মেথি জল কি সত্যিই উপকারি?

মেথির শরীরে থাকা স্টেরিওডাল সেপোনিনস নামক একটি উপাদান কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

By Nayan

পেট ঠান্ডা রাখতে অনেকেই মেথি ভেজানো জল খেয়ে থাকেন। কিন্তু এই অভ্যাস কতটা উপকারি তা নিয়ে কিন্তু বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ভারতীয় রান্নায় মেথির ব্যবহার আজ থেকে হয় না। তাই এই বিষয়ে স্পষ্ট জেনে নেওয়াটা জরুরি যে মেথি বীজ শরীরে প্রবেশ করার পর কোনও ক্ষতি করে না তো! আর এই বিষয়ে জানতে গেলে বৈজ্ঞানিক গবেষণার উপর ভরসা করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। প্রসঙ্গত, গত কয়েক দশক ধরে স্বদেশ এবং বিদেশে হওয়া একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে মেথি বীজে রয়েছে একাদিক উপকারি উপাদান, যা নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। তাই হওয়ায় যতই গুজোব উড়ুক না কেন, তাতে কান দেওয়ার কোনও প্রয়োজন আছে বলে মনে করে না বৈজ্ঞানিক মহলের। তাই যারা নিয়মিত মেথি খান, তারা দূশ্চিন্তা দূর করে অভ্যাস জারি রাখতে পারেন। আর যারা এমন সু-অভ্যাস কেয়ার করেন না, তারা কিছুটা সময় খরচ করে এই প্রবন্ধটা একটু পড়ে ফেলুন। তাহলেই দেখবেন...

প্রসঙ্গত, নিয়মিত মেথি ভেজানো জল বা চা খেলে সাধারণত যে যে উপকারগুলি পাওয়া যায়। সেগুলি হল...

১. কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়:

১. কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়:

পরিসংখ্যান বলছে গত কয়েক দশকে আমাদের দেশের যুব সমাজের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পয়েছে। আর এমনটা হওয়ার পিছনে হাই কোলেস্টেরলের এবং উচ্চ রক্তচাপের ভূমিকাকে কোনওভাবেই অস্বীকার করা সম্ভব নয়। তাই তো ২০-৫০ বছর বয়সিদের নিয়মিত মেথি জল পান করা উচিত। কারণ এমনটা করলে মেথির শরীরে থাকা স্টেরিওডাল সেপোনিনস নামক একটি উপাদান কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে হার্টের আর্টারি আটকে গিয়ে হঠাৎ করে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা হ্রাস পায়।

২. হার্টের রোগকে দূরে রাখে:

২. হার্টের রোগকে দূরে রাখে:

গ্লেকটোম্যানান নাম একটি উপাদানের খোঁজ পাওয়া যায় মেথির শরীরে। এই উপাদানটি হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে এই প্রকৃতিক উপদানটায় উপস্থিত পটাশিয়াম, রক্তে নুনের পরিমাণ কমায়। ফলে ব্লাড প্রসোর নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে হার্ট অ্যাটাক এবং অন্যান্য হার্টের রোগ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারে শূন্যে এসে দাঁড়ায়।

৩. সুগারের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে:

৩. সুগারের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে:

কম বয়সেই ব্লাড সুগার কি উর্ধমুখী? তাহলে তো নিয়মিত মেথি ভেজানো জল খাওয়া উচিত। এমনটা করলে শরীরে গ্লেকটোমেনানের পরিমাণ বাড়তে থাকে, যা শর্করার শোষণের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে সুগার লেভেল বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, মেথিতে উপস্থিত অ্যামাইনো অ্যাসিড ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এই কারণেও ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার কোনও সুযোগ থাকে না।

৪. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়:

৪. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়:

বাঙালি মানেই অল্প-বিস্তর পেট রোগা! আর কেনই বা এমনটা হবে না বলুন, সারা বিশ্বে ভজনরসিক জাতিদের মধ্যে অন্যতম হলাম আমরা। তাই গ্যাস-অম্বল রোজের বন্ধু হবে, এ আর নতুন কথা কী! কিন্তু একটা সহজ উপায়ে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটাতে পারেন কিন্তু। কিভাবে? বেশ কিছু কেস স্টাডি করে দেখা গেছে নিয়মিত নানাভাবে মেথি বীজ গ্রহন করলে বাওয়েল মুভমেন্টে উন্নতি ঘটে। ফলে পেট সংক্রান্ত আর কোনও সমস্যাই থাকে না। আসলে মেথিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, নিয়মিত সকালে খালি পেটে মেথি ভেজানো জল খেলে কনস্টিপেশনের সমস্যাও অনেকাংশে দূর হয়।

৫. ওজন কমায়:

৫. ওজন কমায়:

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে, জলে ভেজানো মেথি বীজ খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীরে ফাইবারের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষিদে কমে যায়। এমনটা হওয়ার কারণে খাওয়ার পরিমাণেও লাগাম পরে। ফলে ওজন কমতে শুরু করে।

৬. জ্বরের প্রকোপ কমায়:

৬. জ্বরের প্রকোপ কমায়:

ওয়েদার চেঞ্জের কারণে শরীর ভেঙেছে? সেই সঙ্গে জ্বরের এমন ঠেলা যে বিছানা ছাড়তে পারছেন না? তাহলে এক গ্লাস করে মেথি বীজের জল পান করা শুরু করুন, দেখবেন দারুন উপকার মিলবে। আসলে কী জানেন, মেথিতে থাকা বেশি কিছু উপকারি উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এতটাই শক্তিশালী করে তোলে যে জ্বরের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, সর্দি-কাশি সারাতেও এই ঘরোয়া চিকিৎসাটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

৭. ক্যান্সার রোগ দূরে থাকে:

৭. ক্যান্সার রোগ দূরে থাকে:

রক্তে জমতে থাকা টক্সিক উপাদানের মাত্রা বাড়তে থাকলে শরীরের অন্দরে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। আর এখানেই মেথি বীজের ভূমিকাকে অস্বীকার করা যায় না। এই প্রকৃতিক উপাদানটি রক্তে ভেসে বেরানো টক্সিক উপাদানদের শরীর থেকে বার করে দেয়। ফলে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনাই থাকে না।

Story first published: Tuesday, October 3, 2017, 12:22 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion