একটা মাছিও যেন আপনার ধারে কাছে ঘেঁষতে না পারে! না হলে কিন্তু...!

ভন ভন করে ঘুরতে থাকা বেজায় স্থুলকায় মাছিরা কখনও গায়ে তো কখনও মাথায়, তো কখনও আবার খাবারে এসে বিশ্রাম করার ফন্দি আঁটে। আর এমনটা করলে আপনার কতটা ক্ষতি হয় জানা আছে?

By Nayan

ভন ভন করে ঘুরতে থাকা বেজায় স্থুলকায় মাছিরা কখনও গায়ে তো কখনও মাথায়, তো কখনও আবার খাবারে এসে বিশ্রাম করার ফন্দি আঁটে। আর এমনটা করলে আপনার কতটা ক্ষতি হয় জানা আছে?

মানে, আপনি বলছেন মাছির সংস্পর্শে এলেই বিপদ? একেবারেই মশাই! সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে খাবার বা শরীরে এসে বসার পর সেখানে এত মাত্রায় জীবাণু ছড়িয়ে দেয় তারা যে সেই জীবাণু থেকে যে কোনও সময় জটিল কোনও রোগ হওয়ার আশঙ্কা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়। শুধু তাই নয় কোনও কোনও ক্ষেত্রে সেই সব সংক্রমণ থেকে জীবনহানীর আশঙ্কাও থাকে। তাই সাবধান হওয়ার সময় এসে গেছে বন্ধুরা। এখনই যদি আমাদের আশপাশে ঘুরতে থাকা মাছিদের মেরে ফেলা না যায়, তাহলে কিন্তু বেজায় বিপদ!

প্রসঙ্গত, জার্নাল সাইন্টেফিক রিপোর্টে প্রকাশিত এই স্টাডিতে আরেকটি বিষয়ের উল্লেখ পাওয়া যায়। কী সেই বিষয়? পরীক্ষাটি চলাকালীন গবেষকরা লক্ষ করেছিলেন নানা প্রজাতীর মাছিরা ১০০ বেশি ব্যাকটেরিয়া বহন করে থাকে। আর যেখানে যেখানে তারা আসন গ্রহণ করে সেখানে সেখানে সেই ক্ষতিকর-ভয়ঙ্কর ব্যাকটেরিয়াদের ছড়িয়ে দেয়। তাই তো মাছি বসা খাবার কখনও খাওয়া উচিত নয়। এমনটা করলে স্টমাক ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

এখন প্রশ্ন হল, আমারা তো আর মাছিদের ডাকি না। তারা হঠাৎ করেই আমাদের শরীরে-খাবারে এসে বসে। এবার থেকে এমনটা হলেই কি শরীর খারাপ হওয়া নিশ্চিত? না এমনটা মোটেও নয়। তবে যদি একান্ত স্টমাক ইনফেকশন হয়েও যায়, তাহলেও ভয় পাবেন না। কারণ আপনাদের প্রিয় বন্ধু, বোল্ডস্কাই বাংলার আজকের এই প্রতিবেদনে এমন কিছু ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা পেটের যে কোনও ধরনের সমস্যাকে নিমেষে ভ্যানিশ করে দিতে পারে। তাই মাছিকে ভয় নয়, বরং বুক ফুলিয়ে সামনি সামনি হওয়ার জন্য রেডি হয়ে যান।

পেটের সংক্রমণের চিকিৎসায় যে যে ঘরোয়া পদ্ধতিগুলি বিশেষ ভূমনিকা পালন করে থাকে, সেগুলি হল...

১. আদা:

১. আদা:

প্রকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানে ভরপুর এই প্রকৃতিক উপাদানটি গ্রহণ করা মাত্র আমাদের শরীরে অন্দরে হতে থাকা প্রদাহ কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে দেহের অন্দরে বাসা গেঁড়ে থাকা ব্যাকটেরিয়া এবং জীবাণুদের মারতে থাকে। ফলে কষ্ট এবং রোগের প্রকোপ, দুইই কমতে থাকে। এক্ষেত্রে দেড় কাপ জল নিয়ে থাকে এক চামচ আদা ফেলে জলটা প্রথমে ফুটিয়ে নিতে হবে। তারপর সারা দিন ধরে বারে বারে সেই জল পান করলে দেখবেন পেটের সংক্রমণ সেরে যেতে একেবারেই সময় লাগবে না।

২. পিপারমেন্ট পাতা:

২. পিপারমেন্ট পাতা:

স্টামাক ইনফেকশনের চিকিৎসায় এই হার্বটিও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর কেন করবে নাই বা বলুন‍! পিপারমেন্ট পাতার অন্দরে থাকা অ্যান্টিসেপটিক প্রপাটিজ শরীরে দাপিয়ে বেরানো জীবাণুদের নিকেশ করতে সময় নেয় না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই পেটের রোগ সম্পর্কিত কষ্ট কমতে সময় নেয় না। সেই সঙ্গে গ্যাস-অম্বল এবং তলপেটে যন্ত্রণা হওয়ার মতো সমস্যাও কমতে শুরু করে। এখন প্রশ্ন হল পিপারমেন্ট পাতাকে কিভাবে ব্যবহার করবেন? খুব সহজ উপায় আছে একটা। প্রথমে এক কাপ জল নিয়ে ফুটিয়ে নিন। যখন দেখবেন জলটা ফুটতে শুরু করেছে, তখন তাতে এক চামচ ড্রাই পিপারমেন্ট পাতা ফলে দিন। ১০ মিনিট পর জলটা ছেকে নিয়ে পান করুন। এমনটা কয়েকবার করলেই দেখবেন কষ্ট কমে যাবে।

৩. দরচিনি:

৩. দরচিনি:

শুধু পেটের সংক্রমণ নয়, যে কোনও ধরনের পেটের রোগের প্রকোপ কমাতেই দারচিনির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই এবার থেকে এমন ধরনের কোনও সমস্যা হলে সময় নষ্ট না করে এক কাপ গরম জলে ১ চামচ দরচিনি পাউডার মিশিয়ে ঝটপট পান করে ফলবেন। দিনে বার তিনেক এই পানীয়টি গ্রহণ করলে দেখবেন একেবারে চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন।

৪. ক্যামোমাইল:

৪. ক্যামোমাইল:

অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানে ভরপুর এই গুল্মটিকে ঠিক মতো যদি ব্যবহার করা যায়, তাহলে পেটের সংক্রমণ সারতে একেবারেই সময় লাগে না। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো ক্যামোমাইল পাতা নিয়ে তা এক কাপ গরম জলে ফেলে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিন। তারপর সেই পানীয় পান করুন। তাহলেই কেল্লাফতে!

৫. অ্যাপেল সিডার ভিনিগার:

৫. অ্যাপেল সিডার ভিনিগার:

দেহের অন্দরে বাসা বেঁধে থাকা যে যে ভাইরাসের কারণে মূলত স্টমাক ইনফেকশন হয়ে থাকে, সেই জাবীণুদের মেরে ফেলতে একেবারেই সময় নেয় না অ্যাপেল সিডার ভিনিগার। তাই তো এক গ্লাস গরম জলে এক চামচ এই উপাদানটি মিশিয়ে যদি পান করতে পারেন, তাহেল শুধু মাছিঘটিত সংক্রমণই নয়, কোনও ধরনের ইনফেকশনই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

৬. লেবু:

৬. লেবু:

মূলত যে যে প্যাথোজেনের কারণে পেটের রোগ, গ্যাস-অম্বল এবং বদহজম হয়ে থাকে, সেই সব ক্ষতিকারক উপাদানটির মেরে ফলতে একেবারেই সময় নেয় না লেবু। সেই সঙ্গে সাইট্রাস ফলটির অন্দরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য উপকারি উপাদান শরীরকে ভিতর থেকে এতটা শক্তিশালী করে তোলে যে কোনও ধরনের রোগ ভোগের আশঙ্কা একেবাকরে কমে যায়।

৭. দই:

৭. দই:

আমাদের স্টামাকে বেশ কিছু উপকারি ব্যাকটেরিয়া থাকে, যারা খারাপ ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে আমাদের বাঁচিয়ে থাকে। ফলে শরীরে উপকারি ব্যাকটেরিয়া পরিমাণ যত বাড়তে থাকে, তত স্টামাক ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। আর এই কারণেই তো প্রতিদিন দই খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। আসলে দইয়ের অন্দের উপকারি ব্যাকটেরিয়া ঠেসে ঠসে মজুত থাকে। এই কারণেই তো প্রতিদিন এক বাটি করে দই খেলে পেটে নিয়ে আর কোনও চিন্তা থাকে না।

৮. রসুন:

৮. রসুন:

সবদিক থেকে শরীরকে সুস্থ রাখতে রসুনের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এই প্রকৃতিক উপাদানটি হার্ট এবং কিডনিকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি বাওয়েল মুভমেন্টের উন্নতিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই প্রতিদিন সকালে এক কোয়া করে রসুন খেলে শরীর বাবাজিকে নিয়ে আর কোনও চিন্তাই থাকে না।

Story first published: Tuesday, November 28, 2017, 10:35 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion