কালি পুজোর সময়কার বায়ু দূষণের হাত থেকে যদি শরীরকে বাঁচাতে হয় তাহলে খেতেই হবে এই খাবারগুলি!

Subscribe to Boldsky

একে তো হাজারো গাড়ির ধোঁয়া। সঙ্গে এবার দোসর হতে চলেছে বাজির ধোঁয়া। তাই কালী পুজো পরবর্তি সময়ে কলকাতা এবং সামগ্রিক রাজ্যের অবস্থা যে বেহাল হতে চলেছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আর এমন দুশ্চিন্তায় শিলমোহর লাগিয়েছে সরকারি নানা সংস্থাও। তাদের মতে গত কয়েক বছরে যে হারে বাজি ফাটার হার বেড়েছে, তাতে বাতাসে পলিউটেন্টের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে চোখে পরার মতো। আর বাকি বছরের মতো এবারও যে তার অন্যতা হবে না, তা তো বলাই বাহুল্য। তাই তো বলি পাঠককুল, কালী পুজো এবং তার পরের কয়েকদিন দূষিত বায়ুর চোটে শরীরটা খারাপ হোক, এমনটা যদি না চান, তাহলে এই প্রবন্ধে চোখ রাখতে ভুলবেন না যেন!

আসলে এই লেখায় এমন কিছু খাবারের প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে, যা আগামী এক সপ্তাহ যদি টানা খাওয়া যায়, তাহলে পরিবেশে দূষিত উপাদানের মাত্রা যতই বাড়ুক না কেন, আপনার শরীরের কোনও ক্ষতিই হবে না। শুধু তাই নয়, এই খাবারগুলির অন্দরে উপস্থিত নানাবিধ উপকারি উপাদানের গুণে একাধিক রোগও দূরে পালাবে। তাই তো বলি বন্ধু এমন বিষাক্ত পরিবেশে যদি সুস্থ থাকতে হয়, তাহলে আগামী কয়েক দিন যে যে খাবারগুলিকে রোজের সঙ্গী বানাতেই হবে, সেগুলি হল...

১. তিসি বীজ:

১. তিসি বীজ:

বায়ু দূষণ এবং অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে কি অ্যালার্জির মতো সমস্যা হয়, তাহলে নিয়মিত তিসি বীজ খেতেই হবে। কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটির অন্দরে উপস্থিত ফাইটোইস্ট্রোজেন, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড এবং নানাবিধ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফুলফুসের ক্ষমতা তো বাড়ায়ই, সেই সঙ্গে শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানদের বের করে দেয়। ফলে হাঁপানি, অ্যালার্জি এবং আরও নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে।

২. হলুদ:

২. হলুদ:

একেবারেই ঠিক শুনেছেন বন্ধু! বায়ু দূষণের হাত থেকে যদি শরীরকে বাঁচাতে হয়, তাহলে প্রতিদিন হুলদ না খেলে চলবে না কিন্তু! আসলে এই মশলাটির অন্দরে উপস্থিত নানাবিধ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে ফুসফুসের ক্ষমতা এতটা বেড়ে যায় যে পরিবেশে উপস্থিত টক্সিক উপাদানেরা শরীরের এবং লাং-এর কোনও ক্ষতিই করে উঠতে পারে না।

৩. গুড় এবং পেঁয়াজের রস:

৩. গুড় এবং পেঁয়াজের রস:

বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে নিয়মিত অল্প পরিমাণে গুড়ের সঙ্গে পিঁয়াজের রস মিশিয়ে খাওয়া শুরু করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে বায়ু দূষণ শরীরকে ছুঁতেও পারে না। তাই তো বলি বন্ধু, এবারের কালী পুজোতে যদি শরীরকে চাঙ্গা রাখতে চান, তাহলে এই ঘরোয়া টোটকাটিকে কাজে লাগাতে ভুলবেন না যেন!

৪. ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার:

৪. ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া শুরু করলে বায়ু দূষণের কারণে টিস্যুর কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নানাবিধ রোগ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা যায় কমে। এই কারণেই তো বাদাম এবং সূর্যমুখি ফুলের বীজ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। কারণ এই দুই প্রকৃতিক উপাদানে প্রচুর মাত্রায় মজুত থাকে ভিটামিন ই। প্রসঙ্গত, আরও যে যে খাবারগুলিতে ভিটামিন ই-এর উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়, সেগুলি হল- সামদ্রিক মাছ, লবঙ্গ, তুলসি পাতা, পালং শাক, পার্সলে শাক প্রভৃতি।

৫. টমাটো:

৫. টমাটো:

বায়ু দূষণের কারণে যে কুয়াশা সৃষ্টি হয়, সেই কারণে মূলত ফুসফুসেরই বেশি ক্ষতি হয়ে থাকে। তাই তো এমন খাবার খাওয়া উচিত, যা লাং-কে বিষাক্ত ধোঁয়ার হাত থেকে বাঁচাতে পারে। আর এক্ষেত্রে টমাটোর ভূমিকাকে অস্বীকার করা কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। কারণ এই সবজিটির অন্দরে মজুত থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং লাইকোপেন নামক এক ধরনের উপকারি উপাদান ফুসফুসের মধ্যে জমে থাকা বিষাক্ত উপাদানদের বের করে দেয়। সেই সঙ্গে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও বিশেষ ভাবে সাহায্য করে। তাই তো যাদের শ্বাস কষ্ট বা অ্যাস্থেমার মতো রেসপিরেটরি প্রবলেম রয়েছে, তারা যদি নিয়মিত টমাটো খেতে পারেন, তাহলে কিন্তু দারুন উপকার পাবেন।

৬. অলিভ অয়েল:

৬. অলিভ অয়েল:

অলিভ অয়েলে উপস্থিত অ্যালফা-টোকোফেরল নামক বিশেষ এক ধরনের ভিটামিন ই, ফুসফুসের অন্দরের প্রদাহ কমানোর মধ্যে দিয়ে লাং-এর কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, বায়ু দূষণ এবং কুয়াশার হাত থেকে হার্টকে বাঁচাতেও এই তেলটি নানাভাবে সাহায্য করে থাকে। তবে আমার বাঙালিরা যে তাপমাত্রায় খাবার রান্না করে থাকি, সেই তাপমাত্রায় অলিভ অয়েলকে ফ্রাই করা সম্ভব নয়। তাই এই তেলটি দিয়ে বাঙালি খাবার বানানো সম্ভব নয়। তাই বাঙালি খাবারের পাশাপাশি অলিভ অয়েল ব্যবহার করে বানানো স্যালাড খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন।

৭. গ্রিন টি:

৭. গ্রিন টি:

শরীরকে রোগ মুক্ত রাখতে এই পানীয়টি যে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, সে বিষয়ে নিশ্চয় সবারই জানা আছে। কিন্তু একথা জানেন কি বায়ু দূষণের প্রকোপ থেকে শরীরকে বাঁচাতেও গ্রিন টি নানাভাবে সাহায্য করে থাকে। আসলে গ্রিন টিতে থাকা নানাবিধ কার্যকরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফুসফুস এবং শরীরের অন্দরে জমতে টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। ফলে বায়ু দূষণের প্রভাবে শরীর খারাপ হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

৮. ব্রকলি:

৮. ব্রকলি:

বায়ু দূষণ এবং কুয়াশার হাত থেকে বাঁচাতে ব্রকলির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে ক্রসিফেরাস পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এই সবজিটির শরীরে থাকা বেশ কিছু উপকারি উপাদান, কুয়াশার অন্দরে লুকিয়ে থাকা ক্ষতিকারক ওজন গ্যাসের প্রভাব থেকে শরীরকে বাঁচাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে বায়ু দূষণের কারণে শরীরে ভিতরে জমতে থাকা টক্সিক উপাদানদের বার করে দিতেও এই সবজিটি বিশেষ ভূমিকা নেয়। প্রসঙ্গত, যদি ব্রকলি খেতে ইচ্ছা না করে, তাহলে ফুলকপি বা বাঁধাকোপিও খেতে পারেন। কারণ ব্রকলির মতো এই দুই সবজিও একই পরিবারের সদস্য।

৯. সাইট্রাস ফল:

৯. সাইট্রাস ফল:

পাতি লেবু, কমলা লেবু, মৌসম্বি লেবু এবং কিউই-এর মতো সাইট্রাস ফলে উপস্থিত ভিটামিন সি কুয়াশার হাত থেকে শরীরকে বাঁচাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই সারা শীতকাল জুড়ে যদি ফিট এবং চাঙ্গা থাকতে চান, তাহলে রোজের ডায়াটে এই ফলগুলির কোনওটিকে অন্তর্ভুক্ত করা মাস্ট!

৪. অ্যাভোকাডো:

৪. অ্যাভোকাডো:

ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের করা এক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত এই ফলটি খাওয়া শুরু করলে শরীরের অন্দরে এমন কিছু উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পায় যে তার প্রভাবে বায়ু দূষণের কোনও প্রভাব শরীরের উপর পরতে পারে না। বিশেষত ফুসফুসের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে। ফলে অ্যাস্থেমার মতো রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: শরীর রোগ
    English summary

    Eat These Foods to Build Resistance Against Effects of Air Pollution During kali puja

    The air we breathe has reached dangerous levels of pollution. People with no known respiratory problems are landing up in hospital emergency rooms. While the government does its bit to improve air quality, we would like to introduce you to some natural antioxidant nutrients that can help your body deal with this onslaught.
    Story first published: Wednesday, November 7, 2018, 13:00 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more