নতুন বছরে ধূমপান ছাড়তে চান কী?

এই লেখায় এমন কিছু খাবারের বিষয়ে আলোচনা করা হল, যা স্মোকিং-এর মতো কু-অভ্যাস ছাড়তে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

By Nayan

উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে একবার এই প্রবন্ধে চোখ রাখতেই হবে। কারণ এই লেখায় এমন কিছু খাবারের বিষয়ে আলোচনা করা হল, যা স্মোকিং-এর মতো কু-অভ্যাস ছাড়তে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণে পত্রে এমন দাবি করা হয়েছে যে দীর্ঘদিন ধূমপান করতে থাকলে মস্তিষ্কের অন্দরে এমন পরিবর্তন হতে শুরু করে যে একটা সময়ের পর নিকোটিনের নেশা ছাড়া একেবারে দূরহ হয়ে পরে। প্রসঙ্গত, "পি এন এ এস জার্নাল"এ প্রকাশিত এই গবেষণা পত্রে এমনও দাবি করা হয়েছে যে ব্রেনের এই নির্দিষ্ট পরিবর্তনকে যদি কোনওভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়, তাহলে ধূমপানের নেশা ছাড়তে কোনও সমস্যাই হয় না। আর ঠিক এই কাজটিই করে থাকে এই প্রবন্ধে আলোচিত খাবারগুলি।

নিকোটিন শরীরে প্রবেশ করার পর পরই ব্রেনের অন্দরে ডোপামাইন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এই কারণেই তো ধূমপানের পর মন মেজাজ এত তরতাজা হয়ে ওঠে। তবে স্মোকিং-এর কারণে যে কেবল বেশ কিছু হরমোনের ক্ষরণই বেড়ে যায়, এমন নয়। সেই সঙ্গে নানাবিধ নিউরোট্রান্সমিটারেরও জন্ম হতে থাকে। এই কারণেও মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ি পরিবর্তন হতে শুরু করে। আর এক সময় গিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে স্মোকিং ছাড়া এক প্রকার কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এখন আর চিন্তা নেই। বাস্তিবকই যদি স্মোকিং ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে এই প্রবন্ধে আলোচিত খাবারগুলি খাওয়া শুরু করতে পারেন। এমনটা করলে যে উপকার মিলবে, তা হলফ করে বলা যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রে সাধারণত যে যে খাবারগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, সেগুলি হল...

১. গোলমরিচ:

১. গোলমরিচ:

এক গ্লাস জলে অল্প করে গোলমরিচ মিশিয়ে সেই জল পান করলে ধূমপানের ইচ্ছা কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ফুসফুসও চাঙ্গা হয়ে ওঠে। প্রসঙ্গত, জলে গুলে যদি গোলমরিচ খেতে ইচ্ছা না করে, তাহলে খাবারে দিয়েও খেতে পারেন। একই উপকার মিলবে।

২. আদা:

২. আদা:

সিগারেট ছাড়ার পর প্রথম যে লক্ষণটা দেখা দেয়, তা হল মাথা ঘোরা। এই ধরনের লক্ষণের প্রকোপ কমাতে আদা দারুন কাজে আসে। শুধু তাই নয়, সিগারেটের কারণে শরীরের অন্দরে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, তা সারাতেও এই প্রকৃতিক উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই এবার থেকে যখনই সিগারেট খেতে ইচ্ছা করবে এক টুকরো আদা মুখে ফেলে দেবেন। দেখবেন ফল মিলবে।

৩. মুলো:

৩. মুলো:

যে যে প্রকৃতিক উপাদানগুলি ধূমপান ছাড়াতে দারুন কাজে আসে, তার মধ্যে অন্যতম হল মুলো। একাধিক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে নিয়মিত মুলো রসে অল্প করে মধু মিশিয়ে পান করলে স্মোকিং-এর ইচ্ছা কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে শরীরও চাঙ্গা হয়ে ওঠে। প্রসঙ্গত, দিনে কম করে ২ বার এই পানীয়টি গ্রহণ করতে হবে। তবেই উপকার মিলবে।

৪. ওটস:

৪. ওটস:

ধূমপান ছাড়াতে ওটসের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এক্ষেত্রে ১ চামচ ওটসের সঙ্গে ২ কাপ গরম জল মিশিয়ে সারা রাত রেখে দিতে হবে। পরদিন সকালে আরেকবার জলটা ফুটিয়ে নিয়ে ব্রেকফাস্টের পর পান করতে হবে। এমনটা প্রতিদিন করলে শরীরে উপস্থিত নিকোটিন এবং বাকি সব টক্সিক উপাদান বেরিয়ে যেতে শুরু করবে। সেই সঙ্গে সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছাও কমবে।

৫. আঙুরের রস:

৫. আঙুরের রস:

এই ফলটিতে উপস্থিত অ্যাসিডিক এলিমেন্ট শরীর থেকে নিকোটিনকে বের করে দেয়। ফলে ধূমপানের ইচ্ছা কমতে শুরু করে। শুধু তাই নয়,ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। তাই তো যারা ধূমপান ছাড়তে চান, তাদরে প্রতিদিন এক গ্লাস করে আঙুরের রস খাওয়ার পরামর্শ দেন আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞরা।

৬. জল:

৬. জল:

এক্ষেত্রে জল ব্যাপক উপকারে লাগে। তাই তো সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছা জাগলেই জল পানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। এমনটা করলে ধূমপানের ইচ্ছা যেমন কমে, তেমনি শরীরে উপস্থিত নিকোটিন বাইরে বেরিয়ে যাবে। ফলে নানাবিধ মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে। কমে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও।

৭. মধু:

৭. মধু:

ধূমপান ছাড়ার পর যে যে লক্ষণগুলি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে, তা কমাতে মধুর জুড়ি মেলা ভার। আসলে মধুতে উপস্থিত নানাবিধ ভিটামিন, এনজাইম এবং প্রোটিন এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৮.চুইং গাম:

৮.চুইং গাম:

বেশ কিছু স্টাডিতে দখা গেছে চুইং গাম খাওয়ার সময় স্যালাইভার উৎপাদন এত মাত্রায় বেড়ে যায় যে নিকোটিনের প্রভাব কমতে শুরু করে। ফলে সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছাও কমতে থাকে। এই কারণেই তো আজকাল বাজারে সিগারেট ছাড়াতে সক্ষম, এমন অনেক চুইং গাম পাওয়া যাচ্ছে। প্রয়োজনে আপনিও সেইসব চুইং গামের সাহায্য নিয়ে দেখতে পারেন।

Story first published: Friday, December 29, 2017, 14:36 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion