আখরোট না খাওয়ার ভুল কাজটা নিশ্চয় করেন না?

অনেকেই মনে করেন আখরোট খেলে ওজন বৃদ্ধি পায়। কিন্তু আসলে ঘঠে একেবারে উল্টো ঘটনা।

By Nayan

সময়টা ৭০০০ বিসি। সেই সময় থেকে মানুষের শরীর বাঁচাতে কাজ করে চলেছে কাঠবাদাম। দিবারাত্র লড়ে চলেছে নানা রোগের সঙ্গে। কিন্তু সমস্যাটা হল আধুনিক যুগের শুরুর সময় থেকে প্রাকিৃতিক উপাদানের উপর ভরসে কমেছে মানুষের, বেড়েছে ওষুধের উপর নির্ভরযোগ্যতা। আর তার ফলে কী পরিণতি হয়েছে সবার, তা নিশ্চয় আর আলাদা করে বলতে হবে না।

পরিসংখ্যান বলছে গত কয়েক পাঁচ দশকে যে যে রোগের কারণে মানুষের মৃত্যুহার চোখে পারার মতো বৃদ্ধি পয়েছে, তার সবকটির প্রকোপ আটকে দেওয়া ক্ষমতা রয়েছে আখরোটের অন্দরে। কীভাবে? গবেষণা বলছে এই বাদামটিতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় পুষ্টিকর উপাদান, যা শরীরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের সচলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সার্বিকভাবে শরীরকে সুস্থ রাখার মধ্যে দিয়ে আয়ু বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই দামের কথা ভুলে সপ্তাহে কয়েক দিন যদি এই বাদামটি খেতে পারেন, তাহলে জীবনকালে কোনও দিন যে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন পরবে না, সে কথা হলফ করে বলতে পারি।

এতদূর পড়ার পর নিশ্চয় জানতে ইচ্ছা করছে যে কীভাবে আখরোট আমাদের শরীরের খেয়াল রেখে থাকে, তাই তো? তাহলে আর অপেক্ষা কেন! চলুন খোঁজ লাগানো যাক মানুষের চাষ করা প্রথম বাদামটির নানাবিধ গুণাগুণ সম্পর্কে।

১. ওজন কমাতে সাহায্য করে:

১. ওজন কমাতে সাহায্য করে:

অনেকেই মনে করেন আখরোট খেলে ওজন বৃদ্ধি পায়। কিন্তু আসলে ঘঠে একেবারে উল্টো ঘটনা। একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে এক আউন্স আখরোটে প্রায় ২.৫ গ্রাম ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ৪ গ্রাম প্রোটিন এবং ২ গ্রাম ফাইবার থাকে। এই উপাদানগুলি শরীরে প্রবেশ করার পর একদিকে যেমন একাধিক রোগকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, তেমনি ক্ষিদেও কমায়। ফলে কম কম খাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা হ্রাস পায়। তাই যারা পুজোর আগে ওজন কমাতে চাইছেন, তারা আজ থেকেই এই বাদামটি খাওয়া শুরু করতে পারেন। দেখবেন উপকার মিলবে।

২. অনিদ্রা দূর করে:

২. অনিদ্রা দূর করে:

স্ট্রেস, মানসিক চাপ বা অন্য কোনও কারণে ঠিক মতো ঘুম আসতে চায় না? তাহলে কাঠবাদাম খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন অনিদ্রা নিমেষে দূরে পালাবে। আসলে কাঠবাদামে উপস্থিত মেলাটোনিন নামে একটি উপাদান শরীরে প্রবেশ করা মাত্র ঘুমের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অনিদ্রা দূর হয়। প্রসঙ্গত, মেলাটোনিনের ক্ষরণ যার মস্তিষ্কে যত বেশি মাত্রায় হয়, তার ঘুম তত সুন্দর ভাবে হয়। কারণ এই উপাদানটির সঙ্গে ঘুমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

৩. চুলের সৌন্দর্য বাড়ায়:

৩. চুলের সৌন্দর্য বাড়ায়:

আখরোটে উপস্থিত ভিটামিন বি৭ বা বায়োটিন গোড়া থেকে চুলকে মজবুত করার পাশাপাশি চুল পড়া আটকাতে এবং চুলকে সুন্দর করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, অনেক সময় জলের কারণেও অনেকের চল পড়া বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রেও এই প্রকৃতিক উপাদানটি দারুন কাজে আসে।

৪. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়:

৪. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়:

কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশ করা রিপোর্ট অনুসারে গত কয়েক বছরে নানা কারণে কম বয়সিদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পয়েছে। তাই এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া একান্ত প্রয়োজন, না হলে কিন্তু বেজায় বিপদ! এখন প্রশ্ন হল হার্টকে সুস্থ রাখবেন কীভাবে? এক্ষেত্রে আখরোট আপনাকে দারুনভাবে সাহায্য করতে পারে। আসলে এই বাদামটিতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড একদিকে যেমন হার্টের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে, তেমনি অন্যদিকে শরীরে বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর মধ্যে দিয়ে হার্টের রোগের আশঙ্কাও কমায়।

৫. ডায়াবেটিস রোগকে দূরে রাখে:

৫. ডায়াবেটিস রোগকে দূরে রাখে:

নানাবিধ নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ, যেমন হার্টের রোগ, কোলেস্টরল, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের কারণে গত এক দশকে আমাদের দেশের পাশাপাশি সমগ্র বিশ্বে সবথেকে বেশি সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর সবথেকে নিশ্চিন্তের কথা কী জানেন? এই সবকটি রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুন কাজে আসে আখরোট। এবার নিশ্চয় বুঝতে পরেছেন এই বাদামটি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কতটা। প্রসঙ্গত, বেশ কিছু কেস স্টিড অনুসারে সপ্তাহে দুবার ২৮ গ্রাম করে কাঠবাদাম খেলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ২৪ শতাংশ কমে যায়।

৬. বাচ্চা হওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হয় না:

৬. বাচ্চা হওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হয় না:

সমীক্ষা বলছে স্ট্রেস, মানিসিক চাপ এবং আরও নানা কারণে পুরুষদের স্পার্ম কাউন্ট মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। ফলে বাচ্চা হওয়ার ক্ষেত্রে দেখা দিচ্ছে নানা রকমের সমস্যা। তবে আর চিন্তা নেই! আপনি যদি আজ থেকেই আখরোট খাওয়া শুরু করে দেন, তাহলে এইসব নিয়ে আর চিন্তায় থাকতে হবে না। কারণ এই বাদামটি শরীরের প্রবেশ করার পর স্পার্ম কাউন্ট মারাত্মক বাড়িয়ে দেয়। ফলে বাচ্চা হওয়ার ক্ষেত্রে কোনও জটিলতা দেখা দেয় না।

৭. ব্রেন পাওয়ার বাড়ায়:

৭. ব্রেন পাওয়ার বাড়ায়:

আখরোটে উপস্থিত ভিটামিন ই এবং ফ্ল্যাভোনয়েড মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর একবার ব্রেন পাওয়ার বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই বুদ্ধি, স্মৃতিশক্তি এবং মনোযোগেরও উন্নতি ঘটে।

X
Desktop Bottom Promotion