লবঙ্গের সঙ্গে বন্ধুত্ব আছে তো?

By: swaity das
Subscribe to Boldsky

বাঙালি বাড়িতে একটু জমিয়ে রান্না হবে আর তাতে গরম মশলা জায়গা পাবে না, তা আবার হয় নাকি! আসলে শুধু বাঙালি হেঁসেলে নয়, যে কোনও ধরনের রান্নাতেই গরম মশলার ব্যবহার হয়ে থাকে। আচ্ছা, রান্নায় কেন বলুন তো গরম মশলা ব্যবহার করা হয়, শুধুই কি সুগন্ধের জন্য?

তা কিন্তু নয়! গরম মশলার মধ্যে থাকা প্রতিটি উপাদানেরই আলাদা আলাদা উপকারিতা রয়েছে। আর ঠিক এই কারণেই আজকের এই প্রবন্ধে আলোচনা করা হবে লবঙ্গকে নিয়ে। সেই প্রাচীনকাল থেকে এশিয়া মহাদেশের অন্তর্গত প্রতিটি দেশে লবঙ্গের ব্যবহার হয়ে আসছে। আবার লবঙ্গ উৎপাদনে সুবিখ্যাত মালুকু দ্বীপ কার দখলে থাকবে সেই নিয়ে বহু যুদ্ধের সাক্ষী হয়ে রয়েছে ইতিহাস। তবে আপনাদের কাউকে আমি যুদ্ধে যেতে বলছি না। শুধু বলছি, লবঙ্গকে জীবনের অঙ্গ বানান। কেন বলছি জানেন? এই উত্তর পেতে যে লেখাটা একবার পড়ে দেখতেই হবে।

প্রথমেই বলে রাখা ভাল যে, লবঙ্গের মধ্যে প্রচুর উপকারি উপাদান রয়েছে, যা হজম শক্তি বাড়াতে, জীবাণুদের ধ্বংস করতে, ক্যান্সার রোধ করতে, লিভারের যত্নে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, ডায়াবেটিস মাত্রা কমাতে, হাড় শক্ত করতে এবং মাথা ব্যাথাকে কাবু করতেও সাহায্য করে।

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:

সিজিজিয়াম আরোম্যাটিকাম নামক গাছের কুঁড়ি শুকিয়ে লবঙ্গ তৈরি করা হয়। এই গাছ মিরটাসিয়া গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তবে শুধুমাত্র কুঁড়ি নয়, এই গাছের বিভিন্ন অংশ ভেষজ ওষুধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। প্রসঙ্গত, লবঙ্গ তেলও শরীরের জন্য বেশ উপকারি। সেই কারণেই তো প্রায় এক হাজার বছর ধরে ভারতবর্ষ এবং চিনে রান্নার মশলা এবং বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসাবে লবঙ্গের ব্যবহার হয়ে আসছে। এমনকি দাঁতের যত্নে, অতিরিক্ত দুর্গন্ধযুক্ত শ্বাস দূর করতেও লবঙ্গকে কাজে লাগানো হচ্ছে।

পুষ্টি গুণ:

ন্যাশানাল নিউট্রিয়েন্ট ডেটাবেস ফর স্ট্যান্ডার্ড রেফারেন্স- এর মতানুযায়ী প্রতি ১০০ গ্রাম লবঙ্গে ৬৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৬ গ্রাম প্রোটিন, ১৩ গ্রাম লিপিড, ২ গ্রাম সুগার, ২৭৪ ক্যালরি এবং ৩৩ গ্রাম ফাইবার পাওয়া যায়। এছাড়াও লবঙ্গে ক্যালসিয়াম, আইরন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম এবং জিঙ্ক উপস্থিতি রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে নানারকম ভিটামিন, যেমন- ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন এ, ভিটামিন ই, ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন কে।

অন্যান্য উপাদান

লবঙ্গে উপরোক্ত উপাদানগুলি ছাড়াও ফ্ল্যাবোনয়েড, হেক্সেন, মিথালিন, ক্লোরাইড, ইথানল, থাইমল, ইউজেনল এবং বেঞ্জেনের দেখা মেলে। এই ধরণের জৈব রাসায়নিক উপাদানগুলি জীবাণু নাশক এবং প্রদাহ জনিত সমস্যা কমাতে দারুন কাজে আসে।

লবঙ্গ-এর উপকারিতা:

১.হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে

১.হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে

গ্যাস অম্বলে তো এখন প্রায় ৮০ শতাংশ বাঙালিই ভুগে থাকে। এমন সমস্যা সমাধানেও লবঙ্গের জুড়ি মেলা ভার। গ্যাস হওয়া, পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাবে এই সব কিছুকে সমূলে বিনাশ করতে পারে লবঙ্গ। এক্ষেত্রে সরাসরি না খেয়ে লবঙ্গকে ভেজে, গুঁড়ো করে তারপর মধু সহযোগে খেলে হজম শক্তির বৃদ্ধি ঘটে। ফলে গ্যাস অম্বলের সমস্যা কমে যায়।

২.জীবাণুনাশক:

২.জীবাণুনাশক:

লবঙ্গের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে জীবাণুনাশক উপাদান রয়েছে। ফলে নানাবিধ জীবাণু, যা আমাদের শরীরে রোগ তৈরি করতে পারে, সেগুলিকে ধ্বংস করে। সেই সঙ্গে কলেরার জীবাণু রোধেও বিশেষ ভূমিকা নেয় লবঙ্গ।

৩.ক্যান্সার রোধ করে:

৩.ক্যান্সার রোধ করে:

লবঙ্গের মধ্যে ক্যান্সার বিনাশকারী উপাদান রয়েছে, যা ফুসফুসের ক্যান্সার রোধে বিশেষ ভূমিকা নেয়। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে একদম প্রথম অবস্থায় থাকা লাং ক্যান্সার রোগী যদি নিয়মিত লবঙ্গ খান, তাহলে দারুন উপকার মেলে।

৪.লিভারের যত্ন:

৪.লিভারের যত্ন:

লিভারের প্রায় সমস্ত রকম সমস্যা কমাতেই লবঙ্গ উপযোগী ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই শরীরের এই ভাইটাল অর্গানটির কর্মক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত এই প্রকৃতিক উপাদানটি খাওয়া শুরু করতে পারেন।

৫.ডায়াবেটিস রোধ করে:

৫.ডায়াবেটিস রোধ করে:

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়া এখন খুবই সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডায়াবেটিস হলে শরীরে ইন্স্যুলিন কম পরিমাণে তৈরি হয়। এদিকে লবঙ্গ ইনসুলিন তৈরির পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং ব্লাড সুগারকে প্রতিহত করে। তাই যাদের পরিবারে এই মারণ রোগের ইতিহাস রয়েছে তারা নিয়ম করে লবঙ্গ খাওয়া শুরু করুন, দেখবেন উপকার মিলবে।

৬.হাড়ের যত্নে কাজে লাগে:

৬.হাড়ের যত্নে কাজে লাগে:

হাড় ক্ষয়ে যাওয়া এবং সেই কারণে যন্ত্রণায় কষ্ট পেতে আমরা বহু মানুষকেই দেখি। এই ধরণের সমস্যা রোধ করতে পারে লবঙ্গ।

৭.রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে:

৭.রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে:

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় লবঙ্গ বহুল পরিমাণে ব্যবহার করা হয়। লবঙ্গের শুকনো ফুল সেবন করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকাংশে বেড়ে যায়। এছাড়াও রক্তে শ্বেত রক্ত কণিকার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে শরীর একেবারে চাঙ্গা হয়ে ওঠে।

৮.প্রদাহ জনিত সমস্যা দূর করে:

৮.প্রদাহ জনিত সমস্যা দূর করে:

শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ফুলে যাওয়া এবং সেই থেকে হওয়া ব্যাথা রোধ করতে সাহায্য করে লবঙ্গ। কারণ লবঙ্গের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ইউজেনল থাকে, যা ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে।

৯.মুখগহ্বরের নান রোগ প্রতিরোধ করে:

৯.মুখগহ্বরের নান রোগ প্রতিরোধ করে:

দাঁত এবং মুখের ভিতরে হওয়া নানা সমস্যার সমাধানে লবঙ্গ খুবই উপকারে লাগে। যেমন ধরুন, দাঁতে ব্যাথা, দাঁতে গর্ত হয়ে যাওয়া, মুখের দুর্গন্ধ ইত্যাদি রোগ খুব সহজেই সারিয়ে তোলে লবঙ্গ।

১০.যৌনরোগ সমাধানে কাজে লাগে:

১০.যৌনরোগ সমাধানে কাজে লাগে:

পরীক্ষায় দেখা গেছে লবঙ্গ এবং জায়ফলের মধ্যে যৌন রোগ জনিত নানা সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা রয়েছে।

১১. মাথা যন্ত্রণা কমায়:

১১. মাথা যন্ত্রণা কমায়:

কয়েকটি লবঙ্গ, বিট নুনের সঙ্গে বেটে দুধের মধ্যে মিশিয়ে খেলে মাথা যন্ত্রণার থেকে মুক্তি মেলে। তাই যারা মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগছেন তারা এই ঘরোয়া পদ্ধতির সাহায্য নিতে পারেন।

Read more about: শরীর, রোগ
English summary
According to the National Nutrient Database for Standard Reference, the nutrients found in 100 grams of cloves include 65g of carbohydrate, 6g of protein, 13g of total lipids, 2g of sugars, 274 kcal of energy and 33g of dietary fiber. Minerals in cloves include calcium, iron, magnesium, phosphorous, potassium, sodium, and zinc. The vitamins found in them include vitamin C, thiamin, riboflavin, niacin, folate, vitamin B6, vitamin B12, vitamin A, vitamin E, vitamin D, and vitamin K.
Story first published: Thursday, August 24, 2017, 14:51 [IST]
Please Wait while comments are loading...