নিয়মিত এক গ্লাস জলে এক চামচ মেথি বীজ ফেলে খাওয়া উচিত কেন জানা আছে?

মেথি বীজের অন্দরে রয়েছে নানাবিধ ভিটামিন, সেই সঙ্গে উপস্থিত রয়েছে কপার, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক এবং ম্যাগনেসিয়াম, যা শরীরের নানা উপকারে লাগে। যেমন ধরুন...

আয়ুর্বেদ নামক "গোল্ড মাইন" এর এক অমূল্য সম্পদ হল মেথি। কেন এমন কথা বলছি তাই ভাবছেন নিশ্চয়? আসলে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের উপর লেখা একাধিক বইয়ে এমনটা দাবি করা হয়েছে যে নিয়মিত এক গ্লাস জলে পরিমাণ মতো মেথি বীজ ফেলে যদি খাওয়া শুরু করা যায়, তাহলে মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অংশের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। আর এমনটা যখন হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই আয়ু বৃদ্ধি পায়চোখে পরার মতো।

আসলে মেথি বীজের অন্দরে রয়েছে নানাবিধ ভিটামিন, সেই সঙ্গে উপস্থিত রয়েছে কপার, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক এবং ম্যাগনেসিয়াম, যা শরীরের নানা উপকারে লাগে। যেমন ধরুন...

১. ত্বকের বয়স করে:

১. ত্বকের বয়স করে:

১ চামচ মেথি বীজ, পরিমাণ জলে সারা রাত ভিজিয়ে রাখার পর বীজটা সংগ্রহ করে টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই পেস্টটা ভাল করে মুখে লাগিয়ে কম করে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার পর মুখটা ধুয়ে ফলতে হবে। এইভাবে সপ্তাহে ২-৩ দিন ত্বকের পরিচর্যা করলে স্কিনের অন্দরে বাড়াতে শুরু করবে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা, যার প্রভাবে বলিরেখা তো সব গয়েব হয়ে যাবেই, সেই সঙ্গে ত্বকের বয়স কমবে চোখে পরার মতো।

২. লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়বে:

২. লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়বে:

সপ্তাহে ৩-৪ দিন মদ্যপান করার অভ্যাস রয়েছে নাকি? তাহলে কিন্তু নিয়মিত মেথি বীজ খেতে ভুলবেন না যেন! কারণ এমনটা করলে শরীরে পলিফেনোলিক কম্পাউন্ডের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে, যে কারণে লিভারের কর্মক্ষমতা এতটা বৃদ্ধি পাবে যে মদ্যপানের কারণে লিভারের কোনও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যাবে কমে।

৩. ওজন কমে:

৩. ওজন কমে:

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে, জলে ভেজানো মেথি বীজ খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীরে ফাইবারের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষিদে কমে যায়। এমনটা হওয়ার কারণে খাওয়ার পরিমাণেও লাগাম পরে। ফলে ওজন কমতে শুরু করে।

৪. হেয়ার ফলের মাত্রা কমে:

৪. হেয়ার ফলের মাত্রা কমে:

চুলের গোড়াকে শক্তপোক্ত করার মধ্যে দিয়ে হেয়ার ফল কমাতে মেথি বীজ ব্যাপকভাবে সাহায্য করে থাকে। এক্ষেত্রে ১ চামচ মেথি বীজ নিয়ে তার সঙ্গে ১ কাপ নারকেল তেল মিশিয়ে একটা মিশ্রন বানিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রনটি কম করে ৩ সপ্তাহ রেখে দেওয়ার পর তেলটা ছেঁকে নিতে হবে। এবার সেই তেলটা নিয়মিত স্কাল্পে লাগিয়ে মাসাজ করলেই দেখবেন কেল্লাফতে!

৫. যন্ত্রণা কমাতে মক্ষম দাওয়াই:

৫. যন্ত্রণা কমাতে মক্ষম দাওয়াই:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে মেথি বীজে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের অন্দরে প্রদাহের মাত্রা কমায়। ফলে যে কোনও ধরনের যন্ত্রণা কমতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণা কমাতেও এই প্রকৃতিক উপাদানটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

৬. জ্বরের চিকিৎসায় কাজে আসে:

৬. জ্বরের চিকিৎসায় কাজে আসে:

জ্বরের এমন ঠেলা যে বিছানা ছাড়তে পারছেন না? তাহলে এক গ্লাস করে মেথি বীজের জল পান করা শুরু করুন, দেখবেন দারুন উপকার মিলবে। আসলে কী জানেন, মেথিতে থাকা বেশি কিছু উপকারি উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এতটাই শক্তিশালী করে তোলে যে জ্বরের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, সর্দি-কাশি সারাতেও এই ঘরোয়া চিকিৎসাটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

৭. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

৭. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

বাঙালি মানেই অল্প-বিস্তর পেট রোগা! আর কেনই বা এমনটা হবে না বলুন, সারা বিশ্বে ভজনরসিক জাতিদের মধ্যে অন্যতম হলাম আমরা। তাই গ্যাস-অম্বল রোজের বন্ধু হবে, এ আর নতুন কথা কী! কিন্তু একটা সহজ উপায়ে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটাতে পারেন কিন্তু। কিভাবে? বেশ কিছু কেস স্টাডি করে দেখা গেছে নিয়মিত নানাভাবে মেথি বীজ গ্রহন করলে বাওয়েল মুভমেন্টে উন্নতি ঘটে। ফলে পেট সংক্রান্ত আর কোনও সমস্যাই থাকে না। আসলে মেথিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, নিয়মিত সকালে খালি পেটে মেথি ভেজানো জল খেলে কনস্টিপেশনের সমস্যাও অনেকাংশে দূর হয়।

৮. হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে:

৮. হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে:

গ্লেকটোম্যানান নাম একটি উপাদানের খোঁজ পাওয়া যায় মেথির শরীরে। এই উপাদানটি হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে এই প্রকৃতিক উপদানটায় উপস্থিত পটাশিয়াম, রক্তে নুনের পরিমাণ কমায়। ফলে ব্লাড প্রসোর নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে হার্ট অ্যাটাক এবং অন্যান্য হার্টের রোগ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারে শূন্যে এসে দাঁড়ায়।

৯. কিডনি ফাংশানের উন্নতি ঘটে:

৯. কিডনি ফাংশানের উন্নতি ঘটে:

বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে নিয়মিত মেথি বীজ খাওয়া শুরু করলে দেহের অন্দরে পলিফেনলিক ফ্ল্যাভোনয়েডের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। এই উপাদানটি কিডনি ফাংশানের উন্নতি ঘটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সেই সঙ্গে কিডনি সেলের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে।

১০. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে:

১০. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে:

কম বয়সেই ব্লাড সুগার কি উর্ধমুখী? তাহলে তো নিয়মিত মেথি ভেজানো জল খাওয়া উচিত। এমনটা করলে শরীরে গ্লেকটোমেনানের পরিমাণ বাড়তে থাকে, যা শর্করার শোষণের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে সুগার লেভেল বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, মেথিতে উপস্থিত অ্যামাইনো অ্যাসিড ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এই কারণেও ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার কোনও সুযোগ থাকে না।

১১. ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ দূরে থাকে:

১১. ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ দূরে থাকে:

রক্তে জমতে থাকা টক্সিক উপাদানের মাত্রা বাড়তে থাকলে শরীরের অন্দরে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। আর এখানেই মেথি বীজের ভূমিকাকে অস্বীকার করা যায় না। এই প্রকৃতিক উপাদানটি রক্তে ভেসে বেরানো টক্সিক উপাদানদের শরীর থেকে বার করে দেয়। ফলে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনাই থাকে না।

১২. শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে:

১২. শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে:

পরিসংখ্যান বলছে গত কয়েক দশকে আমাদের দেশের যুব সমাজের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পয়েছে। আর এমনটা হওয়ার পিছনে হাই কোলেস্টেরলের এবং উচ্চ রক্তচাপের ভূমিকাকে কোনওভাবেই অস্বীকার করা সম্ভব নয়। তাই তো ২০-৫০ বছর বয়সিদের নিয়মিত মেথি জল পান করা উচিত। কারণ এমনটা করলে মেথির শরীরে থাকা স্টেরিওডাল সেপোনিনস নামক একটি উপাদান কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে হার্টের আর্টারি আটকে গিয়ে হঠাৎ করে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা হ্রাস পায়।

Story first published: Friday, September 28, 2018, 17:21 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion