ফলের রাজার কীর্তি!

ফলের রাজার অন্দরে থাকা বেশ কিছু উপকারি উপাদান কোলোন, ব্রেস্ট, লিউকেমিয়া এবং প্রস্টেট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

By Nayan

আম হল এমন একটি ফল যা বাঙালি সুযোগ পেলে সারা বছর ধরে খায়! কিন্তু এমনটা সম্ভব নয়! তবে যদি হত তাহলে বরং ভালই হত। সেক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের কারণে কয়েক জন কম মারা যেত!

মানে! হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে আমের নাম জরাচ্ছেন কেন? কারণ আছে মশাই, তবেই না বলছি। আকারণে ফলের রাজার নাম তুলে পেঁদানি কাওয়ার ইচ্ছা আমার একেবারেই নেই! সম্প্রতি কয়েকজন আমেরিকান গবেষক দল বেঁধে আমের উপর একটি পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। তাতে যা সামনে এসেছে, তা বাস্তবিকই অবাক করার মতো! গবেষণাটি চলাকালীন দেখা গেছে নিয়মিত আম খেলে শরীরে খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা অনেক কমে। প্রসঙ্গত, আমাদের দেশে যেভাবে হার্টের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তাতে এই গবেষণাটি যে অনেকটাই আশার আলো দেখাবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তবে ভাববেন না আম শুধুমাত্র হার্টেরই খেয়াল রাখে। আরও বেশ কিছু গবেষণায় বলছে, ক্যান্সার রোগকে প্রতিরোধ করার পাশাপাশি একাধিক মারণ রোগকে দূরে রাখতে বাস্তবিকই আমের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে!

চিকিৎসকদের মতে আমের শরীরে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং আরও বেশ কিছু কার্যকরি উপাদান শরীরের নানা কাজে লেগে থাকে। যেমন ধরুন...

১. ক্যান্সার রোগকে প্রতিরোধ করে:

১. ক্যান্সার রোগকে প্রতিরোধ করে:

ফলের রাজার অন্দরে থাকা কুয়েরসেটিন, আইসোকুয়েরসেটিন,অ্যাস্ট্রাগেলিন ফিসেটিন, গ্য়ালিক অ্যাসিড, মাথাইল গ্যালেট প্রভৃতি উপাদানগুলি কোলোন, ব্রেস্ট, লিউকেমিয়া এবং প্রস্টেট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২. খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমতে শুরু করে:

২. খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমতে শুরু করে:

যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে আমে উপস্থিত ফাইবার, পেকটিন এবং ভিটামিন সি, কোলেস্টরলের মাত্রা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পলন করে থাকে। সেই সঙ্গে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।

৩. ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়:

৩. ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়:

বেশ কিছু কেস স্টাডিতে দেখা গেছে সপ্তাহে ৩-৪ বার আমের রস দিয়ে যদি ভাল করে ত্বকের মাসাজ করা যায়, তাহলে স্কিনের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি যেমন দূর হয়, তেমনি ত্বকের বন্ধ হয়ে যাওয়া ছিদ্রগুলিও খুলতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়তে শুরু করে।

৪. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়:

৪. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়:

দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করার জন্য বাড়ছে চোখের পাওয়ার? কোনও চিন্তা নেই! আম খাওয়া শুরু করুন, দেখবেন দৃষ্টিশক্তি নিয়ে আরও কোনও চিন্তা থাকবে না। আসলে আমে উপস্থিত ভিটামিন এ, এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫. শরীরে অ্যাসিডের ভারসাম্য বজায় রাখে:

৫. শরীরে অ্যাসিডের ভারসাম্য বজায় রাখে:

আমের মধ্যে থাকা টার্টেরিক, ম্যালিক এবং সাইট্রিক অ্যাসিড শরীরের অন্দরে "অ্যালকালাইন ব্যালেন্স" ঠিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর যেমনটা আপনাদের সকলেরই জানা আছে যে শরীরকে সুস্থ রাখতে অ্যাসিডের ভারসাম্য ঠিক রাখাটা কতটা জরুরি।

৬. হজম ক্ষমতা বাড়ায়:

৬. হজম ক্ষমতা বাড়ায়:

আমের অন্দরে বিশেষ এক ধরনের এনজাইম উপস্থিত রয়েছে, যা খাবার হজম যাতে ঠিক মতো হয়, সেদিকে খেয়াল রাখে। তাই তো এই ফলটি খেলে হজমের সমস্যা মাথা তুলে দাঁড়ানোর সাহসই পায় না। প্রসঙ্গত, চিকিৎসকদের মতে আমের মধ্যে থাকা ফাইবারও এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

Story first published: Friday, September 8, 2017, 15:16 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion