা কমে:

এই প্রকৃতিক উপাদানটিতে থাকা জিঙ্ক, ভাইরাসের আক্রমণের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে। তাই আপনি যদি এই ধরনের ইনফেকশনের শিকার প্রায়শই হয়ে থাকেন, তাহলে রোজের ডায়েটে কাজু বাদামের অন্তর্ভুক্তি ঘটাতেই পারেন।

৩. হার্টের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে:

৩. হার্টের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে:

কাজু বাদামে উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট একদিকে যেমন ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখে, তেমনি নানাবিধ হার্টের রোগ থেকে বাঁচাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যাদের পরিবারে হার্ট ডিজিজের ইতিহাস রয়েছে, তারা প্রয়োজন মনে করলে এই প্রকৃতিক উপাদানটির সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতেই পারেন।

৪. ব্লাড প্রেসার কন্ট্রলে থাকে:

৪. ব্লাড প্রেসার কন্ট্রলে থাকে:

মাঝে মধ্যেই কি রক্তচাপ গ্রাফের কাঁটার মতো ওঠা-নামা করে? তাহলে তো চটজলদি কাজু খাওয়া শুরু করতে হবে। কারণ এই বাদামে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, যা ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫. শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে:

৫. শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে:

কাজুতে রয়েছে ওলিসিক নামে এক ধরনের মোনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, যা দেহে বাজে কোলেস্টরলের মাত্রা কমাতে দারুন কাজে আসে। তাই তো নিয়মিত এই বাদমটি খেলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ফলে হার্টের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

৬. চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:

৬. চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:

কপার হল সেই খনিজ, যা চুলের ঔজ্জ্বল্য বাড়ানোর পাশাপাশি চুলের গোড়াকে শক্তপোক্ত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর এই উপাদানটি প্রচুর পরিমাণে রয়েছে কাজুতে। এবার নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন কিভাবে কাজু চুলের সৌন্দর্য বাড়িয়ে থাকে। তবে এখানেই শেষ নয়, কাজু বাদামে থাকা কপার শরীরের অন্দরে এমন কিছু এনজাইমের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, যা চুলের কালো রংকে ধরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয়।

৭. হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

৭. হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

কাজু বাদামে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ম্যাগনেসিয়াম থাকার কারণে এই বাদামটি নিয়মিত খেলে হাড়ের শক্তি বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে বুড়ো বয়সে গিয়ে অস্টিওআর্থারাইটিসের মতো হাড়ের রোগ হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

৮. নার্ভের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

৮. নার্ভের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

বাদামে শরীরের থারা ম্যাগনেসিয়াম নার্ভের ক্ষমতা বাড়িয়ে সার্বিকভাবে মস্তিষ্কের শক্তি বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর একবার ব্রেন পাওয়ার বাড়তে থাকলে ধীরে ধীরে ব্রেনের কগনিটিভ ফাংশনেরও উন্নতি ঘটে। ফলে বুদ্ধি, স্মৃতিশক্তি এবং মনোযোগও বাড়তে শুরু করে।

৯. ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে:

৯. ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে:

আমাদের দেশে যে হারে সুগার রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে বাদাম খাওয়ার প্রয়োজন বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে প্রোটিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ এই খাবারটি নিয়মিত খেলে রক্তে সুগারের মাত্র নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা কমে। সেই সঙ্গে শরীরর কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। তাই পরিবারে যদি ডায়াবেটিস রোগের ইতিহাস থাকে, তাহলে প্রতিদিন এক মুঠো করে বাদাম খাওয়ার শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: রোগ শরীর
    English summary

    কিডনির মতো দেখতে। এমনি খান কী ভেজে। দু ক্ষেত্রেই স্বাদে এত তোফা যে লোভ সামলানো কঠিন হয়ে যায়। এমনিতে চিকিৎসকেরা বলেন বাদাম খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল। কিন্তু কাজু বাদামের ক্ষেত্রে কি এই কথাটা খাটে?

    Nuts are low in carbohydrates. These are packed with vegetable protein and fibre, which help you to manage your glucose intake. It is seen that when nuts are eaten alone, it has minimal effects on raising postprandial blood glucose levels. However, if you consume nuts with carbohydrate-rich foods, it helps in lowering the postprandial glycemic response after a carbohydrate meal [1]. So the right way to have nuts is to have it with carbohydrates to minimise the surge of blood glucose level. Here are healthy snacks for diabetes to keep blood sugar stable all day long!
    Story first published: Tuesday, November 21, 2017, 17:49 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more