বেশি চর্বিযুক্ত মাছ খাওয়া কি আদৌ স্বাস্থ্যকর?

Posted By:
Subscribe to Boldsky

বাঙালি মানেই গরম গরম ফুলকো লুচি, বাঙালি মানেই কোচি পাঁঠার ঝোল আর ধোঁয়া ওঠা সরু চালের ভাত। আর বাঙালি মানে অবশ্যই তেলে-ঝোলে মাছের ঝোল! সত্যই যারা বাঙালি হয়ে জন্মাইনি, তারা যে এ জীবনে কী কী মিস করলো, তা তারা নিজেরাও জানেন না। কিন্তু একটা প্রশ্ন বাঙালি হয়েও বারে বারে উঠছে কেন মনে, কে জানে?

কী প্রশ্ন মশাই? আরে এই সেদিন একটা জার্নাল পড়ছিলাম, তাতে হঠাৎ চোখে পরল, একটা লাইন। প্রশ্ন করা হয়েছে বেশি তেল যুক্ত মাছ খাওয়া কি আদৌ স্বাস্থ্যকর? লাইনটা পড়ার পর পরই মনটা কেমন দুলে উঠল, সেই সঙ্গে প্রশ্নটা বেজায় খচখচ করছিল মনে। তাই তো সঠিক উত্তর জানতে সন্ধান শুরু করলাম। এমনটা করতে গিয়ে যা জানতে পারলাম, তা বেজায় চমকপ্রদ।

মাছের উপর করা প্রায় প্রতিটি গবেষণাতেই দেখা গেছে শরীর এবং মস্তিষ্ককে সার্বিকবাবে সুস্থ রাখতে মাছের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞানীরা আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে গিয়ে এও প্রমাণ করেছেন যে বেশি তেল যুক্ত মাছ খেলে শরীরের আরও উপকার হয়, বিশেষত শীতকালে যদি এমন ধরনের মাছ খাওয়া যায়, তাহলে নাকি ত্বকের নানাবিধ উপকার হয়। সেই কারণেই তো শীতপ্রধান দেশে বেশি মাত্রায় সামদ্রিক মাছ খাওয়ার চল রয়েছে।

কিন্তু কী কারণে মাছের এত কদর বলতে পারেন? আসলে মাছের অন্দরে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন এবং আরও সব পুষ্টিকর উপাদান একদিকে যেমন ব্রেন ফাংশনের উন্নতি ঘটায়, তেমনি অন্যদিকে চোখ এবং লিভার সহ শরীরের প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে এখানেই শেষ নয়, অতিরিক্ত তেল যুক্ত মাছ খাওয়া অভ্যাস করলে আরও অনেক উপকার পাওয়া যায়। যেমন...

১. ত্বকের সুন্দর্য বৃদ্ধি পায়:

১. ত্বকের সুন্দর্য বৃদ্ধি পায়:

শীতকালে এমনিতেই আদ্রতা কমে যাওয়ার কারণে ত্বকের জেল্লা হারাতে শুরু করে। সেই সঙ্গে পরিবেশ দূষণের মারে মারাত্মক ক্ষতি হয় স্কিনের। এমন পরিস্থিতিতে ত্বকের হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য ফিরিয়ে দিতে পারে একমাত্র মাছ। কারণ এর শরীরের অন্দরে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড, এসেনশিয়াল অয়েল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের কোনও ধরনের ক্ষতি হতে দেয় না। সেই সঙ্গে স্কিনের অন্দরে থাকা টক্সিক উপাদানদের বের করে দিয়ে সার্বিকভাবে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই এই শীতে ত্বকের লাবণ্য বজায় রাখতে চান, তাহলে ভুলেও মাছ খাওয়া ছাড়বেন না যেন!

২. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

২. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

আমেরিকান জার্নাল অব কার্ডিওলজিতে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে শরীরে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে শুরু করলে একিদেক যেমন খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে, তেমনি হার্টের অন্দরে কোনও ধরনের ইনফ্লেমেশন বা প্রদাহ হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। ফলে হার্ট অ্যাটাক সহ নানাবিধ হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে। প্রসঙ্গত, বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত তেলযুক্ত মাছ খেলে রক্তচাপও কমতে শুরু করে। ফলে হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে থাকে না।

৪. ব্রেন পাওয়ার বাড়ে:

৪. ব্রেন পাওয়ার বাড়ে:

বাঙালি মানেই ইন্টেলেকচুয়াল এবং অবশ্যই বুদ্ধিমান! আর এমনটা হওয়ার পিছনে কে দায়ি জানেন? কে আবার মাছ! একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে মাছের অন্দরে থাকা একাধিক উপাকারি উপাদান ব্রেনের বয়স বাড়তে দেয় না। সেই সঙ্গে কগনিটিভ ফাংশন এতটা মাত্রায় বাড়িয়ে দেয় যে স্মৃতিশক্তি সহ বুদ্ধির জোরও বাড়তে শুরু করে। প্রসঙ্গত, অ্যালঝাইমারস এবং ডিমেনশিয়ার মতো ব্রেন ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমাতেও মাছেরা বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো বয়স্ক মানুষদের বেশি করে মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

৫.দৃষ্টিশক্তি বাড়তে থাকে:

৫.দৃষ্টিশক্তি বাড়তে থাকে:

আমার মতো আপনিও নিশ্চয় সেই ছোট বেলা থেকে শুনে আসছেন যে মাছ খেলে চোখের ক্ষমতা বাড়ে? এই কথাটা যে বেজায় নির্ভুল, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আসলে মাছের শরীরে উপস্থিত ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড দেহের অন্দরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে ধীরে ধীরে চোখের ক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। তাই তো এই রবিবার বাজার করতে গেলে ব্যাগ ভর্তি করে রুই-কাতলা কিনতে ভুলবেন না যেন! ইচ্ছা হলে ভোলা বা ভেটকির মতো মাছও কিনতে পারেন। কারণ এদের শরীরেও প্রচুর পরিমাণে তেল থাকে।

৫. হাড় শক্তপোক্ত হয়:

৫. হাড় শক্তপোক্ত হয়:

বুড়ো বয়সে জয়েন্ট পেনের কারণে শয্যাশায়ী হতে না চাইলে নিয়মিত মাছ খাওয়া শুরু করুন। কারণ মাছের শরীরে প্রচুর পরিমাণে থাকে ভিটামিন ডি। এই ভিটামিনটি হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি করার পাশাপাশি একাধিক বোন ডিজিজকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

বেশি তেলষুক্ত মাছ শরীরের জন্য ভাল না খারাপ? আশা করি এই উত্তর পয়ে গেছেন এখন।

Read more about: রোগ, শরীর
English summary
Fish is loaded with protein and essential Omega-3 fatty acids. The fishy nutrition it provides ensures a slim waistline besides heart health, brain health, eye-health, apt liver function and a surfeit of other benefits. This lean meat especially fatty fish can be relished twice a week to leverage the nutrition it entails. Let us give you 5 reasons to include this Super-Seafood in your weekly menu and stay healthy while eating yum!
Story first published: Wednesday, November 22, 2017, 12:29 [IST]
Please Wait while comments are loading...