ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে: এই খাবারগুলি কমায় হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা!

নানাবিধ হার্টের রোগকে দূরে রাখতে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

By Nayan

অনিয়ন্ত্রিত জীবন, ফাস্ট ফুডের প্রতি লালসা, লিটার লিটার কোল্ড ড্রিঙ্কস পান এবং ধূমপান-মদ্যপানের মতো কুঅভ্যাসের কারণে গত কয়েক দশকে ভারতীদের মধ্যে বেড়েছে হার্টের রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। আর সব থেকে ভয়ের বিষয় হল হার্টের রোগীদের মধ্যে বেশিরভাগেরই বয়স ২৫-৪৫ এর মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে সুস্থ জীবনের সন্ধান দিতেই এই প্রবন্ধটি লেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া।

একথা নিশ্চয় বারে বারে শুনেছেন যে সুস্থ থাকতে জীবনে নিয়ন্ত্রণ থাকাটা একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু আজকের দিনে যুবসমাজের হাতে এত পরিমাণে টাকা এবং সময় রয়েছে যে নিয়ন্ত্রিত জীবনের আশা করাটা বৃথা। তাই তো এমন কিছু খাবারের সন্ধান দিতে চলেছি, যা বোহেমিয়ান জীবনের মাঝেও হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। আসলে কী জানেন, আমাদের শরীর কতটা চাঙ্গা থাকবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে কী ধরনের খাবার আমরা খাচ্ছি, তার উপর। সেই কারণেই তো ডায়েটের যাদুতে কিভাবে হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব, সে বিষয়ে আজ জানাবো আপনাদের। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে যে যে খাবারগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, সেগুলি হল...

১. ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধি খাবার:

১. ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধি খাবার:

এই উপাদানটি হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশেষত নানাবিধ হার্টের রোগকে দূরে রাখতে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। প্রসঙ্গত, এই উপাদানটি বেশি করে থাকে মাছে। তাই হে বাঙালি ভুলেও মাছ খাওয়া চাড়লে কিন্তু চলবে না!

২. বাদাম বদ রোগকে দূরে রাখে:

২. বাদাম বদ রোগকে দূরে রাখে:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত এক মুঠো করে বাদাম খেলে শরীরে পুষ্টিকর উপাদানের ঘাটতি দূর হয়, সেই সঙ্গে হার্টের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই এবার থেকে কাজের ফাঁকে মুখ চালাতে চিপস নয়, খাওয়া শুরু করুন বাদাম। দেখবেন উপকার মিলবে। তবে মনে রাখবেন বাদামে নুন দিয়ে কিন্তু খাওয়া চলবে না।

৩. জাম খেলে সুস্থ থাকে হার্ট:

৩. জাম খেলে সুস্থ থাকে হার্ট:

এই ফলটির অন্দরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে উপকারি ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস এবং ফাইবার। এই দুটি উপাদান হার্টকে চাঙ্গা তো রাখেই, সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতার উন্নতিতে, ওজন কমাতে, কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রক্তচাপ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।

৪. শণ বীজ:

৪. শণ বীজ:

এই প্রকৃতিক উপাদানটির মধ্য়ে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। আর যেমনটা আপনারা ইতিমধ্যেই জেনে গেছেন, হার্টকে সুস্থ রাখতে এই উপাদানটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই আজ থেকেই পারলে শণের বীজ খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন শরীরের উপর শত অত্যাচারের পরেও হার্টকে নিয়ে কোনও চিন্তা থাকবে না।

৫. ওটস:

৫. ওটস:

বিজ্ঞানিরা এই খাবারটিকে বলে পাওয়ার হাউজ ফুড। আসলে হার্টকে সুস্থ রাখতে যে যে ভিটামিন এবং খনিজের প্রয়োজন পরে, তা সবই রয়েছে এই খাবরটিতে। তাই তো হার্টকে সুস্থ রাখতে ব্রেকফাস্টে প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত ওটস মিল।

৬. শিম:

৬. শিম:

এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন বি, ফাইবার, মিনারেল এবং অন্যান্য উপকারি উপাদান, যা হার্টকে সুস্থ রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। তাই যাদের ফাস্ট ফুড ছাড়া চলে না, তারা মাঝে মধ্যে এই সবজিটি খেতে ভুলবেন না যেন। জানবেন, বিষ এবং অমৃতের মধ্যে ভারসাম্য থাকাটা জরুরি, না হলেই কিন্তু বিপদ!

৭. রেড ওয়াইন:

৭. রেড ওয়াইন:

মদ্যপান কি একটু বেশি মাত্রাতেই হয়ে থাকে? তাহলে কিন্তু একটু সাবধান হওয়ার প্রয়োজন রছেছে বন্ধু। কারণ যত বেশি করে লিকার পান করবেন, তত কিন্তু হার্টের বারোটা বাজবে। তাই রাম-হুইস্কি ছেড়ে রেড ওয়াইন পান করা শুরু করতে পারেন। এমনটা করলে পানের ইচ্ছাও পূরণ হবে, সেই সঙ্গে হার্টের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও কমবে। তবে দিনে ৩-৪ গ্লাসের বেশি ওয়াইন খাওয়া কিন্তু কোনও মতেই চলবে না!

৮. টমাটো:

৮. টমাটো:

হার্টকে চাঙ্গা রাখতে এই সবজিটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে টমাটোতে উপস্থিত ভিটামিন সি, লাইকোপেন এবং বিটা-ক্যারোটিন হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কোলেস্টেরল এবং রক্তচাপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

Story first published: Wednesday, September 27, 2017, 12:13 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion