ওয়াল্ড অ্যালঝাইমার ডে: হাতির মতো স্মৃতিশক্তি পেতে চান কি?

Written By:
Subscribe to Boldsky

সাফল্যের চাবিকাঠি কী? এই প্রশ্নের উত্তরে সব সময় একটাই জবাব পাওয়া যায়। তা হল কঠোর পরিশ্রম। কিন্তু আমি বলি পরিশ্রম তো রোবটও করে। তাহলে আমাদের সঙ্গে রোবটের কি কোনও পার্থক্য নেই?

অবশ্যই আছে। আর সেই পার্থক্যটা হল আমারা ভাবতে পারি, রোবট পারে না। মানব মস্তিষ্ক হল সেই অত্যাধুনিক মেশিন, যা নানা ধরনের ইনফরমেশন স্টোর করে রেখে সেই মতো পরিশ্রম করে থাকে। তাই তো মানুষ রোবট আবিষ্কার করতে পারে। রোবট মানুষকে নয়। সহজ কথায় আমাদের বুদ্ধি, বিবেচনা এবং স্মৃতিশক্তি আছে বলেই না আমরা সফলতার শৃঙ্গ জয় করতে পারি। একবার ভাবুন তো সম্রাট অশোক বা আলেকজান্ডার দা গ্রেটের স্মৃতিশক্তি নামক অস্ত্রটি ছিল বলেই না তারা তাদের ভুলগুলোকে শুধরে নিয়ে এমন মহান যোদ্ধা বা সেনা নায়ক হয়ে উঠতে পেরেছিলেন। তাই সময় থাকতে থাকতে স্মৃতিশক্তিকে আরও জোরদার করার চেষ্টা করুন। দেখবেন সাফল্য তো আসবেই। সেই সঙ্গে বুড়ো বয়সে গিয়ে অ্যালঝাইমারের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পাবে। প্রসঙ্গত, পরিসংখ্যান বলছে গত কয়েক দশকে আমাদের দেশে অ্যালঝাইমার বা ডিমেনশিয়ার মতো রোগের প্রকোপ চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পয়েছে। শুধু তাই নয়, অ্যালঝাইমারস অ্যান্ড রিলেটেড ডিসঅর্ডার সোসাইটি অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুসারে ২০২৬ সালের মধ্যে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যাটা আরও কয়েক গুণ বাড়বে। তাই তো সময় থাকতে থাকতে সাবধান হওয়ার সময় এসে গেছে বন্ধুরা। কোনওভাবেই যাতে স্মৃতিশক্তির উপর খারাপ প্রভাব না পরে সেদিকে খেয়াল না রাখলে য়ে বিপদ!

কিন্তু প্রশ্ন হল আর এই কাজটি করবেন কিভাবে? এক্ষেত্রে আপনার ডায়াট ভীষণ ভাবে সাহায্য করতে পারে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত কতগুলি খাবার নিয়ম করে খেলে ব্রেন পাওয়ার এতটা বৃদ্ধি পায় যে বুড়ো বয়সে গিয়ে স্মৃতিলোপের মতো কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখিন হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। প্রসঙ্গত, অ্যালঝাইমার রোগকে প্রতিরোধ করতে সাধারণত যে যে খাবারগুলি দারুনভাবে সাহায্য করে থাকে, সেগুলি হল...

১. হলুদ:

১. হলুদ:

এতে রয়েছে কার্কিউমিন নামে একটি উপাদান, যা স্মতিশক্তিকে বাঁচাতে ঢাল হিসেবে কাজ করে থাকে। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিউরনদের ক্ষমতা বাড়িয়ে সার্বিকভাবে মস্তিষ্ক নামক দুর্গের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে মজবুত করতে হলুদের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। প্রসঙ্গত, প্রায় সব বাঙালি পদেই হলুদের একটা অলাদা জায়গা রয়েছে। তাই খাবারের মাধ্যমে প্রতিদিনই কিছু পরিমাণে হলুদ আমাদের শরীরে প্রবেশ করে থাকে। সেই সঙ্গে হলদু মিশ্রিত দুধও যদি খাওয়া যায়, তাহলে দারুন উপকার মেলে।

২. সবুজ শাক-সবজি:

২. সবুজ শাক-সবজি:

এদের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফলেট এবং বি৯, যা ব্রেনের কগনিটিভ ফাংশন বাড়াতে দারুন ভূমিকা নেয়। আর একবার কগনিটিভ ফাংশনের উন্নতি ঘটা মানে স্বাভাবিকভাবেই স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটা। প্রসঙ্গত, শরীরে ফলেটের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে মস্তিষ্কের অন্দরে ফিল গুড হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে ডিপ্রেশন এবং স্ট্রেসের মাত্রাও কমতে শুরু করে।

৩. ক্রসিফেরাস ভেজিটেবল:

৩. ক্রসিফেরাস ভেজিটেবল:

ব্রকলি এবং ফুলকপি হল ক্রসিফেরাস সব্জি পরিবারের সবথেকে জনপ্রিয় সদস্য। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে রোজের ডায়েটে এই দুটি সবজির মধ্যে কোনওটা থাকলে শরীরে ফোলেট এবং ক্যারোটিনয়েডের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে মস্তিষ্কের বিশেষ কিছু অংশ এতটাই অ্যাকটিভ হয়ে যায় যে বুদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তির মারাত্মক উন্নতি ঘটে।

৪. হোল গ্রেন:

৪. হোল গ্রেন:

আজ থেকেই সাদা ভাত ছেড়ে ব্রাউন রাইস খাওয়া শুরু করুন। সেই সঙ্গে রোজের ডায়েটে রাখুন ওটস, বার্লি এবং হোল গ্রেন পাঁউরুটিকে। এই খাবরগুলি নিয়মিত খেলে বুদ্ধির ধার তো বাড়বেই। সেই সঙ্গে স্মৃতিশক্তিরও উন্নতি ঘটবে।

৫. জাম:

৫. জাম:

এই ফলটির অন্দরে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিন নামে একটি উপাদান, যা মস্তিষ্কের ক্ষয়-ক্ষতি রোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে আমাদের শরীরের ভিতরে উপস্থিত একাদিক ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান প্রতিনিয়ত ব্রেনের ক্ষতি করার চেষ্টা করে চলে। অ্যান্থোয়ায়ানিন এই কাজেই বাঁধা দান করে। ফলে ব্রেন পাওয়ার কমে যাওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, আরও একভাবে এই ফলটি মস্তিষ্কের খেয়াল রেখে থাকে। জামে অ্যান্থোসায়ানিন ছাড়াও রয়েছে ভিটামিন সি, ই এবং প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলি মস্তিষ্কের, বিশেষত স্মৃতিশক্তির ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৬. ওমাগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড:

৬. ওমাগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড:

একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে এই উপাদানটি স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এবং অ্যালঝাইমারের মতো রোগকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন পর্যন্ত মস্তিষ্ককে চুরান্তভাবে কর্মক্ষম রাখতেও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই কারণেই তো বেশি করে মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। আসলে মাছের শরীরে এই উপাদানটি এত পরিমাণে থাকে যে দেহে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি মিটে যায়। প্রসঙ্গত, মাছ ছাড়াও বাদাম এবং অলিভ অয়েলেও এই উপাদানটির সন্ধান পাওয়া যায়।

৭. সূর্ষমুখী বীজ:

৭. সূর্ষমুখী বীজ:

এতে রয়েছে জিঙ্ক, কোলিন এবং প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন ই। এই উপাদানগুলি শুধু স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটায় না, সেই সঙ্গে সার্বিকভাবে ব্রেন পাওয়ার বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।

বুড়ো বয়সে গিয়ে স্মৃতিলোপের যন্ত্রণা না পেতে চাইলে এখন থেকেই এই প্রবন্ধে আলোচিত প্রকৃতিক উপাদানগুলির সঙ্গে বন্দুত্ব পাতিয়ে নিন। দেখবেন উপকার মিলবে।

Read more about: রোগ, শরীর
English summary
Alzheimer’s and dementia are some of the scariest and most emotionally-triggering degenerative diseases. But they are easier to prevent than previously thought.If you have a family history of one of these diseases or are worried about what they may do to you as you age, one of the first things you can do is modify your diet.
Story first published: Thursday, September 21, 2017, 13:16 [IST]
Please Wait while comments are loading...