৩০ এই হার্ট অ্যাটাকে মরতে চান নাকি?

সূর্যমুখী ফুলের বীজে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন ই এবং ফলেট। এই দুটি উপাদান হার্টের কোনও ক্ষতি হতে দেয় না।

By Nayan

৩৩ সেকেন্ড। প্রতি ৩৩ সেকেন্ডে একজন করে ভারতীয় হার্ট অ্যাটাকের কারণে মারা পরছে, যাদের বেশিরভাগেরই বয়স ৩০-৪৫ এর মধ্য়ে। রাত জেগে জেগে অফিস করা। আর শনি-রবিবার মাত্রা ছাড়া মদ্যপান। সঙ্গে খাবার বলতে পিৎজা, নয়তো অন্য কোনও ওয়েস্টার্ন জাঙ্ক ফুড। এমন শৃঙ্খলাহীন জীবনযাত্রার কারণে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে কখন যে হার্ট কাজ করা বন্ধ করে দেওয়ার দোরগোড়ায় এসে দাঁড়ায়, তা বেশিরভাগই টেরই পায় না।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্ট অনুসারে প্রতি বছর আমাদের দেশে কম করে ২০ লক্ষ কম বয়সি হার্ট ফেলিওরের কারণে মারা যায়। এমন পরিস্থিতিতে হার্টের খেয়াল রাখাটা সবারই যে একান্ত প্রয়োজন, তা নিশ্চয় আর আলাদা করে বলে দিতে হবে না। এখন প্রশ্ন হল হার্টকে সুস্থ রাখবেন কিভাবে? এক্ষেত্রে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন তো করতেই হবে। সেই সঙ্গে একটি প্রাকৃতিক মহৌষধিকে কাজে লাগালে দারুন উপকার মিলতে পারে। এই প্রকৃতিক উপাদানটি হার্টকে চাঙ্গা রাখার পাশাপাশি সার্বিকভাবে শরীরকে সুস্থ রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

কোন প্রকৃতিক উপাদানের কথা বলছি, তাই জানতে ইচ্ছা করছে তো? দাঁড়ান দাঁড়ান বলছি! একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে সূর্যমুখী ফুলের বীজের অন্দরে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা কার্ডিওভাসকুলার হেল্থের খেয়াল রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। তাই তো বিশেষজ্ঞরা সূর্যমুখী ফুলের বীজের সঙ্গে যুবসমাজের চটজলদি বন্ধুত্ব করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

কিভাবে এই প্রকৃতিক উপাদানটা হার্টের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখে?

১. হার্টের ক্ষতি করবে এমন উপাদানদের দূরে রাখে:

১. হার্টের ক্ষতি করবে এমন উপাদানদের দূরে রাখে:

সূর্যমুখী ফুলের বীজে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন ই এবং ফলেট। এই দুটি উপাদান শরীরের অন্দরে অনেকটা পাহারাদারের কাজ করে। হার্টের ক্ষতি করবে এমন উপাদানদের এরা দূরে রাখে। ফলে হৃদপিন্ডের কোনও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

২. ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়:

২. ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়:

একাদিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত এই প্রকৃতিক উপাদানটি গ্রহণ করলে শরীরে ভাল কোলেস্টরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যা হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। তাই তো শরীরে যাতে কোনওভাবে ভাল কলোস্টেরলের মাত্রা কমে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখাটা একান্ত প্রয়োজন।

৩. ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দূর করে:

৩. ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দূর করে:

শরীরে এই খনিজটির ঘাটতি দেখা দিলে হার্টের তো ক্ষতি হয়ই। সেই সঙ্গে নার্ভ এবং ইমিউন সিস্টেমের মারাত্মক ক্ষতি হয়। ফলে শরীর ভাঙতে শুরু করে। সেই সঙ্গে নানাবিধ রোগ এসে বাসা বাঁধে দেহে। এমনটা হওয়ার কারণে স্বাভাবিকবাবেই আয়ু কমতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতির শিকার নিশ্চয় আপনি হতে চান না? তাহলে বয়স ২৫ পেরলেই নিয়মিত সূর্যমুখী ফুলের বীজ খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে।

৪. মন ভাল করে দেয়:

৪. মন ভাল করে দেয়:

কাজের চাপ দম বেরিয়ে যাওয়ার জোগার? সেই সঙ্গে মেজাজটাও কেমন যেন বেতালে বাজছে? তাহলে আর সময় নষ্ট না করে বাজার থেকে এক্ষুনি সূর্যমুখী ফুলের বীজ কিনে এনে খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন নিমেষে মন ভাল হয়ে যাবে। আসলে এই প্রকৃতিক উপাদানটির শরীরে থাকা ম্যাগনেসিয়াম এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫. থাইরয়েড রোগের চিকিৎসায় কাজে আসে:

৫. থাইরয়েড রোগের চিকিৎসায় কাজে আসে:

সূর্যমুখী ফুলের বীজে রেয়েছে সেলেনিয়াম নামে একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের অন্দরে প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন কমাতে বিশেষ ভূমিকা নেয়, সেই সঙ্গে থাইরয়েডের সমস্যা কামতেও সাহায্য করে।

কিভাবে খেতে হবে এই বীজ?

কিভাবে খেতে হবে এই বীজ?

অল্প পরিমাণ সূর্যমুখী বীজ নিয়ে তাওয়ায় হলকা মাখনের সাহায্যে ভেজে নিয়ে ভাতের সঙ্গে খেতে পারেন অথবা এমনি এমনিও চলতে পারে। প্রসঙ্গত, সাধারণ মাখন যদি খেতে ইচ্ছা না করে, তাহলে পিনাট বাটারও ব্যবহার করতে পারেন।

Story first published: Monday, September 18, 2017, 15:56 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion