প্রতিদিন ডাল খাওয়া জরুরি কেন জানেন?

Subscribe to Boldsky

নতুন বছরে ওজন কমাতে বদ্ধপরিকর? তাহলে বন্ধু রোজের ডায়েটে ডাল থাকা মাস্ট! কেন এমন কথা বলছি তাই ভাবছেন তো?

সম্প্রতি "জার্নাল সেল হোস্ট অ্যান্ড মাইক্রোব" পত্রিকায় একটি গবেষণা পত্র প্রকাশিত হয়েছে। তাতে গবেষকরা দাবি করেছেন সার্বিকভাবে সুস্থ থাকতে এবং দ্রুত ওজন কমাতে নিয়মিত ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি। আর ডালের মতো ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার আর আছে বলে তো মনে হয় না। আসলে ফাইবার আমাদের শরীরে উপস্থিত উপকারি ব্যাকটেরিয়াদের আরও বেশি মাত্রায় শক্তিশালী করে তোলে। ফলে একদিকে যেমন হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে, তেমনি ওজন কমার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। ফলে অতিরিক্তি মেদ ঝরে যেতে সময় লাগে না। তাই তো যারা অতিরিক্ত ওজনের কারণে চিন্তায় রয়েছেন, তারা প্রতিদিনের ডায়েটে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, যেমন ব্রকলি, ডাল, ওটস, আপেল, শণ বীজ প্রভৃতি রাখতে ভুলবেন না যেন!

প্রসঙ্গত, শরীরে ফাইবারের ঘাটতি দূর হলে শরীর ভিতর থেকে এতটাই কর্মক্ষম হয়ে ওঠে যে একাধিক রোগ দূরে থাকতে বাধ্য হয়। শুধু তাই নয়, মেলে আরও অনেক উপকারিতাও। যেমন ধরুন...

১.ওজন বাড়ার আশঙ্কা কমায়:

১.ওজন বাড়ার আশঙ্কা কমায়:

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস করলে যে কেবল মাত্র ওজন কমে এমন নয়, স্বাস্থ্যকর ওজন ধরে রাখতেও এই জাতীয় খাবারগুলি নানাভাবে সাহায্য করে থাকে। তাই শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি নিজের বি এম আই-কে যদি বিপদ সীমার নিচে সব সময় রাখতে চান, তাহলে ফাইবার রিচ ফুড খেতে ভুলবেন না যেন!

২. টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে:

২. টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত যাদের শরীরে ২৬ গ্রামের মতো ফাইবার প্রবেশ করে, তাদের ডায়াবেটিসের মতো মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ১৮ শতাংশ কমে যায়। আসলে ফাইবার, শরীরের অন্দরে প্রবেশ করার পর ইনসুলিনের কর্মক্ষমতাকে এতটা বাড়িয়ে দেয় যে রক্তে সুগারের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না। তাই যাদের পরিবারে এমন রোগের ইতিহাস রয়েছে, তারা চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া শুরু করতে পারেন। এমনটা করলে যে উপকার মিলবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

৩. হার্ট ডিজিজ দূরে থাকে:

৩. হার্ট ডিজিজ দূরে থাকে:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি সাত গ্রাম ফাইবার, হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৯ শতাংশ হারে কমিয়ে দেয়। তাই যত বেশি মাত্রায় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাবেন, তত হার্টের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। আসলে ফাইবার রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কমিয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে কমে যায়।

৪. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়:

৪. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়:

যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে বেশি মাত্রায় শরীরে ফাইবার প্রবেশ করতে থাকলে দেহের অন্দরে থাকা উপকারি ব্যাকটেরিয়াদের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হজম ক্ষমতার যেমন উন্নতি ঘটে, তেমনি মেটাবলিজম রেটও বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে কনস্টিপেশনের মতো রোগের প্রকোপও হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি একদল ইটালিয়ান গবেষক এই বিষয়ে একটি গবেষণা চালিয়েছিলেন, তাতে দেখা গেছে শরীরে ফাইবারের মাত্রা বাড়তে থাকলে শর্ট-চেন ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রাও বাড়তে শুরু করে। ফলে সার্বিকভাবে শরীরে কর্মক্ষমতা চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পায়।

৫.ক্যান্সার রোগ দূরে থাকতে বাধ্য হয়:

৫.ক্যান্সার রোগ দূরে থাকতে বাধ্য হয়:

একাধিক গবেষাণায় একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে প্রতি ১০ গ্রাম ফাইবারের কারণে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ১০ শতাংশ করে কমে যেতে শুরু করে। তাই দিনে যত বেশি মাত্রায় ফাইবারের প্রবেশ ঘটাবেন শরীরে, তত ক্যান্সার রোগ দূরে থাকতে বাধ্য হবে। প্রসঙ্গত, অ্যানেলস অব অঙ্কোলজি পত্রিকায় প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্র অনুসারে ব্রেস্ট এবং কলোরেকটাল ক্যান্সারের প্রকোপ কমাতে ফাইবার বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৬. আয়ু বৃদ্ধি পায়:

৬. আয়ু বৃদ্ধি পায়:

হাওয়ার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর গবেষকদের করা এক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া শুরু করলে হঠাৎ করে মৃত্যুর আশঙ্কা প্রায় ১৯ শতাংশ কমে যায়। তাই সুস্থভাবে যদি দীর্ঘদিন বাঁচতে চান, তাহলে ভুলেও ফাইবারকে রোজের ডায়েট থেকে বাদ দেওয়ার ভুল কাজটি করবেন না যেন!

৭. শরীরকে বিষমুক্ত করে:

৭. শরীরকে বিষমুক্ত করে:

খাবার এবং আরও নানাভাবে সারা দিন ধরে আমাদের শরীরে প্রবেশ করা টক্সিক উপাদানদের যদি ঠিক সময়ে বের করে দেওয়া না যায়, তাহলে কিন্তু বেজায় বিপদ। কারণ সেক্ষেত্রে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই তো এইসব বিষাক্ত উপাদানদের শরীর থেকে বের করে দিতে নিয়মিত ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরায়। আসলে ফাইবার শরীরে প্রবেশ করার পর এই সব টক্সিক উপাদানদের এক মুহূর্তও শরীরের অন্দরে থাকতে দেয় না। ফলে কোনও ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: রোগ শরীর
    English summary

    নতুন বছরে ওজন কমাতে বদ্ধপরিকর? তাহলে বন্ধু রোজের ডায়েটে ডাল থাকা মাস্ট! কেন এমন কথা বলছি তাই ভাবছেন তো?

    If you have been struggling to lose weight for quite some time, you may want to pay attention to your diet more than anything else. According to the research published in the Journal Cell Host and Microbe, you should be paying more attention to the diet of your gut bacteria, as the scientists suggests that a fibre rich diet can influence weight gain, blood sugar levels and colon health. It is not just the calories that matter in a healthy diet, but the fibre that resists digestion by the body, however, is readily eaten by bacteria in the gut.
    Story first published: Wednesday, December 27, 2017, 11:02 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more