দ্রুত ওজন কমাতে চাইলে খেতেই হবে এই খাবারগুলি!

৫ জন মোটা বাচ্চার মধ্যে ৪ জনেরেই আয়ু প্রায় ১০-২০ বছর কমে যায়। আর এক্ষেত্রে দায়ি থাকে ওজন বৃদ্ধি সম্পর্কিত নানা রোগই। এবার বুঝেছেন তো ওজন বৃদ্ধি কতটা ভয়ঙ্কর।

By Nayan

যত দিন যাচ্ছে তত মোটা হচ্ছে আমাদের দেশে। পরিসংখ্যান বলছে সারা বিশ্বের মধ্যে মোটা মানুষদের সংখ্যার বিচারে ভারতের স্থান দ্বিতীয় স্থানে, চিনের পরই। শুধু তাই নয়, এদেশে প্রায় ১৪.৪ মিলিয়ান বাচ্চা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যার শিকার, যা বাস্তবিকই ভয়ের বিষয়। কারণ গবেষণা বলছে ওজন বাড়তে শুরু করলে শরীরে এসে বাসা বাঁধতে শুরু করে একের পর এক মারণ রোগ, যার অন্যতম হল ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, হার্টের রোগ, উচ্চ রক্তচাপ প্রভৃতি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আয়ু কমতে শুরু করে।

ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে নানাবিধ মারণ রোগের সম্পর্কটা যে আরও গভীর, সে কথা রয়েল কলেজ অব পেডিয়াট্রিক্স অ্যান্ড চাইল্ড হেলথের করা একটি গবেষণাতেই প্রমাণ হয়ে যায়। তাদের প্রকাশ করা রিপোর্ট অনুসারে ৫ জন মোটা বাচ্চার মধ্যে ৪ জনেরেই আয়ু প্রায় ১০-২০ বছর কমে যায়। আর এক্ষেত্রে দায়ি থাকে ওজন বৃদ্ধি সম্পর্কিত নানা রোগই। এবার বুঝেছেন তো ওজন বৃদ্ধি কতটা ভয়ঙ্কর।

এখন প্রশ্ন হল যারা ইতিমধ্যেই অতিরিক্তি ওজনের কারণে চিন্তায় রয়েছেন, এদিকে নিয়মিত জিমে যাওয়ারও সুযোগ পান না, তারা কী করবেন? সেক্ষেত্রে তাদের নিয়মিত অল্পবিস্তর হাঁটাহাঁটি তো করতেই হবে, সেই সঙ্গে রোজের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এই প্রবন্ধে আলোচিত খাবারগুলিকে। কারণ এমনটা করলে মেদ তো ঝরবেই, সেই সঙ্গে আরও অনেক উপকার মিলবে। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে যে যে খাবারগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, সেগুলি হল...

১. ব্রকলি:

১. ব্রকলি:

জর্জিয়া স্টেট ইউনির্ভাসিটির গবেষকদের করা এক স্টাডিতে দেখা গেছে ব্রকলির মতো ডায়াটারি ফাইবার সমৃদ্ধ সবজি বেশি করে খেলে ওজন কমতে একেবারেই সময় লাগে না। কারণ এই উপাদানটি শরীরে উপকারি ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাকে বাড়িয়ে তোলে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হজম ক্ষমতা এতটা বৃদ্ধি পায় যে শরীরে মেদ জমার সুযোগই পায় না। প্রসঙ্গত, রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, হাই কোলেস্টেরল এবং হার্টের রোগের মতো সমস্যাকে দূরে রাখতেও ফাইবার বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২. পেঁপে:

২. পেঁপে:

এই ফলটির অন্দরে রয়েছে পেপেইন নামক একটি উপাদান, যা ফ্যাট সেলেদের গলিয়ে মেদ ঝরাতে যেমন সাহায্য করে, তেমনি শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান এবং অতিরিক্ত জলকে বের করে দিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার কারণে খালি পেটে যদি অল্প করে পেঁপে খাওয়া যায়, তাহলে আরও দ্রুত ওজন হ্রাস পেতে শুরু করে। কারণ ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেলে অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরা থাকে। ফলে শরীরে ক্যালরির প্রবেশ কমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা হ্রাস পায়।

৩. ওটস মিল:

৩. ওটস মিল:

এক চামচ ওটস মিলের সঙ্গে তিন চামচ জল, এই রেশিয়োতে বানিয়ে নিয়মিত সকালবেলা খালি পেটে খাওয়া শুরু করলে ওজন কমতে একেবারেই সময় লাগে না। কারণ এই খাবারটিতেও রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, যা হজম ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। ফলে ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না, বরং কমতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, ওটস মিলে লেসিথিন নামক একটি উপাদান থাকে, যা এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৪. অ্যালোভেরা এবং লেবু:

৪. অ্যালোভেরা এবং লেবু:

ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধি এই দুটি উপদানকে একসঙ্গে গ্রহণ করা হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা মারাত্মক শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতারও উন্নতি ঘটে। তাই তো প্রতিদিন খালি পেটে লেবুর রস এবং অ্যালোভারা জেল খেলে ওজন কমতে একেবারেই সময় লাগে না। এখন প্রশ্ন হল এই দুটি উপাদানকে মিশিয়ে মিশ্রনটি বানাবেন কীভাবে? এক্ষেত্রে এক চামচ অ্যালোভেরা জেল, এক গ্লাস জলে মেশানোর পর তাতে একটা লেবু চিপে দিতে হবে। তারপর ভাল করে সবকটি উপাদান মিশিয়ে পান করতে হবে।

৫. সবজির রস:

৫. সবজির রস:

আদা, গাজর অথবা করলার রস প্রতিদিন খালি পেটে খাওয়া শুরু করলে ওজন কমতে একেবারেই সময় লাগে না। কারণ এই সবজিগুলির অন্দরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান হজম ক্ষমতার উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর যেমনটা এতক্ষণে জেনেই গেছেন যে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটলে শরীরে মেদ জমার সম্ভাবনা একেবারে কমে যায়।

৬. আপেল:

৬. আপেল:

অতিরিক্তি ওজনের কারণে কি চিন্তায় রয়েছেন? তাহলে নিয়মিত একটা করে আপেল খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন দারুন উপকার মিলবে। কারণ এই ফলটিতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার। তাই তো খালি পেটে একটা করে আপেল খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। ফলে বারে বারে খাওয়ার প্রবণতা কমে। আর কম পরিমাণে খাবার খাওয়ার কারণে ওজনও কমে দ্রুত।

Story first published: Wednesday, January 24, 2018, 12:41 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion